দেশের মূল ধারার পত্রিকাগুলো প্রতিবছরই পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘিরে ঈদ সংখ্যা প্রকাশ করে। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় দেশের প্রথম অর্থনৈতিক পত্রিকা শেয়ার বিজও ‘ঈদ সংখ্যা ২০২৬’ প্রকাশ করেছে। ঈদ সংখ্যায় পাঠকদের মন জোগাতে উপন্যাস, ছোটগল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনি সাজিয়ে থাকে। রসালো জমকালো লেখা ঈদ সংখ্যায় স্থান পায়। তবে শেয়ার বিজ অর্থনৈতিক পত্রিকা হওয়ায় মূল পত্রিকার সঙ্গে মিল রেখে এই ঈদসংখ্যাতেও ব্যবসা-সংক্রান্ত লেখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এখানে দেশের স্বনামধন্য ব্যবসায়ীদের জীবনবৃত্তান্ত ও তাদের সাফল্যগাথাকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে, যা পত্রিকাটির পাঠকদের ভালোলাগা হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে অনেকের মধ্যে ব্যবসা-সংক্রান্ত সুপ্ত প্রতিভাকে জাগ্রত করতে প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
মো. শাহীনূর আলম: এবারের ঈদ সংখ্যায় আব্দুল্লাহ আল মামুনের লেখা ‘তারুণ্যে বদলাবে বাংলাদেশ’ শিরোনামে প্রচ্ছদ প্রতিবেদনে লেখক আমাদের দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। প্রতিবেদনটিতে পাঠকদের জন্য যেমন চিন্তার খোরাক রয়েছে, তেমনি দেশের নীতিনির্ধারকদের জন্য চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়ার রসদ রয়েছে। তারা এখান থেকে শিক্ষা (লেসন) নিতে পারেন, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দেশের প্রেক্ষাপটে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতিবেদনটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে কর্মক্ষম জনসংখ্যার যে অনুপাত, তাতে দেশ সোনালি সময় পার করছে। আর এ রকম সময় দেশে একবারই আসে। অর্থাৎ আমরা এক ধরনের সোনালি সময়ে ভাসছি। এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো- সেই জনসংখ্যাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো; সোনালি এই সময়কে কাজে লাগানো।
শেয়ার বিজ ঈদ সংখ্যায় বেশ কিছু উদ্যোক্তা ও আলোকিত মানুষের জীবনালেখ্য স্থান পেয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন এদেশের একসময়কার শীর্ষ ধনী জহুরুল ইসলাম, সফল ব্যবসায়ী স্যামসন এইচ চৌধুরী এবং সফল উদ্যোক্তা, সমাজসেবক ও দক্ষ সংগঠক সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী। বরেণ্য সাংবাদিক এবিএম মুসার নিবন্ধে উঠে এসেছে এক স্বনামধ্যন্য ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলামের সংগ্রামী জীবনের বেশ কিছু দিক। আইসিসির প্রেসিডেন্ট মাহবুবুর রহমান লিখেছেন সৈয়দ মঞ্জুর এলাহীকে নিয়ে। তাদের এ লেখা সন্দেহাতাতীভাবে পাঠকের মন ভরে দেবে। এছাড়া সংখ্যাটিতে আরেক সফল ব্যবসায়ী ও বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্য আবুদল আওয়াল মিন্টুকে নিয়ে লেখা রয়েছে। একজন সফল ব্যবসায়ী রাত-দিন অর্থ আর ব্যবসা-বাণিজ্যের পেছনে ছুটেও কীভাবে পরিবারের প্রতি, সন্তানদের প্রতি যত্নশীল থাকতে পারেন, সন্তানদের নীতি-নৈতিকতা ও শুদ্ধাচার শিক্ষা দিতে পারেন, তা আব্দুল আওয়াল মিন্টুর চরিত্র ফুটে উঠেছে।
শেয়ার বিজ ঈদ সংখ্যায় দেশের শীর্ষস্থানীয় কোনো সাহিত্যিক বা লেখকের উপন্যাস বা ছোটগল্প নেই, এটা যেমন ঘাটতির দিক নির্দেশ করে, অন্যদিকে খ্যাতিমান লেখক আলোকিত মানুষ হিসেবে পরিচিত আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদের ‘আলোকিত জীবন ইতিবাচকতার’ সপক্ষে শিরোনামে লেখাটি শেয়ার বিজের পাঠককে উৎসাহিত করবে। এ ছাড়া এ ঈদসংখ্যায় আরেক আলোকিত মানুষ ড. এম শমশের আলীর জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন ড. আতাউর রহমান। ‘আল্লামা ড. এম শমশের আলী: জ্ঞান ও বিনয় যেখানে একাকার’ শিরোনামে লেখাটি অত্যন্ত হƒদয়গ্রাহী। জ্ঞানপিপাসু এই মানুষটি আজীবন বিজ্ঞান সাহিত্য-ধর্ম-ইতিহাস চর্চা করেছেন।
ঈদ যেমন আনন্দের, তেমনি পবিত্র ঈদের সঙ্গে ধর্মীয় বিষয়টিও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। আর এই ঈদ সংখ্যায় ধর্মদর্শন কলামে পত্রিকাটির সম্পাদক মীর মনিরুজ্জামান সুন্দরভাবে মুসলমানদের বিশ্বাসের জায়গা মহান রাব্বুল আলামীনের ওপর আস্থা রাখার চমৎকার কিছু দিক সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। আল্লাহর ওপর শতভাগ বিশ্বাস ও আস্থা রেখে কাজ করার যে সুফল, তা অত্যন্ত নিষ্ঠতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন। তার এই লেখা যেকোনো পাঠককেই আকৃষ্ট করবে, মুসলমানদের ইমান বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি এটি ঈদ সংখ্যাকেও পূর্ণতা দিয়েছে। এ ছাড়া এ সংখ্যায় ধর্মদর্শন কলামে ‘মাতৃভাষায় কোরআন জানার প্রয়োজন’ শিরোনামে আরেকটি লেখা ছাপা হয়েছে, যা মহাগ্রন্থ আল কোরআনকে জানার ও বোঝার আগ্রহ সৃষ্টি করবে। এ ছাড়া পবিত্র কোরআনের তরিকায় ব্যবসা-বাণিজ্যে মহান আল্লাহ যে বরকত দিয়ে রেখেছেন, তার উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন বিশ্বের সেরা ব্যবসায়ীরা। এটি যে আমাদের দেশের ব্যবসায়ীদের জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে, তা আজাদ ইসরাত সিরাজি তার লেখায় সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
শেয়ার বিজ ঈদ সংখ্যায় জমকালো কোনো ভ্রমণকাহিনি নেই। তবে ধর্ম দর্শন কলামে হাসান শিরাজী তার ‘কেমন হতে পারে আগামীর মসজিদ’ শিরোনামে লেখায় সে অভাব কিছুটা পূরণের চেষ্টা করেছেন। তিনি মালয়েশিয়ার একটি মসজিদের বর্ণনা দিয়েছেন। মসজিদ যে সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রস্থল হতে পারে, তার ধারণা তিনি তার লেখায় দিয়েছেন। একই সঙ্গে এ লেখায় ভ্রমণের কিঞ্চিৎ ইঙ্গিতও তিনি দিয়েছেন। এই ঈদ সংখ্যায় লেখক হাসান শিরাজি আরেকটি অধ্যায়ে পাঠকদের জন্য বরেণ্য অর্থনীতিবিদ ফরাস উদ্দীনের সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেছেন। সাক্ষাৎকারে ঈদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে। এ ছাড়া পুঁজিবাজার ও ব্যাংকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সাক্ষাৎকার এ সংখ্যায় স্থান পেয়েছে, যা থেকে পাঠকরা উপকৃত হবেন। একই অর্থনৈতিক পত্রিকা হিসেবে শেয়ার বিজের ঈদ সংখ্যাকেও পূর্ণতা দিয়েছে।
ঈদুল ফিতরের ঈদ সংখ্যা, আর রমজান সংশ্লিষ্ট কোনো লেখা থাকবে না তা হয় না। ডা. মো. তাহসিন সালামের লেখা রমজান ও ঈদের পরে স্বাস্থ্য কলামে `সুস্থ থাকার পরামর্শ’ শিরোনামে প্রতিবেদনে সে অভাব কিছুটা হলেও পূরণ হয়েছে। এ ছাড়া `ঈদযাত্রায় ঝুঁকি কমানোর প্রস্তুতি’ শিরোনামে ডা. মো. আশরাফুল হকের প্রতিবেদনে চোখ বুলালে মনের ভেতরে ‘ঈদ-ঈদ’ একটা ভাব চলে আসে, যা ঈদ সংখ্যার বাড়তি মাত্রা। শেয়ার বিজের ঈদ সংখ্যায় নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে, আছে ত্রুটি-বিচ্যুতি। তারপরও প্রসিদ্ধ কয়েকজন ব্যক্তিত্বকে ঘিরে বিভিন্ন প্রতিবেদন ঈদ সংখ্যাকে প্রাণবন্ত করেছে। আছে শিক্ষণীয় ও প্রেরণা সৃষ্টিকারী অনেক লেখা। সাদামাটা প্রচ্ছদও ভালোলাগার মতো হয়েছে। কালার কম্বিনেশনে মুনশিয়ানার ছাপ লক্ষণীয়। সবমিলিয়ে শেয়ারবিজ ঈদ সংখ্যা নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ভালো হয়েছে। পাঠক আকৃষ্ট করার মতো অনেক প্রতিবেদন এখানে রয়েছে, যা ঈদ সংখ্যাকে পূর্ণতা দিয়েছে।
