Print Date & Time : 18 April 2026 Saturday 5:15 am

সবজির বাজারে আগুন ডিমের দামও বাড়তি

নিজস্ব প্রতিবেদক: অতিরিক্ত পরিবহন খরচ, মৌসুম শেষ হওয়া এবং সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে রাজধানীর সবজির বাজারে। ফলে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে এখন ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা দেখা গেছে ডিমের বাজারে। বাছাই করা বড় ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা এবং খাঁচির ডিম ১৩০ টাকা দরে। অথচ গত সপ্তাহেই এসব ডিম যথাক্রমে ১২০ ও ১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ সবজিই ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে, আর তুলনামূলকভাবে কম দামের সবজিও ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে অবস্থান করছে।
বাজারে প্রতি কেজি পটোল ১০০ টাকা, কাঁকরোল ১৬০ টাকা, বেগুন ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, ঝিঙ্গা ১০০ টাকা, ধন্দুল ১০০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, শসা ১০০ টাকা এবং বরবটি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিচিঙ্গা কিছুটা কম দামে পাওয়া গেলেও সেটিও ৮০ টাকার নিচে নামেনি। অর্থাৎ বাজারে এখন এমন কোনো সবজি নেই, যা একেবারে স্বস্তির দামে পাওয়া যাচ্ছে।
অন্যদিকে তুলনামূলকভাবে কম দামের সবজির মধ্যেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্পষ্ট। মুলা ও টমেটো প্রতি কেজি ৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৬০ টাকা, লাউ প্রতিটি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকা, কাঁচাকলা প্রতি হালি ৪০ টাকা এবং কচুর লতি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে এসব দামও আগের তুলনায় বেশি বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
রাজধানীর শান্তিনগর বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মুকিদুর রহমান বলেন, বর্তমানে বাজারে ঢুকলেই বোঝা যায় সবজির দাম কতটা বেড়েছে। বেশিরভাগ সবজি ১০০ টাকার ওপরে, যেগুলো একটু কম, সেগুলোর দামও ৮০ টাকার আশপাশে। সব মিলিয়ে বাজারে সাধারণ মানুষের জন্য বড় চাপ তৈরি হয়েছে।
বিক্রেতারা বলছেন, দাম বাড়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। মালিবাগ বাজারের সবজি বিক্রেতা লতিফ মিয়া জানান, বেশ কিছু সবজির মৌসুম শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে উৎপাদন শুরু না হওয়া পর্যন্ত বাজারে সরবরাহ কম থাকবে, ফলে দাম বেশি থাকাটাই স্বাভাবিক। তিনি বলেন, পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে, তাই খুচরা বাজারেও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
একই ধরনের কথা বলেন রামপুরা এলাকার আরেক বিক্রেতা। তার মতে, মৌসুম শেষ হওয়ার পাশাপাশি পরিবহন খরচ আগের তুলনায় বেড়েছে। এছাড়া পাইকারি বাজারে সবজির সরবরাহও কমে গেছে। এসব কারণ মিলেই খুচরা বাজারে দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
সবজির বাজারে ঊর্ধ্বগতির পাশাপাশি অন্যান্য নিত্যপণ্যের বাজারে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমলেও ডিমের দাম বেড়ে নতুন করে চাপ তৈরি করেছে। অন্যদিকে মাছ ও গরুর মাংসের দাম প্রায় অপরিবর্তিত থাকায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।
বাজারে ব্রয়লার মুরগি বর্তমানে প্রতি কেজি ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ২০ টাকা কম। আসল সোনালি মুরগি ৪৫০ টাকা কেজি এবং হাইব্রিড সোনালি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সোনালি মুরগির দামে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।
মুরগি বিক্রেতা সাইফুল বলেন, ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমেছে, যা ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির। তবে এই দাম কতদিন থাকবে তা নিশ্চিত নয়, কারণ বাজারে দামের ওঠানামা নিয়মিত ঘটনা।
মুরগি কিনতে আসা ক্রেতা আমিনুল বলেন, দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি পাওয়া গেছে। তবে বাজারে স্থিতিশীলতা না থাকায় ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
অন্যদিকে গরুর মাংসের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ঈদের আগে এই দামে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
মাছের বাজারেও বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। মাঝারি আকারের ইলিশ মাছ এক হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রুই মাছ ৩২০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, সিলভার কার্প ১৬০ টাকা, কই মাছ ১৪০ টাকা, পাঙাশ মাছ ২০০ টাকা এবং পাবদা মাছ ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের মতে, মাছের বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে, শুধু ইলিশের দাম কিছুটা কমেছে।
তবে সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা দেখা গেছে ডিমের বাজারে। বাছাই করা বড় ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা এবং খাঁচির ডিম ১৩০ টাকা দরে। অথচ গত সপ্তাহেই এসব ডিম যথাক্রমে ১২০ ও ১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
সব মিলিয়ে রাজধানীর বাজারে বর্তমানে নিত্যপণ্যের দামে অস্থিরতা বিরাজ করছে। সবজির বাজারে ঊর্ধ্বগতি, ডিমের দামে হঠাৎ বৃদ্ধি এবং অন্যান্য পণ্যে আংশিক স্থিতিশীলতাÑএই মিশ্র পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের ব্যয় বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও তীব্র হচ্ছে।