Print Date & Time : 14 January 2026 Wednesday 4:17 am

শেয়ারশূন্য ৫ ব্যাংকের নিরীক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক : একীভূতকরণের মাধ্যমে গঠিত পাঁচটি ব্যাংকের শেয়ারধারীরা কোন পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপটে শেয়ার কিনেছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা এ কথা জানান।

একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলো হলো-ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড (এসআইবিএল), এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, ওই পাঁচ ব্যাংকের নিরীক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা বিবেচনায় আনা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিনিয়োগের সময়কার তথ্য ও প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করছে।

সাধারণ শেয়ারধারীদের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, শেয়ারধারীদের বিষয়টি জটিল। বললেই তো হবে না, এসব বিষয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা যা বলছি, আমানতকারীরা টাকা পাবেন, এটা খুবই সরল হিসাব। যার টাকা জমা আছে, তিনি টাকা পাবেন। আর শেয়ারধারীরা শেয়ার কিনেছেন কোন পটভূমিতে-বাজার দরে (মার্কেট প্রাইস) কিনেছেন, শেয়ারধারীরা মালিক হতে চেয়েছেন।’

শেয়ারধারীরা বলছেন যে তারা আর্থিক প্রতিবেদন দেখে শেয়ার কিনেছেন এবং ৫ আগস্টের (২০২৪ সালের ৫ আগস্ট) আগের আর্থিক প্রতিবেদনে ব্যাংকগুলো মুনাফা দেখিয়েছে, সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘সেটা তো আমরা দেখব। ওই বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি, কোন পটভূমিতে কিনেছেন এবং দেখি কী করা যায়।’

৫ আগস্টের আগে এই পাঁচ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদন যারা নিরীক্ষা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন কি না? এ প্রশ্নে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ব্যবস্থা তো নেওয়া হবেই। যা-ই হোক, এখন সব কথা বলা যাবে না।

এরআগে গতবছরের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক একীভূত হওয়া পাঁচ ইসলামি ব্যাংকের শেয়ার শূন্য করার নির্দেশ দেয়। ব্যাংকগুলোর প্রকৃত সম্পদের মূল্য ঋণাত্মক হয়ে যাওয়ায় ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশের আওতায় এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, এই পাঁচ ব্যাংকের মোট ৫৮২ কোটি শেয়ার ইস্যু করা হয়েছিল, যার ফেসভ্যালু ছিল ১০ টাকা। এর মধ্যে সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা মালিক ছিলেন ৪৪৩ কোটি শেয়ারের, যার মোট ফেসভ্যালু প্রায় ৪ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা। বাজারদরে এসব শেয়ারের মূল্য ছিল প্রায় ১ হাজার ২২ কোটি টাকা।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ১১৩ কোটি শেয়ারের ফেসভ্যালু ছিল ১ হাজার ১৩০ কোটি টাকা, যার বাজারদর ছিল ২১৫ কোটি টাকা। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ১০০ কোটি শেয়ারের বাজারদর ছিল ৩০১ কোটি টাকা, এক্সিম ব্যাংকের ৯৭ কোটি শেয়ারের মূল্য ছিল ২৯৩ কোটি টাকা, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ৮৪ কোটি শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল ১৪২ কোটি টাকা এবং ইউনিয়ন ব্যাংকের ৪৭ কোটি শেয়ারের বাজারদর ছিল ৭১ কোটি টাকা।