মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি : মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অভিযান পরিচালনার সময় আকুব্বর মোল্যা (৩৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় পরিণত হয়েছে রণক্ষেত্র মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নে। নিহতের পরিবার দাবি করছে , তাকে ঘুম থেকে তুলে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ডিএনসির কর্মকর্তারা দাবি করছে, গ্রেপ্তার করার পর ওই ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এই ঘটনা নিয়ে এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে ডিএনসি সদস্যদের ওপর হামলা করে তিনজনকে আহত করেছে।
১২ এপ্রিল( রোববার)বেলা ১১টার দিকে বিনোদপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জোসনা বেগম নিহতের স্ত্রী অভিযোগ করেছেন, তার স্বামী ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। ডিএনসির সদস্যরা ঘরে ঢুকে ঘুম থেকে ডেকে হ্যান্ডকাফ পরান এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মো. সাদ্দাম হোসেন ও শাবানাসহ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীও একে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন।
ডিএনসির উপপরিদর্শক (এসআই) সাহারা ইয়াসমিন মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে এবং তাঁরা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১১ সদস্যের একটি দল ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করে।
তিনি বলেন, ‘আকুব্বরকে গ্রেপ্তারের পর তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। মানবিক কারণে আমরা হ্যান্ডকাফ খুলে দিই। কিন্তু আমরা বাইরে আসার পর শুনি তিনি আরও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সাহারা ইয়াসমিন দাবি করেন, অভিযানের পুরো ভিডিও ফুটেজ তাদের কাছে সংরক্ষিত আছে, যেখানে মারধরের কোনো প্রমাণ নেই।
আকুব্বরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে ডিএনসির সদস্যদের ধাওয়া করে। এ সময় উত্তেজিত জনতার হামলায় ডিএনসির তিন কর্মী আহত হন এবং তাদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। আহতদের মধ্যে মিঠুন ব্যাপারী নামে এক সিপাহিকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে মহম্মদপুর থানা পুলিশ ও ডিবি ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আকুব্বরকে মাগুরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘ডিএনসির সদস্যরা নিহতের কাছ থেকে গাঁজা উদ্ধারের কথা স্বীকার করেছেন। নিহত ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
