নিজস্ব প্রতিবেদক : বাজারে দ্রব্যমূল্য নিয়ে কোনো ‘সাউন্ড বাইট’ নয়, বরং কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে ফল দেখানোর আশ্বাস দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে; তাই ভোক্তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
বুধবার সচিবালয়ে প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজারও স্থিতিশীল থাকবে। রমজান মাস ও পরবর্তী সময়ের জন্য সরকারের হাতে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং আমদানি পাইপলাইনেও যথেষ্ট সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। রমজান এলেই ‘সিন্ডিকেট’ প্রসঙ্গ সামনে আসে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি সাউন্ড বাইট দেব না। ইনশা আল্লাহ কাজ করে দেখাব।’ বাজার তদারকি ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
রমজানের শুরুতে কিছু পণ্যের দাম বাড়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এটি অনেক ক্ষেত্রে এককালীন চাহিদা বৃদ্ধির ফল। মানুষ সাধারণত পুরো মাসের বাজার একসঙ্গে করায় সাময়িকভাবে ভোগ বেড়ে যায়, যার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ে। তবে এ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয় না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রপ্তানি খাতের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের রপ্তানি কাঠামো এখনো অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত; মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ একটিমাত্র পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, নতুন পণ্য সংযোজন এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণে জোর দেওয়ার কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে বিনিয়োগে আগ্রহী বেসরকারি খাতকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন।
বিশ্ব বাণিজ্যে অনিশ্চয়তার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতির পরিবর্তনে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভুল করার সুযোগ সীমিত; নীতিগত ভুল বা দীর্ঘস্থায়ী বৈদেশিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা কম। তাই সাম্প্রতিক মন্থর অবস্থা কাটিয়ে উঠতে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে।
বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগ আসে না। স্থিতিশীল পরিবেশই বিনিয়োগের প্রধান শর্ত। বিনিয়োগকারীরা তখনই এগিয়ে আসেন, যখন তারা পুঁজি ও শ্রমের বিপরীতে যুক্তিসংগত মুনাফা পাওয়ার নিশ্চয়তা পান।
মন্ত্রী আরও জানান, দেশে বড় একটি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে এবং প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। কয়েক বছর ধরে বিনিয়োগ স্থবির থাকায় অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। দ্রুত এ অবস্থা কাটিয়ে উঠতে না পারলে কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই রমজান শুরু হওয়াকে বড় পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে সফল হতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই।
