শেখ মোহাম্মদ রতন, মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে বাণিজ্যিকভাবে রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করে সফল হয়েছেন কৃষক সেলিম শেখ। পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এই কপি সাধারণ কপির তুলনায় স্থানীয় বাজারে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হওয়ায় কৃষকদের মাঝে এ ধরনের সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে।
উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের কুসুমপুর বাজারের পাশে এ বছর প্রায় ৭০ শতাংশ জমিতে সাদা, গোলাপি ও হলুদ রঙের ফুলকপি; সাদা ও বেগুনি রঙের বাঁধাকপি (রেড ক্যাবেজ), ব্রকলিসহ মোট ছয় ধরনের কপি চাষ করেছেন তিনি। এসব সবজি চাষ করে রহিম শেখ লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। পাশাপাশি অন্যরা এ ধরনের সবজি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। স্থানীয় অনেকের মতে, রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপির চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। এ ধরনের সবজির মার্কেট ভ্যালু রয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে সবজি চাষ শুরু করেছেন অনেকে।
এছাড়া লাউ, টমেটো, খিরাই, উস্তা, ধনেপাতা, শিম, মুলা, বেগুনসহ মোট ২৮০ শতাংশ জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করা হয়েছে। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও বেশ ভালো হয়েছে।
এ বিষয়ে কৃষক সেলিম শেখ বলেন, ‘আলু চাষে টানা লোকসান হওয়ায় প্রথমে টমেটো চাষ শুরু করি। আলুর চেয়ে সবজি চাষে লাভ বেশি হওয়ায় এতে আগ্রহী হয়ে উঠি। সেই থেকে এ বছর রঙিন বাঁধাকপি ও ফুলকপিসহ ১৮ থেকে ২০ ধরনের সবজি চাষ করছি।’
তিনি আরও জানান, ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এ বছর ২০ শতাংশ জমিতে ব্রকলি চাষ করেছেন। এর পাশাপাশি রঙিন সবজি চাষে সিরাজদিখান উপজেলা কৃষি অফিস তাকে সব ধরনের কারিগরি ও অন্যান্য সহযোগিতা প্রদান করছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ শুভ্র বলেন, ‘মুন্সীগঞ্জ জেলা মূলত আলু চাষের জন্য বিখ্যাত হলেও সিরাজদিখানে আলুর পাশাপাশি প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। চলতি রবি মৌসুমে কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ব্রকলি, টমেটো, ক্যাপসিকাম, তরমুজ, কালোজিরা, ধনিয়া, চীনাবাদাম, পেঁয়াজ, রসুন, সরষেসহ মোট ৮০টি প্রদর্শনী প্লট এ উপজেলায় বাস্তবায়িত হয়েছে। এসব প্রদর্শনী দেখে কৃষকরা যেমন লাভবান হচ্ছেন, তেমনি অন্য কৃষকরাও সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এ ধরনের প্রকল্প অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সিরাজদিখানের কৃষি শুধু আলুনির্ভর না থেকে বৈচিত্র্যময় কৃষিতে রূপান্তরিত হবে।’
প্রিন্ট করুন









Discussion about this post