Print Date & Time : 25 April 2026 Saturday 2:54 am

সংকট মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগ ইতিবাচক

ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে সমগ্র বিশ্বেই। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিকে টালমাটাল অবস্থায় রেখেছে। জ্বালানি তেলের স্ফুলিঙ্গে পুড়ছে সবাই। যার অভিঘাতের বলয়ে আমাদের দেশও। আর দেশের চলমান এই জ্বালানি সংকট কেবল অর্থনৈতিক চাপই সৃষ্টি করছে না, বরং শিল্প, উৎপাদন ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব নিঃসন্দেহে ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আন্তরিকতা, দক্ষতা এবং বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর।
সংসদে উত্থাপিত এই প্রস্তাব রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে একটি জাতীয় সমস্যার সমাধানে একসঙ্গে কাজ করার রসদ যোগায়। এই উদ্যোগ দেশের রাজনীতির সংস্কৃতি ভিন্ন চেহারায় উপস্থাপিত হওয়ার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ দেশের যেকোনো সংকট উত্তোরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জ্বালানি খাতের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা অপরিহার্য। যৌথ কমিটি সেই পথ প্রশস্ত করতে পারে। এক্ষেত্রে সরকাার দলকে উদার মানসিকতার সর্বোচ্চ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এটি যেন কেবলই আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে।
বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট বহুমাত্রিক। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, আমদানি নির্ভরতা, গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাÑ সব মিলিয়ে সংকট জটিল আকার ধারণ করেছে। এই বাস্তবতায় সরকার এককভাবে সব সমাধান দিতে পারবেÑ এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। বিরোধী দলের মতামত ও প্রস্তাব গ্রহণ করলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও সমৃদ্ধ হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ ইকিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে।
তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, অনেক সময়ই এমন যৌথ উদ্যোগ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে ভেস্তে যায় বা কার্যকর ফলাফল দিতে ব্যর্থ হয়। তাই এই কমিটির কাজের পরিধি, সময়সীমা এবং সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া স্পষ্ট করা জরুরি। পাশাপাশি কমিটির কার্যক্রম জনসম্মুখে তুলে ধরার মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলোÑ এই উদ্যোগ যেন রাজনৈতিক কৌশল না হয়ে প্রকৃত সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপে পরিণত হয়। দেশের মানুষ এখন প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব ফলাফল দেখতে চায়। জ্বালানি সংকট নিরসনে টেকসই ও বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্তই হতে পারে এই সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ।
অতএব, প্রস্তাবিত যৌথ কমিটি একটি সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়Ñ এটি কি সত্যিই জাতীয় স্বার্থে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, নাকি আরেকটি অপূর্ণ প্রতিশ্রুতির তালিকায় যুক্ত হবে। জ্বালানি সংকটের বাইরেও আমাদের দেশে হাজারো সমস্যা রয়েছে, যেগুলো সরাসরি সাধারণ মানুষে স্বার্থসংশ্লিষ্ট। স্বাস্থ্য, শিক্ষা থেকে শুরু করে বেকার সমস্যা সব সময় এদেশের মানুষকে তাড়িয়ে বেড়ায়। বিরোধী দলকে আস্থায় নিয়ে সরকার এসব সমস্যা সমাধানেরও উদ্যোগ নিতে পারে বলে আমরা মনে করি।