নিজস্ব প্রতিবেদক : নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। আজ রোববার সকাল ১০টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংকটির কিছু আমানতকারী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যাংক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানস্থলে ঘেরাও কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আগাম সতর্কতা হিসেবে অনুষ্ঠানটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ও অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের মধ্যে আলোচনা হয়। সেই আলোচনার পরই সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় অনুষ্ঠান বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকার কথা ছিল অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের। সভাপতিত্ব করার কথা ছিল ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়ার। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় ও আর্থিক খাতের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ অনেক অতিথির অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকটির সাম্প্রতিক কার্যক্রম, তারল্য পরিস্থিতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে কয়েকটি পক্ষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। এসব কারণেই অনুষ্ঠানস্থলে বিক্ষোভ বা ঘেরাওয়ের আশঙ্কা দেখা দেয়।
এ বিষয়ে সম্মিলিত পাঁচ ব্যাংকের চেয়ারম্যান আইয়ূব মিয়া শেয়ার বিজকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত থাকায় আগত মেহমানদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়ো যাচ্ছে না। যে কারণে আপাতত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান স্থগিত রয়েছে।
পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে গঠিত হচ্ছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। বর্তমানে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে; যা চলতি সপ্তাহেই চূড়ান্ত হতে পারে। এরপর উপব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা, কোম্পানি সচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোয় নিয়োগ দেওয়া হবে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক দেশের প্রথম রাষ্ট্রায়ত্ত শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক। শরিয়াহ নীতিমালা অনুসরণ করে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো এবং ইসলামী ব্যাংকিং খাতে রাষ্ট্রের অংশগ্রহণ জোরদার করাই এর মূল লক্ষ্য। উদ্বোধনের মাধ্যমে ব্যাংকটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল।
যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে এই নতুন ব্যাংক গঠন করা হচ্ছে সেগুলো হলো-ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।
এর মধ্যে এক্সিম ব্যাংক ছিল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে। অন্য চারটি ব্যাংক ছিল চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলমের নিয়ন্ত্রণে। তারা দুজনই ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এসব ব্যাংকে নামে-বেনামে তাদের শেয়ার ও ঋণসম্পর্কিত সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। শেষ পর্যন্ত সেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও বাতিল করা হয়েছিল।
প্রিন্ট করুন








Discussion about this post