Print Date & Time : 18 April 2026 Saturday 9:08 am

সমস্যার সমাধানে ব্যবসায়ীদেরও পরিমিতিবোধ প্রয়োজন

শ্রম আইন ও শ্রমিক সংগঠন গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ইস্যুর ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়টি আগামী নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেয়ার সুপারিশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। সোমবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ইংরেজি দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস আয়োজিত অর্থনৈতিক সংস্কারবিষয়ক সেমিনারে এ অভিমত ব্যক্ত করেন তারা। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, নির্বাচিত সরকার ছাড়া ব্যবসার পরিবেশেরও উন্নতি হবে না, অর্থনীতিতেও গতি ফিরবে না। সেমিনারে একজন ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘এখন আমাদের নির্বাচিত সরকার দরকার। আগামী ১০ থেকে ১৫ বছর মানুষ জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার না পেলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে না।

ব্যবসায়ীরা ভাবছেন নির্বাচিত সরকারেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তারা তো এর আগেরও নির্বাচিত সরকারের গুণগান গেয়েছেন, সাবেক সরকারের কাছ থেকে সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন; কিন্তু তারা নিজেরাও ভালো ছিলেন না। তারা সংঘবদ্ধভাবে বিদেশে অর্থ পাচার করেছেন, বিভিন্ন কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েছেন। এখন তারা সুর পরিবর্তন করে বলছেন, সুশাসন ছাড়া কোনো দেশের ও ব্যবসা-বাণিজ্য পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হবে না। ক্রেতারা এখন আতঙ্কিত, তারা পণ্য কিনতে চায় না। এই পরিস্থিতিতে একমাত্র সমাধান নির্বাচন। তারা ব্যবসায়ী ব্যবসার নিরিখে কথা বলবেন, এত দিন যেমন বলেছেন। সাধারণ মানুষও সুশাসন চায়। কিন্তু ব্যবসায়ীদের ব্যবস্থাপত্র মেনে সংস্কার কতটা জনবান্ধব হবে, তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ আছে। তারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন, অস্থিতিশীল করেন। ভোক্তাসাধারণকে বিপাকে ফেলেন।

আগের সরকারকে তারা সমর্থন করেছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বড় সুবিধাভোগী তারাও। তারা একটিবারও সাম্য ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠার কথা বললেন না। কেবলই নিজেদের সুবিধা চাইলেন। নির্বাচিত হলেই একটি সরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবে, সে নিশ্চয়তা কি কেউ দিতে পারবেন। জুলাই বিপ্লবের উদ্দেশ্য কী ছিলÑশুধুই সরকার পরিবর্তন, বা অন্য কাউকে বসিয়ে দেয়া!

ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আমরা এখনও পরবর্তী করণীয় নিয়ে একপ্রকার বিভ্রান্ত। সবাই যেন নিজেদের ‘অধিকার’ আদায়েই ব্যস্ত।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সাধারণ মানুষের চাওয়া ছিল প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা হবে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে। যেখানে রাষ্ট্র নাগরিকদের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেবে এবং তাদের সফলতার জন্য সমর্থন জোগাবে, নাগরিকেরাও রাষ্ট্রের মালিকানা গ্রহণ করে তার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। বাংলাদেশের জš§ হয়েছে গণতান্ত্রিক আশা-আকাক্সক্ষা নিয়ে, তাই জনগণের ভোটাধিকার ও প্রতিদিনের গণতন্ত্রচর্চা নিশ্চিত করা হলে, নাগরিকদের ন্যায্য অধিকার প্রদান করা হলে শ্রম আইন বাস্তবায়নে ব্যবসায়ীদের অনীহা থাকত না। সর্বত্র ন্যায়বিচারের পরিবেশ তৈরি হতো। সাধারণ মানুষ স্বস্তি পেত। রাজনৈতিক সরকার কি শুধু ব্যবসায়ীদের স্বার্থই দেখবে! সাধারণ মানুষেরও প্রত্যাশা আছে; সেগুলোর প্রতিও সম্মান দেখাতে হবে। রাষ্ট্রে জনগণের সম্পত্তি, সেবা ও বিচারপ্রাপ্তি এবং সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন সামাজিক, রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে নিশ্চিত করা হবে।