Print Date & Time : 22 May 2026 Friday 3:31 am

সপ্তাহের শেষ দিনে পুঁজিবাজারে উত্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক: সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হওয়া অধিকাংশ শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে। এতে এক্সচেঞ্জটির সব মূল্যসূচকও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। পাশাপাশি ঢাকার এই পুঁজিবাজারে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এদিন সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর পর থেকেই অধিকাংশ শেয়ার ও ইউনিট দর বৃদ্ধির তালিকায় নাম লেখায়। এ ধারা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। ফলে দিনশেষে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৭৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে দর বেড়েছে ২৩৩টির, কমেছে ৯৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৯টির দর।

অধিকাংশ শেয়ার ও ইউনিটের দর বাড়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৪২ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৬৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ৮ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬৯ পয়েন্ট এবং ডিএস-৩০ সূচক ২১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৯৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

গতকাল ডিএসইতে ৮৬৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৮৪১ কোটি ১২ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক কার্যদিবসের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির লেনদেন বেড়েছে ২৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ২১ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৭০০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এক্সচেঞ্জটিতে মোট ২০০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১১৭টির, কমেছে ৫৮টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৫টির দর। গতকাল বাজারে মোট ৩০ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৪৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

বিশ্লেষকদের মতে, টানা কয়েক কার্যদিবসের দরপতনের পর সপ্তাহের শেষ দিনে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আস্থা ফিরে এসেছে। বিশেষ করে বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও কিছু মাঝারি মূলধনের কোম্পানির শেয়ারে ক্রয়চাপ বাড়ায় বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।

তারা বলছেন, মূল্যসূচকের ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানের পাশাপাশি লেনদেন বৃদ্ধিও বাজারে সক্রিয়তা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে বাজারে স্থিতিশীল ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, বর্তমানে অনেক ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ার তুলনামূলক কম দরে অবস্থান করায় কিছু বিনিয়োগকারী নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তবে বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ফেরাতে নীতিগত সহায়তা, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।