বাংলাদেশের ষড়ঋতুর মধ্যে শীত পঞ্চম ঋতু। প্রত্যেক ঋতু তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য নিয়ে আবির্ভূত হয়। পৌষ এবং মাঘ মাসের প্রতিটি সকালে প্রচণ্ড শীতের প্রভাব থাকে। পৌষের শীতের প্রকোপের প্রভাবটা এখন উত্তরবঙ্গে জেঁকে বসেছে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে জেঁকে বসেছে শীত। তীব্র শীতের প্রকোপে কাবু দেশের মানুষ। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের মানুষ শীতে বেশি কষ্ট পেতে শুরু করেছে।
এই সময়ের মধ্যে কয়েকবার শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। যখন শৈত্যপ্রবাহ চলে, তখন জনজীবনে নেমে আসে দুর্ভোগ, বিশেষভাবে কষ্ট পায় শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা। এ সময় খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমজীবীরা পড়ে যায় বিপাকে। সারা দেশে চলছে শৈত্যপ্রবাহ। বিশেষ করে এখন উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলায় চলছে শৈত্যপ্রবাহ। উত্তরের হিমালয় পর্বতমালা থেকে আসে হিমশীতল বাতাস, দিনের বেলা কখনো সূর্যের দেখা মেলে, কখনো মেলে না। যখন আকাশে সূর্য থাকে, তখনো রোদের তীব্রতা থাকে না। রাতে বেশ ঘন হয়ে প্রায় বৃষ্টির মতো ঝরে শিশির। অন্তত বেলা ১১টা পর্যন্ত থাকে ঘনকুয়াশা। এ অঞ্চলের মানুষ অনেক সংগ্রাম করে জীবন-জীবিকা চালায়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভাস্য মতে, এ মাসের শেষদিকে দেশে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তখন দেশের বেশকিছু স্থানে তাপমাত্রা বিভিন্ন স্থানে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যেতে পারে।
শীত নিবারণে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই অনেকের। শীতের এই তীব্রতা সবচেয়ে বেশি জেঁকে বসেছে বিশেষ করে নিম্ন্ন আয়ের মানুষের মধ্যে, তারা একদিকে যেমন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য আছে বিপাকে, অন্যদিকে শীতবস্ত্রের অভাবে আছে শীতার্ত। হাড় কাঁপানো শীতে এখানকার জীবনযাত্রা এখন অনেকটাই স্থবির। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দরিদ্র, ছিন্নমূল, ভাসমান ও স্বল্প আয়ের মানুষ। প্রয়োজন না হলে সন্ধ্যার এসব অঞ্চলে মানুষের বাইরের চলাচলে কমে গেছে। রাতের বেলা সাধারণ লেপ-কাঁথায় শীত নিবারণ বেশ কঠিন। কাবু হয়ে পড়ে সাধারণ মানুষ। গরম কাপড়ের পাশাপাশি অনেকেই খড়কুটা জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজার ও ফুটপাতে এখন গরম কাপড় বিক্রি শুরু করেছেন দোকানিরা। বেশি ঠাণ্ডার কারণে শীত বেশি হওয়ায় কাঁথা কম্বল ব্যবহার করছে মানুষ।
মানুষের শীত নিবারণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় শীতকালীন নানা অসুখে ভুগছে শীতার্তরা। হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনই এ সময় পুরোনো কাপড় সংগ্রহ করে শীতার্তদের মধ্যে বিতরণ করে। কীভাবে শীতার্তদের একটু উষ্ণ ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়া যায়, সেটার দিকে সরকারের পাশাপাশি বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত।
এই মানবিক কর্মে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারেন। দিতে পারেন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে। সরকারের পাশাপাশি আমরাও উত্তর অঞ্চলের শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করি।
প্রিন্ট করুন






Discussion about this post