প্রতিনিধি, দিনাজপুর : দিনাজপুরের হিলিতে বাণিজ্যিকভাবে মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ শুরু করেছেন মো. জাকারিয়া নামের এক কৃষক। তিনি ২০ শতক জমিতে প্রথমবারের মতো মালচিং পদ্ধতিতে এই টমেটো চাষ করেন। চারা রোপণের পর ৬৫ দিনের মাথায় ফলন পেতে শুরু করেছেন তিনি। প্রতি চারদিন পর পর সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ কেজি টমেটো উত্তোলন করছেন জাকারিয়া। এই টমেটো চাষে তার ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। আর বিক্রির আশা করছেন ১ লাখ টাকা। এই মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ দেখতে প্রতিনিয়ত ভিড় করছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী বলছেন, দিনাজপুর জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা হাকিমপুরে দিন দিন বেড়েই চলেছে বাণিজ্যিকভাবে মালচিং পদ্ধতিতে বিভিন্ন সবজির চাষাবাদ। তবে এইবার উপজেলার মাধবপাড়া গ্রামের কৃষক জাকারিয়া মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। প্রথমবারের মতো চাষ করে তিনি লাভবান হয়েছেন। তার দেখাদেখি আগামীতে এই মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ করার কথা জানিয়েছেন এলাকার অনেকেই।
উদ্যোক্তা জাকারিয়া হোসেন বলেন, ২০ শতাংশ জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে দুই মাস আগে টমেটো চারা রোপণ করেন। রোপণের ৬৫ দিনের মাথায় তিনি ফসল ঘরে তুলতে শুরু করেছেন। এ পর্যন্ত তিনি জমি থেকে ৫০ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করেছেন। তার এই জমিতে টমেটো চাষে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৩০ হাজার টাকা। তিনি বলেন, ক্ষেত থেকে আরও ৫০ হাজার টাকার টমেটো তিনি তুলতে পারবেন। অর্থাৎ মোট ১ লাখ টাকার টমেটো বিক্রির আশা করছেন তিনি।
মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদে সার কীটনাশক কম লাগে তাই কম খরচে অধিক লাভবানের আশায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই চাষাবাদ। জাকারিয়ার মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে বেশ কয়েকজন যুবকের। তাছাড়া এই পদ্ধতিতে চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে পরামর্শ নিতে প্রতিনিয়ত ভিড় করছেন এলাকাবাসী।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আরজেনা বেগম বলেন, মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদের জন্য জাকারিয়াকে সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মালচিং পদ্ধেিত চাষাবাদে পোকামাকড়ের আশঙ্কা কম থাকে এবং ফলনও ভালো হয়। যার কারণে আমরা কৃষকদের এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে উদ্বুদ্ধ করি।
প্রিন্ট করুন





Discussion about this post