নিজস্ব প্রতিবেদক : ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি, শিল্প ও বিনিয়োগ-বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে শেয়ারবাজার জালিয়াতি, ব্যাংকঋণ আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার দুদক প্রধান কার্যালয়ে নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।
দুদক জানায়, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরস্পর যোগসাজশে শেয়ারবাজারে কারসাজি, প্লেসমেন্ট শেয়ার জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডারদের হাজার হাজার কোটি টাকা ক্ষতি করেন। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করে আত্মসাৎ এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা জনতা ব্যাংক পিএলসির লোকাল অফিস, ঢাকার মাধ্যমে ‘কোজি অ্যাপারেলস লিমিটেড’ নামে একটি নবসৃষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ইডিএফ সুবিধাসহ ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করান। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকদের পূর্ব ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও বিবি এলসির মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে কাগুজে আমদানি-রপ্তানি দেখিয়ে ‘অ্যাকোমডেশন বিল’ তৈরি করা হয়। এর মাধ্যমে ১৯ লাখ ৬৪ হাজার ২৫০ মার্কিন ডলার রপ্তানি মূল্য প্রত্যাবাসন না করাসহ মোট ১ কোটি ৪৬ লাখ ৯৬ হাজার ৩৩২ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার, যা ২০২২ সালের গড় বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ১৩৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সমপরিমাণ অর্থ, আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিং করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
দুদক জানায়, এই অর্থ হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্তরীকরণের (লেয়ারিং) মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে। অভিযোগে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪৭৭-এ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫) এর ৪ ধারায় অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বেক্সিমকো গ্রুপ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আসামিরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি, শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান ফজলুর রহমান, বেক্সিমকো গ্রুপ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এএসএফ রহমান, বেক্সিমকো লিমিটেডের পরিচালক ইকবাল আহমেদ, বেক্সিমকো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান কায়সার চৌধুরী ওরফে ও কে চৌধুরী, বেক্সিমকো লিমিটেডের পরিচালক এবি সিদ্দিকুর রহমান, পরিচালক মাসুদ ইকরামুল্লাহ খান, পরিচালক শাহ মঞ্জুরুল হক, পরিচালক রীম এইচ শামসুদ্দোহা, কোজি অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান খান ও পরিচালক সৈয়দ তানবির এলাহী আফেন্দী, ক্রিসেন্ট অ্যাক্সেসরিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু নাঈম মাহমুদ সালেহিন ও পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান তানভীর, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আরআর গ্লোবাল ট্রেডিং এফজেডইয়ের স্বত্বাধিকারী আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান এবং আহমেদ শাহরিয়ার রহমান।
এছাড়া জনতা ব্যাংক পিএলসির তৎকালীন ও সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সিইও ও এমডি আব্দুছ ছালাম আজাদ, সাবেক ও তৎকালীন ডেপুটি এমডি আব্দুল জব্বার, সাবেক মহাব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত ডেপুটি মহাব্যবস্থাপক মো. আব্দুর রহিম, অবসরপ্রাপ্ত সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, সাবেক এজিএম মোহাম্মদ শাজাহান, অবসরপ্রাপ্ত এজিএম হুমায়ুন কবির ঢালী এবং প্রিন্সিপাল অফিসার শ ম মাহাতাব হোসাইন বাদশা।
প্রিন্ট করুন





Discussion about this post