Print Date & Time : 19 April 2026 Sunday 10:05 pm

সন্তানকে উদ্বুদ্ধ করবেন কীভাবে?

শিক্ষা ডেস্ক: আসলে জোর করে ভালোৃ জিনিসও কারও ওপর চাপিয়ে দিলে সে কিন্তু প্রথম সুযোগে সেটা ছুড়ে ফেলে। তাই উদ্বুদ্ধকরণটা শুরু হতে হবে একদম ছোট থেকে। অতএব আমাদের সবসময় দৃষ্টিভঙ্গি থাকবেÑ‘ভালো কাজও সন্তানের ওপর চাপিয়ে দেব না, তাকে উদ্বুদ্ধ করব এবং এই উদ্বুদ্ধকরণটা শুরু হতে হবে একদম ছোট থেকে।’
কেন ছোট থেকেই শুরু করতে হবে: একদম ছোট থেকে যখন-তখন উদ্বুদ্ধ করার কাজ খুব সহজ হয়। যখনই একটা বয়স হয়ে যায়, তার নিজস্ব চিন্তাভাবনা ও ধ্যানধারণা যখন তার মাথার মধ্যে ঢুকে যায়, তখন তার সেই ধ্যানধারণাটাকে বদলানো খুব কঠিন কাজ। এজন্যে একদম ছোট থেকে শুরু করতে হবে।
যেভাবে উদ্ধুদ্ধ করবেনÑ
১. সেটা মমতা দিয়ে দরদ দিয়ে বুঝিয়ে। যত কষ্টের কাজ পরিশ্রমের কাজ এটা তাকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে চাপিয়ে দেওয়া। না হাসতে হাসতে আদর দিয়ে মমতা দিয়ে।
২. তাকে কষ্টে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সে পরিশ্রম করে ঘেমে গেছে, তার ঘামটা খুব হাসি দিয়ে মুছিয়ে দিতে হবে। তোমার এই যে ঘামটা, এই ঘামটা কত গুরুত্বপূর্ণ, এতে তার কী উপকার হলো তা বলতে হবে। অর্থাৎ সন্তানকে পরিবারের কষ্টের সঙ্গে একাত্ম করবেন। সন্তান কষ্টটাকে ভুলবে না, সুখের স্মৃত্রি কিন্তু খুব সহজে ভুলে যায়। সে যে কষ্ট শেয়ার করেছে, অংশ হয়েছে সে যে একটা কাজ করেছে, সে যে একটা চ্যালেঞ্জ নিয়েছেÑএই চ্যালেঞ্জ নিতে পারাটা তার স্মরণে থাকে। অতএব সন্তানকে সবসময় উদ্বুদ্ধ করবেন মমতা দিয়ে।
৩. সবসময় চিন্তা করবেন, যা করার ছোট থেকে, যা বোঝানোর ছোট থেকে এবং এ ব্যাপারে যেন ধৈর্যের কোনো অভাব না হয়, ধৈর্য যেন হারিয়ে না ফেলেন এবং ধরুন কোয়ান্টামের সমস্ত গুণ বাদ দিয়ে একটা গুণ যদি ধরেন, সেটা হচ্ছে কোয়ান্টাম জানে, কীভাবে অপেক্ষা করতে হবে, কীভাবে নিরলসভাবে কাজ করে যেতে হবে এবং কীভাবে ভাবতে হবে এবং বিশ্বাস করতে হবে। ভাবতে হবে, বিশ্বাস করতে হবে আর নিরলসভাবে লেগে থাকতে হবেÑসন্তান আপনার কথা শুনবে।
৪. অর্থাৎ আপনি সবসময় ইতিবাচকভাবে সন্তানকে উদ্বুদ্ধ করবেন সন্তানের সমালোচনা না করে। সে একটা ভুল করছে ওই কাজটার চেয়ে এই কাজটা যে বেটার, এটা ওটার চেয়ে ভালোÑএটা বুঝিয়ে। তুমি যেটা করেছ, আচ্ছা করে ফেলেছ, কিন্তু এর চেয়ে ভালো কাজ হচ্ছে এটা। অর্থাৎ সবসময় তাকে বুঝিয়ে উদ্বুদ্ধ করে সন্তানকে কাছে টেনে বোঝাতে হবে। মানে এটা হচ্ছে কোয়ান্টাম প্যারেন্টিং। এখানে সন্তান কী হবে? ভুল করলেও আবার ফিরে আসবে। কারণ মমতার বন্ধনটাকে কেউ ছিন্ন করতে পারে না; কিন্তু বন্ধনটা দুই তরফ থেকে সৃষ্টি হতে হবে। শুধু আপনার তরফ থেকে সৃষ্টি হলে হবে না। তখন একজন আরেকজনকে উদ্বুদ্ধ করবেন।
৫. আপনি ক্লান্ত হলে দেখা যাবে, আপনার ছেলে আপনাকে উদ্বুদ্ধ করছে, আপনি ক্লান্ত হলে আপনার মেয়ে আপনাকে উদ্বুদ্ধ করছে। মেয়ে ক্লান্ত হলে আপনি তাকে উদ্বুদ্ধ করছেন। অর্থাৎ বন্ডিংটা সম্পত্তি না বন্ডিংটা হচ্ছে আত্মার। তুমি আমার নও, তুমি এবং আমি মিলে আমরা। মানে ‘তুমি’কেও স্বীকার করতে হবে, ‘আমি’কেও স্বীকার করতে হবে। তুমি ও আমি মিলে হচ্ছি আমরা। এটা হচ্ছে প্যারেন্টিং যে, উই আর পার্টÑতুমিও একা স্বয়ংসম্পূর্ণ নও, আমিও একা স্বয়ং সম্পূর্ণ নই। আমি-তুমি মিলে, অর্থাৎ পরিবারের সবাই মিলে আমরা পরিবারÑমা-বাবা-ভাইবোন।
৬. ধরুন চারজন। চারজনকে ধরতে পারেন একটা চার চাকাওয়ালা গাড়ি। তাকে বোঝাতে হবে, এই গাড়ির চারটা চাকা মা-বাবা, এক চাকা তোমরা ভাইবোন মিলে; বলবেন, আরও যদি চাকা থাকে? ছয় চাকার গাড়ি হলে অসুবিধা কী আছে এবং ছয় দরজার গাড়ি যদি হয়, এক দরজা যদি ভাঙা থাকে, গাড়ি যদি চলে তো গাড়ির কী অবস্থা হবে? সন্তানকে এটা বোঝাতে হবে, ইউ আর পার্ট দ্য ফ্যামিলি। এটা থেকে বেরিয়ে গেলে ক্ষতিটা তোমার। ইউ আর দ্য লুজার এবং তোমার কী কী ক্ষতি হবে? এই এই ক্ষতি হবে।
৭. আমাদের সঙ্গে আসলে অধিকাংশ সময় সন্তানের সম্পর্কটা বন্ধুত্বের হয় না। সম্পর্কটা মানে দেওয়া-নেওয়ার অর্ডার আর কি! তো দেওয়া-নেয়ারও নয়, অর্ডারেরও নয়, সর্ম্পকটা হবে বন্ধুত্বের। সন্তানের বেস্টফ্রেন্ড হচ্ছে তার মা-বাবা। সন্তান যখন মনে করে, আমার মা-বাবা আমার বেস্টফ্রেন্ড, তখন সন্তান আপনার পরামর্শ নিতে উদ্বুদ্ধ হবে। সে তার ভুলগুলো আপনাকে বলবে।