নুরুন্নাহার চৌধুরী কলি : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান আগের সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ৩৩৫.৭১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০০০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ। বর্তমানে কোম্পানিটি জেড ক্যাটেগরিতে রয়েছে। গতকাল সোমবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
তথ্য মতে, কোম্পানির চলতি অর্থবছরের ছয় মাস বা অর্ধবার্ষিকে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে (০.৬১) টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল (০.১৪) টাকা। এ হিসাবে আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি লোকসান বেড়েছে ০.৪৭ টাকা বা ৩৩৫.৭১ শতাংশ।
আলোচ্য সময়ে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো দাঁড়িয়েছে ০.৩৪ হয়েছে টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানির ঋণাত্মক শেয়ারপ্রতি নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো ছিল (১.১৮) টাকা। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৯.৯৪ টাকা।
এ বিষয়ে মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কোম্পানি সচিব মো. ওমর ফারুক শেয়ার বিজকে বলেন, ‘বর্তমানে উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় পণ্যের বিক্রয়মূল্য কম থাকায় কোম্পানির লোকসান কিছুটা বেড়েছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা উৎপাদন খরচ কমানো, কার্যক্রম আরও দক্ষ করা এবং বাজার সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছি। আশা করছি, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ধীরে ধীরে লোকসান কাটিয়ে কোম্পানিকে টেকসই মুনাফার পথে ফেরানো সম্ভব হবে।’
এদিকে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজের পুরো ব্যবসা বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) সঙ্গে। কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত হিসাব বছরে ৩৫ কোটি টাকা বিক্রির একমাত্র ক্রেতা ছিল বিসিআইএসি। বিসিআইসি কোম্পানিটির ২০ শতাংশ শেয়ারেরও মালিক। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান এসএফ আহমেদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানির ৩৫ কোটি টাকার টার্নওভার পুরোপুরি বিসিআইসি থেকেই এসেছে। মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ মূলত পলিপ্রোপাইলিন ওভেন ব্যাগ, ওয়্যারহাউসিং প্যাকেজিং এবং ফ্লেক্সিবল ইন্টারমিডিয়েট বাল্ক কনটেইনার উৎপাদন করে। এসব পণ্য সার, রাসায়নিক ও শিল্প খাতে ব্যবহƒত হয়। বিসিআইসির বিভিন্ন কারখানায় এসব পণ্য সরবরাহ করা হয়।
আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যেখানে কোম্পানির বিক্রি ছিল ৩৫ কোটি টাকা, সেখানে উৎপাদন খরচ ছিল ৩৬ কোটি টাকা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সুদ ব্যয় সাড়ে ৫ কোটি টাকা। দীর্ঘ সময় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ বা সীমিত থাকার প্রভাবও আর্থিক চাপে ভূমিকা রেখেছে। ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ইউনিট-১ পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এর কারণ হিসেবে করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন এবং ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের প্রভাবকে দায়ী করেছে। এছাড়া ব্যাংকিং সুবিধা ও কার্যকর মূলধনের অভাবে ইউনিট-২ আংশিক বা সীমিত উৎপাদন হয়েছে।
কোম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে কারখানা সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ শেষে উৎপাদন পুনরায় শুরু হলেও ২০২৪ সালের ৬ জুন পর্যন্ত ব্যাংকিং সুবিধা না থাকায় উৎপাদন ও বিক্রি সীমিত ছিল। এ সময় বিসিআইসি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ধাপে ধাপে পণ্য কেনা শুরু করে।
