Print Date & Time : 20 April 2026 Monday 1:35 am

সমুদ্রে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করল উত্তর কোরিয়া

শেয়ার বিজ ডেস্ক: উত্তর কোরিয়া রোববার ভোরে সমুদ্রের দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশটির ধারাবাহিক অস্ত্র পরীক্ষার অংশ হিসেবেই এসব উৎক্ষেপণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পিয়ংইয়ং ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব পরীক্ষার মধ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ক্লাস্টার গোলাবারুদও রয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ এক বিবৃতিতে জানায়, স্থানীয় সময় ভোর প্রায় ৬টা ১০ মিনিটে উত্তর কোরিয়ার সিনপো এলাকা থেকে পূর্ব সাগরের দিকে (জাপান সাগর) কয়েকটি অজ্ঞাত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ শনাক্ত করা হয়েছে।

সম্ভাব্য আরও উৎক্ষেপণের আশঙ্কায় নজরদারি ও সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

ঘটনার পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পিয়ংইয়ংয়ের এ ধরনের পরীক্ষা সিউলের পক্ষ থেকে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করারই ইঙ্গিত বহন করে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি জানুয়ারিতে উত্তর কোরিয়ায় একটি বেসামরিক ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছিল সিউল। সে সময় দেশটির নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং ওই পদক্ষেপকে ‘সৌভাগ্যজনক ও বুদ্ধিমানের কাজ’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।

তবে চলতি মাসে উত্তর কোরিয়ার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘সবচেয়ে শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এর আগে কিম জং উন নিজেও একই মন্তব্য করেছিলেন।

উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের একাধিক নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে, যা দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। তবে এসব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পিয়ংইয়ং বারবার অস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে।

এর আগে এপ্রিলের শুরুতে কিম জং উন একটি নৌযান থেকে কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার তত্ত্বাবধান করেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে তাকে সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে ওই পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়।

এই পরীক্ষাগুলো ‘চোয়ে হিয়ন’ নামের একটি প্রায় ৫ হাজার টনের ডেস্ট্রয়ার থেকে পরিচালিত হয়, যা উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে সম্প্রতি যুক্ত করা হয়েছে। দেশটি বর্তমানে আরও দুটি একই ধরনের ডেস্ট্রয়ার নির্মাণ করছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার এক আইনপ্রণেতার তথ্যমতে, পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দরনগরী নামপোতে একটি ডেস্ট্রয়ার নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে উত্তর কোরিয়া। একই এলাকা থেকেই রোববারের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার স্যাটেলাইট চিত্রের বরাত দিয়ে বিরোধী দল পিপল পাওয়ার পার্টির আইনপ্রণেতা ইউ ইয়ং-ওন বলেন, রাশিয়ার সামরিক সহায়তায় উত্তর কোরিয়া তার নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণ জোরদার করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তা হিসেবে উত্তর কোরিয়া স্থলসেনা ও আর্টিলারি গোলাবারুদ পাঠিয়েছে। এর বিনিময়ে পিয়ংইয়ং মস্কোর কাছ থেকে সামরিক প্রযুক্তিগত সহায়তা পাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।