নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এর মাধ্যমে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। স্বর্ণের দাম বাড়ার ফলে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম গিয়ে ঠেকেছে দুই লাখ ৬৯ হাজার ৭৮৮ টাকায়। গতকাল বুধবার সকালে বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের এক সভায় নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে সারাদেশে নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি (পিওর) স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব বিবেচনায় এনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দুই লাখ ৫৯ হাজার ৮১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি দুই লাখ ২০ হাজার ৭৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক লাখ ৮১ হাজার ৭২৫ টাকায় বিক্রি হবে।
এদিকে, স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামেও নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে সাত হাজার ৭৫৬ টাকা। ২১ ক্যারেট রুপার দাম সাত হাজার ৪০৬ টাকা ও ১৮ ক্যারেটের ছয় হাজার ৩৫৬ টাকা করা হয়েছে। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ হাজার ১৪৩ টাকা।
স্বর্ণ ও রুপা বিক্রির ক্ষেত্রে ক্রেতাদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট আদায় করে তা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে হবে বলে ওই বিজ্ঞপ্তি জানানো হয়।
স্বর্ণের দামে টানা ঊর্ধ্বগতি বাজারে স্পষ্ট প্রভাব ফেলছে। জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম বাড়ায় ক্রেতাদের আগ্রহ কমছে, বিশেষ করে বিয়ের মৌসুম ও সামাজিক অনুষ্ঠানে স্বর্ণালঙ্কারের চাহিদা আগের তুলনায় অনেকটাই কম। অনেক ক্রেতা প্রয়োজনীয় কেনাকাটাও পিছিয়ে দিচ্ছেন।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের রেকর্ড উত্থান, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার-সব মিলিয়েই দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরও চাপে রয়েছে।
স্বর্ণের দামের এ ঊর্ধ্বগতি আগামী দিনে কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়-সেদিকেই এখন নজর বাজার সংশ্লিষ্টদের।
প্রিন্ট করুন



Discussion about this post