নিজস্ব প্রতিবেদক: সুদের হার কমানো কোনো একক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়; এতে সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে—এমন মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, সুদহার কমানোর বিষয়টি সহজ সমাধান হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বাস্তবে এর বহুমাত্রিক প্রভাব রয়েছে, যা বিবেচনায় না নিলে অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ব্যাংকিং অ্যালমানাক-এর প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ট্রেজারি বিল, ব্যাংকিং খাত ও বাজার ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় ছাড়া সুদের হার কমানো হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে সামগ্রিক অর্থনীতিতে। ট্রেজারি বিলের সুদহার ইতোমধ্যে কমেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর প্রভাব ধীরে ধীরে বাজারে প্রতিফলিত হবে। তবে ট্রেজারি বিল বা সঞ্চয়পত্রের সুদহার বাড়ানো হলে ব্যাংকে আমানত প্রবাহ কমে যেতে পারে, যা ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
তিনি বলেন, ব্যাংক খাতের মূল কাজ হলো সঞ্চয় ও ঋণের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করা। ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে। এই কাঠামো দুর্বল হলে পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বিরূপ প্রভাব পড়ে।
ব্যাংকিং অ্যালমানাক প্রসঙ্গে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এটি সরাসরি বিনিয়োগ নির্দেশনা না দিলেও ব্যাংক খাত বিশ্লেষণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভিত্তিক উৎস। এতে পেইড-আপ ক্যাপিটাল, অথরাইজড ক্যাপিটাল, ক্যাপিটাল রেশিও, প্রভিশনিং, রিটেইন্ড আর্নিংস ও ক্রেডিট-ডিপোজিট রেশিওসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংযোজিত হয়েছে।
তিনি জানান, নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও ব্যাংকিং অ্যালমানাকের প্রকাশনা অব্যাহত রাখা প্রশংসনীয়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় খাতটির অবস্থা ছিল সংকটপূর্ণ। তবে সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণে কিছু ব্যাংকের প্রভিশনিং ও ঋণ কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যা ব্যাংকিং অ্যালমানাকে প্রতিফলিত হয়েছে।
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেবল মুদ্রানীতির মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, বাজার তদারকি এবং ব্যবসায়ী ও ভোক্তা পর্যায়ের সহযোগিতা ছাড়া টেকসই সমাধান আসবে না।
অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে সবসময় নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন না করে ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি গঠনমূলক সমালোচনা করা জরুরি। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রিন্ট করুন









Discussion about this post