Print Date & Time : 25 April 2026 Saturday 1:45 am

৩৩ বলে সেঞ্চুরি! ফিন অ্যালেনের ঝড়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে নিউ জিল্যান্ড

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে অবিশ্বাস্য এক ইনিংস খেলে ক্রিকেটপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছেন নিউজিল্যান্ডের বিস্ফোরক ওপেনার ফিন অ্যালেন। কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেন্সে মাত্র ৩৩ বলে শতরান করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দলকে জয় এনে দেন তিনি। তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে নিউজিল্যান্ড।

তবে নিজের রেকর্ডগড়া ইনিংসকে নয়, বরং দলের বোলারদের পারফরম্যান্সকেই জয়ের মূল চাবিকাঠি হিসেবে দেখছেন অ্যালেন। একই সঙ্গে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ খেলার অভিজ্ঞতাও এই সাফল্যের অন্যতম কারণ বলে মনে করেন তিনি।

ইডেন গার্ডেন্সের ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে ফিন অ্যালেন যেন একাই ম্যাচের চিত্র বদলে দেন। মাত্র ৩৩ বলেই শতরান পূর্ণ করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম শতরানের রেকর্ড গড়েন এই কিউই ব্যাটার।

তাঁর ইনিংস ছিল বিধ্বংসী। ৩০০-র বেশি স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের একেবারে অসহায় করে দেন। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় নিউজিল্যান্ড।

অ্যালেনের এই ইনিংস শুধু দলকে জয়ই দেয়নি, বরং ক্রিকেট বিশ্বকে নতুন এক রোমাঞ্চকর মুহূর্ত উপহার দিয়েছে।

ম্যাচ জয়ের পরেও নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে খুব বেশি কথা বলতে চাননি অ্যালেন। বরং তিনি বারবার প্রশংসা করেছেন দলের বোলারদের।

ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে আমাদের বোলাররা শুরুটা অসাধারণ করেছিল। শুরুতেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে ওরা ম্যাচের গতি আমাদের দিকে ঘুরিয়ে দেয়।

তার মতে, এমন পিচে শুরুতেই উইকেট তুলে নেওয়া গেলে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা অনেক সহজ হয়ে যায়। বোলারদের সেই দারুণ সূচনার ফলেই ব্যাটারদের কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়।

অ্যালেন আরও জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের আগে ভারতের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলাটা নিউজিল্যান্ডের জন্য বড় সুবিধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্বকাপের আগে আমরা ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজ খেলেছিলাম। সেই সিরিজ আমাদের জন্য বড় প্রস্তুতি ছিল। ভারতের পিচ সম্পর্কে তখনই আমরা ভালো ধারণা পেয়ে গিয়েছিলাম।

ভারতের মাটিতে খেলার অভিজ্ঞতা বিশ্বকাপে দলের পারফরম্যান্সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন তিনি।

কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেন্সে এই প্রথম খেলতে নেমেছিলেন ফিন অ্যালেন। প্রথম ম্যাচেই রেকর্ড গড়ে তিনি দারুণ খুশি।

তিনি বলেন, ইডেনের পিচ ব্যাটিংয়ের জন্য খুব ভালো ছিল। এখানে প্রথমবার খেললাম এবং সত্যিই দারুণ লাগল।

ভারতের কালো মাটির উইকেটে আগে খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় পিচ সম্পর্কে একটা ধারণা ছিল বলেও জানান তিনি।

সেমিফাইনালে শতরান করার পর নিজের পরিবারের কথাও ভুলে যাননি অ্যালেন। বিশেষ করে বাবা-মায়ের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

অ্যালেন বলেন, আমি নিশ্চিত আমার বাবা-মা পুরো ম্যাচ দেখেছেন। আশা করি আমার এই ইনিংস তাদের গর্বিত করেছে।

তিনি আরও বলেন, নিউজিল্যান্ডের মানুষ সবসময় দলের পাশে থাকে এবং ফাইনালেও তারা সমর্থন জানাবে।

ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ায় নিউজিল্যান্ডের সময় অনুযায়ী ম্যাচগুলো অনেক রাত বা ভোরে হয়। তবুও দেশের মানুষ দলকে সমর্থন করতে পিছপা হচ্ছে না।

অ্যালেন বলেন, সময়ের কারণে সবার পক্ষে ম্যাচ দেখা সহজ নয়। তবুও অনেকেই ট্যাব বা মোবাইলে খেলা দেখছেন। ফাইনাল দেখার জন্য অনেকেই হয়তো কাজ থেকেও ছুটি নেবেন।

এই সমর্থন দলের জন্য বড় অনুপ্রেরণা বলেও জানান তিনি।

ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ভারতীয় দল। ভারতের বিপক্ষে খেলাটা যে সহজ হবে না, সেটাও স্বীকার করেছেন অ্যালেন।

তিনি বলেন, ফাইনাল সবসময়ই কঠিন ম্যাচ। আমরা পরিস্থিতি বুঝে সাধারণ ক্রিকেট খেলতে চাই।

ভারত ও ইংল্যান্ড—দুই দলের বিরুদ্ধেই আগে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে নিউজিল্যান্ডের। তাই প্রতিপক্ষের কৌশল সম্পর্কে কিছুটা ধারণা আছে বলেও জানান তিনি।

২৬ বছর বয়সী এই ওপেনার মনে করেন, ফাইনালে সঠিক পরিকল্পনা ও ধৈর্যই সবচেয়ে বড় বিষয়।

তিনি বলেন, ফাইনাল কোনো ক্লাব ক্রিকেটের ম্যাচ নয়। এখানে প্রতিটি সিদ্ধান্ত খুব গুরুত্বপূর্ণ।

সেমিফাইনালের আত্মবিশ্বাস নিয়েই ফাইনালে নামতে চায় নিউজিল্যান্ড। দল হিসেবে একসঙ্গে লড়াই করলেই ভালো ফল পাওয়া সম্ভব বলে বিশ্বাস করেন অ্যালেন।

ফিন অ্যালেনের ঝড়ো ইনিংসের পর এখন ক্রিকেট বিশ্ব তাকিয়ে আছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের দিকে। একদিকে শক্তিশালী ভারত, অন্যদিকে আত্মবিশ্বাসী নিউজিল্যান্ড।

দুই দলের এই লড়াই যে দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ হতে চলেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন অপেক্ষা করছেন বিশ্বকাপের নতুন চ্যাম্পিয়ন দেখার জন্য।