Print Date & Time : 30 April 2026 Thursday 5:31 pm

১৩২ কোটি প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর সম্মতি বিএসইসির

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন প্রতিষ্ঠান পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড বিদ্যুৎ বিভাগের অনুকূলে ১৩২ কোটি ৪২ লাখ ৯৪ হাজার ৭৬৪টি অগ্রাধিকারমূলক (প্রেফারেন্স) শেয়ার ইস্যুর জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সম্মতি পেয়েছে। প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং শেয়ার মানি ডিপোজিটের বিপরীতে এসব শেয়ার ইস্যু করা হবে।

কোম্পানিটি বিদ্যুৎ বিভাগের কাছ থেকে ১ হাজার ৩২৪ কোটি ২৯ লাখ ৪৭ হাজার ৬৪০ টাকা ‘ডিপোজিট ফর শেয়ার’ হিসেবে নিয়ে ব্যবসা করেছে, যা ৩০ জুন ২০২৪ পর্যন্ত জমা ছিল। এর আগে ২০২২-২৩ হিসাববছর পর্যন্ত জমাকৃত ২ হাজার ৫০৫ কোটি ৪০ লাখ ৪৯ হাজার ৭৬০ টাকার বিপরীতে ২৫০ কোটি ৫৪ লাখ ৪ হাজার ৯৭৬টি প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুরও সম্মতি পেয়েছিল পিজিসিবি।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ হিসাববছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ২২ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ দশমিক ৫৫ টাকা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) হয়েছে ১৪৮ দশমিক ৩৬ টাকা।

তবে সর্বশেষ কয়েকটি হিসাব বছরে কোম্পানিটি লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি। ২০২৪-২৫ হিসাববছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২ দশমিক ৩০ টাকা এবং ২০২৩-২৪ হিসাববছরে লোকসান ছিল ৫ দশমিক ০১ টাকা।

বিগত কয়েক বছরের পারফরম্যান্স পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি লোকসানের বৃত্তে ছিল। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ এবং ২০২৩-২৪ হিসাববছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। গত অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২ টাকা ৩০ পয়সা এবং তার আগের বছর লোকসান ছিল ৫ টাকা ১ পয়সা। যদিও ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৮ টাকা ৮৯ পয়সা লোকসান সত্ত্বেও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল পর্ষদ। বর্তমানে কোম্পানিটির পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা।

২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পাওয়ার গ্রিডের অনুমোদিত মূলধন ১৫ হাজার কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৯১৩ কোটি ৮০ লাখ ৭০ হাজার টাকা। পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ ১ হাজার ৪৮৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। মোট শেয়ারসংখ্যা ৯১ কোটি ৩৮ লাখ ৬ হাজার ৯৯১। এর ৫৮ দশমিক ৫০ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া সরকারের কাছে ২২, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১৪ দশমিক ৫৬, বিদেশি বিনিয়োগকারী দশমিক শূন্য ১ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।