Print Date & Time : 19 April 2026 Sunday 5:10 am

সিইপিজেডে কারখানায় ভয়াবহ আগুন

স্বরূপ ভট্টাচার্য, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (সিইপিজেড) চিকিৎসা পোশাক তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় সিইপিজেডের ১ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বর সড়কের ‘অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড’ নামের ওই কারখানা ভবনে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিকাল সাড়ে ৪টায় আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুরোটা নেভেনি বলে জানিয়েছেন সিইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক আবদুস সোবহান। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইপিজেড থানার ওসি মোহাম্মদ জমির উদ্দিন জিয়া শেয়ার বিজকে জানান, ‘অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড’-এর আটতলা ভবনের মেডিকেল ইকুইপমেন্ট তৈরির কারখানার সপ্তম তলায় আগুন লাগে। পরে তা ছয়তলায় ছড়িয়ে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিসের আগ্রাবাদ কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের ১৫টি ইউনিট একযোগে কাজ করে। এছাড়া নৌবাহিনী ও সিইপিজেডের নিয়মিত সেনাবাহিনীর একটি দলও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে অংশ নেয়।

ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপসহকারী পরিচালক আবদুল মান্নান শেয়ার বিজকে বলেন, ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে চলছে। তবে তিনি বিকাল সাড়ে ৫টায় জানান, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, ওই কারখানাটিতে ৮০০ শ্রমিক কাজ করেন। তিনি বলেন, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই শ্রমিকরা নিরাপদে কারখানা ভবন থেকে নেমে আসেন। একই ভবনের পঞ্চম তলায় একটি রাসায়নিক কারখানাও আছে বলে এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান।

সিইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক আবদুস সোবহান শেয়ার বিজকে বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে নৌবাহিনীর ফায়ার ফাইটার ইউনিট এখানে কাজ করছে। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের অনেকগুলো ইউনিট শুরু থেকেই আগুন নিয়ন্ত্রণে একযোগে কাজ কাজ করে। প্রাণহানি বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি বলেও তিনি জানান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধারণা করা হচ্ছে এসির বিস্ফোরণ ঘটছে।’

আগুন লাগা কারখানাটির পাশের আরেকটি কারখানা পেনিনসুলার নিরাপত্তাকর্মী মানুমুনুর রশিদ বলেন, ‘অ্যাডামস ক্যাপস অ্যান্ড টেক্সটাইল লি. কারখানাটির চারতলা পর্যন্ত উৎপাদন হতো। ওপরে ছিল গোডাউন। প্রথমে আমরা আগুন দেখে কারখানার শ্রমিকদের বলি। তারা সুপারভাইজারকে জানায়। শ্রমিকরা সবাই বের হয়ে পড়েছেন।’

অ্যাডামস ক্যাপ কারখানাটি মূলত পোশাক উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত, আর জিন হং মেডিকেল কারখানায় চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের কাজে ব্যবহƒত তুলা ও সার্জিক্যাল গাউন তৈরি হতো।