Print Date & Time : 20 May 2026 Wednesday 2:36 pm

১০-১২ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি সম্ভাবনা চামড়া শিল্পে: শিল্পমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের চামড়া শিল্পে ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এই সম্ভাবনাময় খাতকে অবহেলা করা যাবে না। যথাযথ পরিকল্পনা, পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে চামড়া শিল্প দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

আজ রোববার (১৭ মে) শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, গবেষক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে চামড়া শিল্প খাতের উন্নয়ন ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে গঠিত টাস্কফোর্সের নবম সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন শেখ ফরিদুল ইসলাম, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংক, পরিবেশ অধিদপ্তর, বেজা, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (রেপিড) এবং চামড়া শিল্প মালিকদের সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, “চামড়া খাত ১০-১২ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি সম্ভাবনাময় একটি খাত। এখানে অর্থ বিনিয়োগ করলে প্রচুর রিটার্ন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, এই খাতে ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করলে ৫০০ থেকে ১ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।

তিনি জানান, হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের সময় যথাযথ পরিকল্পনার অভাব ছিল। ফলে স্থানান্তর কার্যক্রম পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। অনেক কারখানাই সাভারে স্থানান্তরিত হয়নি এবং পরিবেশগত মান বজায় রাখতেও ঘাটতি রয়ে গেছে।

মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি চামড়া পণ্যের যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়ার অন্যতম কারণ হলো কমপ্লায়েন্সের অভাব। দেশে উৎপাদিত চামড়ার মাত্র দশমিক ২৬ শতাংশ রপ্তানি হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই রপ্তানি অন্তত ২০ গুণ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিদেশি ক্রেতারা ‘নন-কমপ্লায়েন্ট’ কারখানার পণ্য কিনতে আগ্রহ দেখান না। তাই পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করে আধুনিক চামড়া শোধনাগার গড়ে তোলা জরুরি। এজন্য সাভারের সেন্ট্রাল এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি) পুরোপুরি কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, “সিইটিপিকে শতভাগ কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে। প্রয়োজনে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া হবে।”

সভায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে বাংলাদেশের চামড়া শিল্প নিয়ে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। বিশেষ করে বনভূমি দখল করে ট্যানারি স্থাপনের অভিযোগে ইউরোপীয় ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে চামড়া কিনতে অনাগ্রহী। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা ও পরিবেশগত ছাড়পত্র নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

এ সময় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পের পর চামড়া শিল্প বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত হতে পারে। তবে পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করেই এ খাতকে এগিয়ে নিতে হবে।