Print Date & Time : 29 April 2026 Wednesday 8:56 pm

সুগন্ধি চাল রপ্তানির সময় বাড়ল ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক : সুগন্ধি চাল রপ্তানির সময়সীমা আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সিদ্ধান্তের আওতায় সুবিধা পাবে ৬১টি প্রতিষ্ঠান। নির্বাচন-পূর্ব ৮ ফেব্রুয়ারি এ-সংক্রান্ত চিঠি আমদানি রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে পাঠায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতেও চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর সুগন্ধি চাল রপ্তানির আগের সময়সীমা শেষ হয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে সময় বাড়ানো হয়েছে। এর আগে গত বছরের এপ্রিলে সক্ষমতা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানভেদে ১০০, ১৫০, ২০০, ৩০০, ৪০০ ও ৫০০ টন করে রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কেউ পুরো বরাদ্দ রপ্তানি করেছে, কেউ করেছে আংশিক। তবে বরাদ্দ বণ্টন নিয়ে অসন্তোষও রয়েছে।

চিঠিতে রপ্তানির শর্ত হিসেবে প্রতি কেজি সুগন্ধি চালের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। ডলারপ্রতি ১২২ টাকা ধরে প্রতি কেজির মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১৯৫ টাকা। অনুমোদিত পরিমাণের বেশি রপ্তানি করা যাবে না এবং প্রতিটি চালান জাহাজীকরণের পর সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। অনুমোদন হস্তান্তরযোগ্য নয়; অর্থাৎ অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রপ্তানি করা যাবে না।

রপ্তানি নীতি অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে সাধারণ চাল রপ্তানি নিষিদ্ধ থাকলেও বিশেষ অনুমতিতে সুগন্ধি চাল রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সম্মতিও নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সুগন্ধি চাল রপ্তানি করে আয় হয়েছিল

২৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ২০ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে আরও কমে হয় ১০ লাখ ৭০ হাজার ডলার। ২০২২-২৩ অর্থবছরে সরকার সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি স্থগিত রাখে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০০৯-১০ অর্থবছরে ৬৬৩ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১০ হাজার ৮৭৯ টনে। দেশে বছরে প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ টন সুগন্ধি চাল উৎপাদিত হয় এবং গড়ে প্রায় ১০ হাজার টন রপ্তানি করা হয়।

বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রুনেই ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের ১৩০টির বেশি দেশে সুগন্ধি চাল রপ্তানি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, রপ্তানি কার্যক্রমে খাদ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ফাইটোস্যানিটারি সনদ ছাড়া কোনো চাল বিদেশে পাঠানো সম্ভব নয়।