দেশ শিল্পায়নে এগিয়ে চলছে বেশ। শিল্পায়নে কাজ করছে অনেকগুলো সংস্থা। এর একটি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা বিডা। সরকারি সংস্থাটির প্রধান কাজ হলো দেশের বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং বিনিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ করে বিনিয়োগকারীদের সহায়তা করা। এই সংস্থাটি ২০১৬ সালে বিনিয়োগ বোর্ড ও বেসরকারীকরণ কমিশনকে একীভূত করে গঠিত হয়। আছে শতভাগ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ বা বেপজা। যার অধীনে পরিচালিত হয় ১০টি ইপিজিড ও একটি ইজেড। এর বাইরে আছে সরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল, বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) অর্থনৈতিক অঞ্চল, স্পেশাল ট্যুরিজম পার্ক, হাইটেক পার্ক প্রভৃতি। আছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশন বা বিসিক পরিচালিত শিল্পনগরী।
বিসিক বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি খাতের মুখ্য প্রতিষ্ঠান। বিসিক সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকে উন্নয়নমুখী ও জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে থাকে এবং বাংলাদেশকে শিল্পসমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিসিকের সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর ফলে বেসরকারি উদ্যোগে সারা দেশে নতুন নতুন শিল্প গড়ে উঠেছে এবং জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিসিকের অধীনে অন্তত ৮২টি শিল্পনগরী বর্তমানে কাজ করছে। কোনোভাবে বলার সুযোগ নেই নিয়ন্ত্রক সংস্থার সংখ্যা কম কিংবা শিল্পায়নে তেমন কাজ হচ্ছে না। এটি সত্য, সব প্রতিষ্ঠান শিল্প খাতে স্থাপিত উৎপাদন ক্ষমতার সদ্ব্যবহার ও নতুন উৎপাদন ক্ষমতা সৃষ্টির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক উন্নয়নে অর্থ ও মানবসম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতকরণে সক্রিয় রয়েছে। প্রতিটি সংস্থাই শিল্পপ্লটের শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে খালি বা অব্যবহূত প্লট বরাদ্দে এবং রুগ্ণ ও বন্ধ প্লটের বরাদ্দ বাতিল এবং সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তার অনুকূলে প্লট বরাদ্দ দানে কাজ করছে।
এত ভালো খবরের অপর পিঠে হতাশার চিত্রও আছে। কারখানা করে এখন বিপাকে অনেক উদ্যোক্তা। যেমন গতকাল পত্রিকান্তরে প্রকাশিত হয়েছে জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে প্রতিবেদন। তথ্যমতে, ৯ বছর আগে যাত্রা শুরু করলেও জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। একটি প্রতিষ্ঠান কারখানা চালু করলেও অপর্যাপ্ত সুবিধার কারণে নানা সমস্যায় পড়েছে। বিশাল এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের বড় অংশই এখনও ফাঁকা।
উদ্যোক্তারা কারখানার চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। যতটুকু বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, তাও নিরবচ্ছিন্ন নয়। অনেক সময় কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। যেভাবে বিদ্যুৎবিভ্রাট চলছে, তা তাদের কারখানার যন্ত্রপাতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
বিশাল প্রত্যাশা নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও জামালপুরের অর্থনৈতিক অঞ্চল এখনও চালুই হয়নি। বিশাল এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের অধিকাংশ প্লট এখনও খালি পড়ে আছে। হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অবকাঠামো নির্মাণে ব্যস্ত। অর্থনৈতিক অঞ্চলটি পুরোপুরি চালু না হওয়ায় উৎপাদনে যাওয়া একমাত্র প্রতিষ্ঠানটি চরম বিপাকে পড়েছে।
সরকারের উচিত হবে নিরবচ্ছিন্নভাবে শিল্পকারখানায় গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ ও উন্নত যোগাযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
