নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘খুলনা শিল্প-কলকারখানা আজ ধ্বংস করে দিয়ে গেছে লুটেরা সরকার। আমরা যদি জনগণের সেবা করার সুযোগ পাই তাহলে এই রুগ্ন শিল্পকে আবার বিকশিত করব ইনশাআল্লাহ।’
গতকাল সোমবার দুপুরে খুলনা খালিশপুর প্রভাতী স্কুল ময়দানে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশে অন্যতম একটি দলের প্রধান নেতা মিথ্যা বলতে পারে? তাদের আইডি না-কি হ্যাক হয়ে গিয়েছিল। এরা মিথ্যাবাদী। এরা মিথ্যা বলে প্রতারণা করে। এরা আর যাই হোক দেশের কল্যাণ করতে পারে না। এদের থেকে জনগণ সচেতন থাকতে হবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, বিএনপি রাজনৈতিক দল হিসেবে অতীতেও রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। একইভাবে আগামী দিনে বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনে আল্লাহর রহমতে আমরা সরকার গঠন করলে, আমাদের প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে দেশকে পুনর্গঠন করা। দেশকে পুনর্গঠন করতে হলে দল-মত, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সব মানুষকে নিয়ে আমাদের দেশকে পুনর্গঠন করতে হবে। শুধু যেকোনো এক ধরনের মানুষকে নিয়ে দেশ কখনো পুনর্গঠন করা যায় না। হয়তো অন্য কাজ করা যায় কিন্তু দেশ পুনর্গঠন করা যায় না।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ১৬ বছর ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। বাংলাদেশের মানুষ তার মতামতের ভিত্তিতে তার প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেনি। শুধু সেটি জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে নয়, এমনকি সেটি লোকাল নির্বাচনের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা দেখা গেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ গত ১৬ বছর ধরে তাদের মনের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে পারেনি। কেউ যদি কথা বলার চেষ্টা করেছে, আমরা দেখেছি কীভাবে তাকে রাতের আঁধারে তুলে নেওয়া হয়েছে, গুম করা হয়েছে, খুন করা হয়েছিল। আজ সময় এসেছে, বাংলাদেশের মানুষ তার দাবি আদায়ের জন্য অবস্থান গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের মানুষকে যেই অধিকার থেকে গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছিল, ১২ তারিখ ইনশাআল্লাহ সেই অধিকার প্রয়োগ করবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করছেন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এস এম শফিকুল আলম মনা এবং সঞ্চালনা করছেন সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন।
জনসভায় বক্তব্য রাখেন, খুলনা-৩ আসনের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-২ আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৪ আসনের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৫ আসনের আলী আসগর লবী, সাতক্ষীরা-১ আসনের হাবিবুর রহমান হাবীব, গবেষণা-বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, খুলনা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, বেগম হালিমা আলী, খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেসিসির সাবেক মেয়র মো. মনিরুজ্জামান মনি, খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, খুলনা-১ আসনের আমির এজাজ খান, খুলনা-৬ আসনের মনিরুল হাসান বাপ্পী, সাতক্ষীরা-৩ আসনের কাজী আলাউদ্দিন, সাতক্ষীরা-২ আসনের আব্দুর রউফ, সাতক্ষীরা-৪ আসনের ড. মনিরুজ্জামান, বাগেরহাট-৩ আসনের ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-৪ আসনের সোমনাথ দে, বাগেরহাট-২ আসনের ব্যারিস্টার জাকির হোসেন প্রমুখ।
খুলনায় নির্বাচনী সমাবেশ সম্পন্ন করে তিনি যশোরে যান। সেখানে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় সাত জেলা থেকে আগত জনসাধারণের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। জনগণের ভোটে ক্ষমতায় গেলে ওই এলাকার বন্ধ চিনিকল চালু করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
প্রিন্ট করুন







Discussion about this post