শাহরিয়ার সুলতান: ফাহমিদা ইসলাম ফারিয়ার লেখা এ নিবন্ধটি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার অপরিহার্যতা নিয়ে একটি সময়োপযোগী ও বিশ্লেষণধর্মী রচনা। ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে রূপান্তরের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে লেখক তরুণ প্রজন্মের কারিগরি দক্ষতাকে চিহ্নিত করেছেন।
লেখাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এতে বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভাবনাকে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে তুলনা করে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া কিংবা চীনের উদাহরণ দিয়ে বোঝানো হয়েছে, প্রযুক্তিগত দক্ষতাই অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে যথাযথ প্রশিক্ষণ ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে সম্পদে রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষভাবে ‘স্টেম এডুকেশন’ বা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব লেখাটিকে আরও আধুনিক ও বাস্তবধর্মী করেছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, সাইবার সিকিউরিটি, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং প্রভৃতি বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তা লেখক যথার্থভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন। এতে তরুণ সমাজের জন্য একটি সুস্পষ্ট বার্তা রয়েছে—প্রথাগত চাকরির চিন্তা থেকে বের হয়ে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জন করতে হবে। লেখাটিতে তথ্যপ্রযুক্তি খাত এবং ফ্রিল্যান্সিং ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সম্ভাবনার বিষয়টিও অত্যন্ত আশাব্যঞ্জকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের তরুণদের মেধা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের সফলতার প্রসঙ্গ পাঠকদের অনুপ্রাণিত করে। একই সঙ্গে দেশীয় বিজ্ঞানীদের অবদানের উল্লেখ লেখাটিকে গৌরবময় ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।
তবে লেখাটিতে কিছু জায়গায় তথ্যের আধিক্য থাকায় পাঠকের মনোযোগ ধরে রাখা কিছুটা কঠিন হতে পারে। আরও সুসংগঠিতভাবে উপস্থাপনা করা হলে লেখাটি আরও বেশি গ্রহণযোগ্য হতো।
সবশেষে বলা যায়,এটি একটি সময়োপযোগী ও অনুপ্রেরণামূলক প্রবন্ধ। বাংলাদেশের উন্নয়ন,তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ নির্মাণের গুরুত্ব অত্যন্ত কার্যকরভাবে তুলে ধরা হয়েছে লেখাটিতে।
