Print Date & Time : 29 April 2026 Wednesday 7:16 pm

সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্পপার্ক দ্রুত চালুর ব্যবস্থা নিন

সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্পপার্কের যথাযথভাবে মাটি ভরাট না করায় শিল্প স্থাপন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উদ্যোক্তাদের। অসমাপ্ত প্লট পেয়ে উদ্যোক্তারা বড় বিপাকে আছেন। নৌ, রেল ও সড়কপথের সুবিধা থাকায় সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্পপার্ক হতে পারে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় শিল্পাঞ্চল। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ সাতবার বাড়ানোর ফলে ব্যয় বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তারপরও রাস্তা অসমাপ্ত, জমি পুরো ভরাট হয়নি এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগও নেই।

জানা যায়, মাটি ভরাট থেকে শুরু করে অবকাঠামো তৈরির কাজ শেষ না করেই প্লট হস্তান্তর করা হয়েছে। শিল্পোদ্যোক্তারা এখন বিনিয়োগ ও কারখানা স্থাপনের কাজে এগোতে পারছেন না। বিসিকের নিয়ম অনুযায়ী ভূমি উন্নয়ন, মাটি ভরাট, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন, পানিনিষ্কাশন ও বর্জ্যব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে তবেই প্লট হস্তান্তরের কথা। কিন্তু সিরাজগঞ্জ শিল্পপার্কে এসব কাজের অনেকটাই শেষ হয়নি।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলী, পশ্চিম মোহনপুর, বনবাড়িয়া, বেলটিয়া ও মোরগ্রাম মৌজা নিয়ে প্রায় ৪০০ একর জমিতে এই শিল্পপার্ক গড়ে তোলা হয়। ২০১০ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৪ সালের জুনে। কিন্তু প্রকল্পটির মেয়াদ সাতবার বাড়ানো হয়। বিসিক কার্যালয়ের তথ্যমতে, এই প্রকল্পে ২৭৫ একর জমিতে তিন ক্যাটেগরিতে ৮২৯টি প্লট তৈরি করা হয়েছে। কাজ সম্পন্ন না করে হস্তান্তর হওয়া এসব অসম্পূর্ণ প্লটে তো ব্যাংক বিনিয়োগ করবে না। এখন শিল্পপার্ক নিয়ে উদ্যোক্তাদের অভিযোগের যেন শেষ নেই।

চলমান সংস্কারের একটি মূল উদ্দেশ্য হলো অর্থনীতিতে গতিশীলতা বাড়ানো। সম্মিলিতভাবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত আমাদের অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখে, যদিও তাদের কণ্ঠ কিছু বড় ব্যবসার মতো জোরালোভাবে শোনা যায় না। আমাদের অবশ্যই এসব উদ্যোক্তাদের গতিশীলতা বাড়ানোতে সাহায্য করতে হবে এবং তাদের ব্যবসা প্রতিটি পর্যায়ে সহজ করতে হবে—অর্থায়ন থেকে অর্থপ্রদান ও সরবরাহব্যবস্থা পর্যন্ত। সরকারকে এর সহায়ক হতে হবে, বাধা নয়। যখন সরকারের পক্ষ থেকে এমন আশ্বস্ত করা হলেও সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্পপার্কের ক্ষেত্রে যা ঘটছে, তার সরকারকে বিব্রত করবে বলেই ধারণা।

ব্যবসা সহজীকরণে অন্তর্বর্তী সরকারের নেয়া পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে মনোযোগও রয়েছে। সিরাজগঞ্জ শিল্পপার্কের উন্নয়ন প্রকল্পে ধীরগতি যেন শিল্পোদ্যোক্তাদের হতাশ না করে। ব্যবসার পরিবেশ সূচকে আমাদের অবস্থান সুবিধার নয়। মনে রাখতে হবে, দেশে ব্যবসার পরিবেশ সুন্দর থাকলেই ব্যবসায়ীরা স্বচ্ছন্দে কাজ করতে পারবেন। ব্যবসা করতে গিয়ে ব্যবসায়ীরা অনেক প্রতিকূল অবস্থার শিকার হচ্ছেন। এখন তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় সময়মতো উৎপাদনে যেতে পারেন না। নীতিনির্ধারদের উচিত হবে দ্রুত শিল্পোদ্যোক্তাদের বিড়ম্বনা এড়াতে ব্যবস্থা নেয়া।