নিজস্ব প্রতিবেদক: সততা, মেধা ও যোগ্যতাই জনপ্রশাসনে নিয়োগের মূল শর্ত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে পছন্দের পদে থাকার প্রবণতা কর্মকর্তাদের দুর্নীতির দিকে ঠেলে দেয় মন্তব্য করে তিনি যেকোনো স্থানে দায়িত্ব পালনের মানসিকতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। গতকাল রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রতিটি পদকে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, সবসময় পছন্দের পদে থাকার আকাক্সক্ষা জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের দুর্নীতিগ্রস্ত করে তোলে। এজন্য প্রতিটি পদকে গুরুত্বপূর্ণ ভেবে ও দেশের যেকোনো জায়গায় কাজ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কড়া অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে সরকার কোনো আপস করবে না। সততা, মেধা ও যোগ্যতাকেই জনপ্রশাসনে নিয়োগের মূল শর্ত হিসেবে গ্রহণ করা হবে।
জাতীয় নির্বাচনে যারা পেশাদারত্বের পরিচয় দিয়েছেন তাদের ধন্যবাদ দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, জনপ্রশাসন সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে জনরায়ের প্রতিফলন ঘটে, যা এবারের নির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছে।
জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি দফা আমরা বাস্তবায়ন করব। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বিষয়ে তিনি বলেন, এগুলো শুধু শীতকাল বা নির্দিষ্ট দিবসকেন্দ্রিক না হয়ে সারা বছর চালু রাখা উচিত।
সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল বিভাজিত জনপ্রশাসন এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে বর্তমান সরকারকে কাজ শুরু করতে হয়েছে। আপনাদের সহযোগিতায় সেই পরিস্থিতির অনেকখানি আমরা পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছি এই আড়াই মাসে। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দুর্নীতি ও লুটপাটের মহারাজত্ব কায়েম হয়েছিল। রাষ্ট্র ও জনগণকে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে ভয়ানক ঋণের ফাঁদে। অপরদিকে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিও নতুন সরকারের সামনে একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে হয়তো এই মুহূর্তে পৃথিবীর কোনো দেশই রক্ষা পায়নি। বাংলাদেশও এফেক্টেড হয়েছে। তবে জনগণের ভোগান্তি না বাড়িয়ে আমরা সকলে মিলে চেষ্টা করছি কীভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা যায়। আপনাদের সহযোগিতায় সেই চেষ্টা আমরা অব্যাহত রেখেছি। ঠিক এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করেই কিন্তু বর্তমান সরকার দেশের আবহমান কালের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের আলোকে একটি ন্যায়ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার দেশের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবন মান উন্নয়নের বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।
তারেক রহমান বলেন, ‘ইতোমধ্যে একটি নীতিমালার ভিত্তিতে জনপ্রশাসন অর্থাৎ আপনাদের মাধ্যমেই কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, স্পোর্টসের বিষয়টিসহ দেশে ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদেরও প্রতিমাসে আমরা সম্মানীর ব্যবস্থা করেছি। আপনাদের মাধ্যমে এ কার্যক্রমগুলো শুরু হয়েছে।’
একইসঙ্গে জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত আইন কানুন ও জটিলতাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস্তবসম্মত, কার্যকর ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের মানসিকতা আমরা প্রশাসনের সকল পর্যায়ে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। যাতে জনগণ সরকারের প্রতিটি কর্মসূচির প্রত্যাশিত সুফল সময়মতো লাভ করতে পারে।
চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনে মোট অধিবেশন হচ্ছে ৩৪টি। এর মধ্যে কার্য অধিবেশন ৩০টি এবং অংশগ্রহণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সংখ্যা হচ্ছে ৫৬টি। সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের ৪৯৮টি প্রস্তাব উত্থাপিত হচ্ছে। ৫৬টি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীরা সম্মেলনে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন।

Print Date & Time : 4 May 2026 Monday 1:03 am
সততা ও যোগ্যতাই হবে জনপ্রশাসনে নিয়োগের শর্ত: প্রধানমন্ত্রী
দিনের খবর ♦ প্রকাশ: