শেয়ার বিজ ডেস্ক : ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের চাপ সামলে ২০২৫ সালে বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে চীন। গতকাল বুধবার প্রকাশিত দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত বা ট্রেড সারপ্লাস রেকর্ড ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। মূলত বছরের শেষ দিকে, বিশেষ করে ডিসেম্বরে রপ্তানি আয়ের অপ্রত্যাশিত ঊর্ধ্বমুখী প্রবৃদ্ধির কারণেই এই বিশাল অর্থনৈতিক মাইলফলক অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।
চীনের কাস্টমস প্রশাসনের তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫ সালে বেইজিংয়ের মোট রপ্তানি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিপরীতে আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় অপরিবর্তিত, যার মোট অর্থমূল্য ২ দশমিক ৫৮ ট্রিলিয়ন ডলার। ফলে বছর শেষে দেশটির বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৯২ বিলিয়ন ডলার, যা সামগ্রিক হিসাবে ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের রেকর্ড স্পর্শ করেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডিসেম্বরে রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ, যা নভেম্বরের ৫ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি। একই সময়ে আমদানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির বিরুদ্ধে বাণিজ্য যুদ্ধ জোরদার করেছেন। এর ফলে মার্কিন বাজারে চীনের রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
তবে বেইজিং অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এই ধাক্কা সামলে নিয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা এবং ইউরোপের বাজারে চীনা পণ্যের বিক্রি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। চীন বিষয়ক অর্থনীতিবিদ জ্যাকলিন রং বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ২০২৬ সালেও রপ্তানি খাত চীনের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।’
মূলত কম্পিউটার চিপ, ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং এগুলো তৈরির প্রয়োজনীয় কাঁচামালের বিশ্বব্যাপী ব্যাপক চাহিদা চীনের রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। এই শক্তিশালী রপ্তানি আয়ের ওপর ভর করে বেইজিং তাদের বার্ষিক পাঁচ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি থাকতে সক্ষম হয়েছে। তবে সস্তা চীনা পণ্যের প্লাবনে স্থানীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় অনেক দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও ভোগব্যয় বাড়াতে বেইজিং ভর্তুকি দিয়ে পুরোনো যন্ত্রপাতি ও যানবাহন বদলে নতুন এবং জ্বালানিসাশ্রয়ী পণ্য ক্রয়ে উৎসাহিত করছে, যদিও এর প্রভাব এখনো খুব একটা দৃশ্যমান নয়। চীনের কাস্টমস প্রশাসনের ভাইস মিনিস্টার ওয়াং জুন সতর্ক করে বলেছেন, ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবেশ ‘কঠিন ও জটিল’ হতে পারে।
তবে তিনি আশাবাদী যে, চীনের বৈদেশিক বাণিজ্যের মৌলিক ভিত্তি বা ফান্ডামেন্টালস অত্যন্ত শক্তিশালী ও স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে। এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বৈদ্যুতিক গাড়ির শুল্ক নিয়ে চলমান উত্তেজনা কমার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। ব্রাসেলস নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে, যা চীনা উৎপাদকদের জন্য সহায়ক হতে পারে এবং এটি ভবিষ্যতের বাণিজ্যের জন্য একটি ইতিবাচক দিক।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post