নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের সম্ভাবনাময় লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও রপ্তানিমুখী করার লক্ষ্যে আগামী সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) থেকে রাজধানীতে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী দ্বিতীয় বাংলাদেশ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এক্সপো।
আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক।
তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বিশ্বব্যাংক সমর্থিত এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস (ইসিজে) প্রকল্পের সহযোগিতায় ঢাকার শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে ২ থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই এক্সপো অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
২ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র প্রাইভেট সেক্টর স্পেশালিস্ট হোসনা ফেরদৌস সুমি এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও ইসিজে প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রহিম খান।
এক্সপোতে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, শিল্প ও বাণিজ্য সংগঠনের প্রতিনিধি, দেশি-বিদেশি ক্রেতা, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা অংশ নেবেন। মেলায় কনস্ট্রাকশন ও প্যাকেজিং মেশিনারি, কৃষিযন্ত্র, বৈদ্যুতিক পণ্য, জুট ও টেক্সটাইল যন্ত্রাংশ, অটোমোবাইল কম্পোনেন্টস, ডাই ও মোল্ডসহ বিভিন্ন শিল্পপণ্য প্রদর্শিত হবে। পঞ্চাশটিরও বেশি বুথে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবন ও উৎপাদন সক্ষমতা তুলে ধরা হবে।
লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে আবদুর রাজ্জাক বলেন, কৃষি, টেক্সটাইল, নির্মাণ, বিদ্যুৎ, অটোমোবাইল ও গৃহস্থালি যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন শিল্পের জন্য এই খাত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ হিসেবে কাজ করছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৫০ হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে তিন লাখের বেশি দক্ষ কর্মী কাজ করছেন। জাতীয় জিডিপিতে এ খাতের অবদান প্রায় তিন শতাংশ।
তিনি জানান, দেশের প্রায় ৮.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় অর্ধেক এই শিল্পের মাধ্যমে পূরণ হচ্ছে। বর্তমানে তিন হাজার ৮০০-এর বেশি ধরনের যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ, ডাই ও মোল্ড দেশে উৎপাদিত হলেও এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা এই খাতে সম্প্রসারণের বড় সুযোগ নির্দেশ করে।
বিশ্ববাজারে প্রায় সাত ট্রিলিয়ন ডলারের ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের বাজারে বাংলাদেশের অংশ এক শতাংশেরও কম উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের রপ্তানি প্রায় ৭৯৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যথাযথ নীতি সহায়তা, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে ১২.৫৬ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।
এক্সপোকে শুধু প্রদর্শনী নয়, কার্যকর সোর্সিং ও নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে নির্মাতা, ক্রেতা, সরবরাহকারী, বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরি হবে, যা প্রযুক্তি হস্তান্তর ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ সহজ করবে।
এক্সপো চলাকালে দুটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। একটি সেমিনারে এলডিসি উত্তরণের পর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা মোকাবিলার কৌশল এবং অন্যটিতে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাত উন্নয়নে গবেষণা ও উদ্ভাবনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হবে।
খাতটির টেকসই উন্নয়নে নীতিগত সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে আবদুর রাজ্জাক বলেন, আন্তর্জাতিক মানের রপ্তানি সক্ষমতা অর্জনে কমপ্লায়েন্সসম্মত কারখানা গড়ে তোলা জরুরি। এজন্য বিশেষায়িত লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং জোন প্রতিষ্ঠা, কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক হ্রাস, সহজ আমদানি সুবিধা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে সরকারি সহায়তার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ফিনিশড গুড আমদানিতে যেখানে শুল্ক এক শতাংশ, সেখানে একই পণ্যের কাঁচামাল আমদানিতে সর্বোচ্চ ৫৭ শতাংশ শুল্ক রয়েছে, যা বৈষম্যমূলক। দ্রুত এই বৈষম্য নিরসনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি আব্দুর রশিদ, সহ-সভাপতি রাজু আহমেদসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় পরিচালক এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইসিজে প্রকল্পের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রিন্ট করুন







Discussion about this post