Print Date & Time : 4 May 2026 Monday 8:43 am

৪০ কোটি টাকা কর ফাঁকি, চসিকে দুদকের অভিযান

চট্টগ্রাম অফিস : দুটি প্রতিষ্ঠানের পৌরকরের নথিতে দুটি ‘২’ ঘষামাজা করে মুছে চসিকের ৪০ কোটি টাকা পৌরকর ফাঁকির অভিযোগ তদন্তে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের টিম টাইগারপাসের চসিক কার্যালয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এই অভিযান চালায়। এ সময় দুদক কর্মকর্তারা নথি পর্যালোচনা ও চসিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

সূত্র জানায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের পৌরকর নির্ধারণের বার্ষিক  মূল্যায়নে ইছহাক ব্রাদার্সের হোল্ডিংয়ের বিপরীতে ২৬ কোটি ৩৮ লাখ  টাকার স্থলে আপিল রিভিউ বোর্ডে উপস্থাপনের সময় ২০ কোটি টাকা কম দেখানো হয়।

ইনকনট্রেন্ড ডিপোতে ২৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকার পৌরকর আপিল রিভিউ বোর্ডে দেখানো হয় ৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। উভয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ২৬ ও ২৫ কোটির এর দুই মুছে দেয়া হয়। এতে কম যায় ২০ কোটি টাকা করে ৪০ কোটি টাকা।

দুদকের সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিক তদন্তে দেখেছি নথিতে ঘষামাজা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের মালিকেরও যোগসাজশ রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। যেহেতু তারা বেনিফিশিয়ারি। সিগনেচার এক্সপার্টদের মতামত নেয়া হবে। বিস্তারিত তদন্তে ব্যাংকিং হিসাব তদন্ত করা হবে।

চসিকের সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, ২০১৭-১৮ সালে চসিকের শেষ অ্যাসেসমেন্টকে ভিত্তি করে দুই কনটেইনার ডিপোতে অনিয়মটা হয়েছে। ২৬ কোটি এবং ২৫ কোটিকে ঘষামাজা করে ৬ কোটি ও ৫ কোটি দেখানো হয়েছে। একজন টিও এবং দুজন ডিটিও সরাসরি দায়ী ছিলেন। হিসাব সহকারীরা বিষয়টি জানতেন। কর্মরত দুজনকে সাসপেন্ড করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

হিসাব সহকারীদের ওএসডি করেছি। তাদেরও ১০ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হয়েছে। নোটিশের জবাব দেয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থায় চলে যাব। একজন অবসর নিয়েছেন। অবসরোত্তর বেনিফিটগুলো স্থায়ীভাবে স্থগিত করেছি। ক্ষতি নির্ধারণের বিষয় ছিল।

সরকারি অন্য কোনো সংস্থা অন্য কোনো ব্যবস্থা নিলে আমরা

সহযোগিতা করবো। ২০২৩ সালে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। রিপোর্ট আসার সঙ্গে সঙ্গে মেয়র ব্যবস্থা নিয়েছেন। তিনি বিভাগীয় প্রধানদের নিয়মিত পরিদর্শনের নির্দেশনা দিয়েছেন। রিভিউ বোর্ডের আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে প্রতিষ্ঠান দুটির ২৬ কোটি ও ২৫ কোটি ধরে পুনরায় আদায় করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।