সম্পাদকীয়

মিল্ক ভিটায় প্রান্তিক খামারিদের বঞ্চনা

মিল্ক ভিটায় প্রক্রিয়াকৃত দুধের দাম ভোক্তা পর্যায়ে সম্প্রতি লিটারপ্রতি তিন টাকা বাড়ানো হলেও খামারিদের ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টো; প্রতি লিটারে দাম কমানো হয়েছে এক টাকা। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শেয়ার বিজকে যদিও বলেছেন, এই দাম কমানো সাময়িক; কিন্তু তার বক্তব্যে আশ্বস্ত হওয়া যায় না। কারণ প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠান মিল্ক ভিটা এবং এর বিপণনের সঙ্গে যুক্তরা যদি দাম বৃদ্ধির সুবিধা পেতে পারে, তাহলে প্রান্তিক খামারিদের বঞ্চিত করা হবে কেন? আমরা জানি, পণ্যের দাম নির্ধারিত হয় বাজারের নিয়ম মেনে চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে।

উল্লেখ্য, শীত এলে দেশে দুধের চাহিদা যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি বাড়ে উৎপাদন। এ অবস্থায় উভয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকলে ‘সাময়িকভাবে’ দুধের দাম বাড়ানোর সঙ্গত কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। প্রশ্ন ওঠে, কী কারণে তাহলে এখন বাড়ানো হলো মিল্ক ভিটার দুধের দাম? প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান অবশ্য যুক্তি দিয়েছেন, ৪০ বছর যাবত চলে আসছে এ ধারা। তিনি তা অনুসরণ করেছেন মাত্র। কথা হলো, পশুখাদ্যসহ অন্যান্য পণ্যের দাম যখন বাড়ছে, তখন ক্রয়মূল্য কমিয়ে খামারিদের ক্ষতিগ্রস্ত করার কী যুক্তি রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির?

কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তে সিংহভাগ খামারি যে নাখোশ হয়েছেন, তা বলা বাহুল্য। শেয়ার বিজের কাছে দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতির এক নেতার বক্তব্যেও ঘটেছে এর প্রতিফলন। বস্তুত খামারিদের দুধের দাম কম দেওয়ার প্রবণতা দেশে নতুন নয়। এ উপলক্ষে দেশে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনও হতে আমরা দেখেছি। তখন ক্ষুব্ধ খামারিদের শান্ত করতে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল ‘যুক্তিসংগত দাম’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। প্রশ্ন হলো, উৎপাদনকারী, প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠান, বাজারজাতকারী ও ভোক্তা পর্যায়ে সর্বশেষ এ দুধের দাম যেভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, তাও কি যুক্তিসঙ্গত? যদি সরবরাহ ও অন্যান্য অবস্থা স্বাভাবিক থাকে, তাহলে ভোক্তা পর্যায়েইবা কেন দাম প্রতি লিটারে তিন টাকা বাড়াতে হবে? মনে রাখা দরকার, এতে প্রক্রিয়াকৃত দুধের ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীও হবেন ক্ষতিগ্রস্ত।

নতুন দাম নির্ধারণকে ‘সাময়িক’ বলতে মিল্ক ভিটার চেয়ারম্যান ঠিক কত সময় বুঝিয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। আমরা মনে করি, এ সিদ্ধান্ত খুব শিগগির পুনর্বিবেচনা করা উচিত। কারণ খামারিদের বেশি সময় অসন্তুষ্ট রাখা হলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে উৎপাদন ও সরবরাহে। এতে সরবরাহ সংকটে পণ্যের দাম আরও বেড়ে ওঠার শঙ্কা। দাম যদি পুনর্নির্ধারণ করতেই হয়, সেটা হওয়া উচিত উৎপাদনকারী, প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠান, বাজারজাতকারী, ভোক্তা সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে। উল্লিখিত ক্ষেত্রে উৎপাদনকারীদের দাম নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় রাখা হয়েছিল বলে মনে হয় না। বিক্রেতাদের মতো তাদের বক্তব্যও শোনা উচিত মিল্ক ভিটা কর্তৃপক্ষের। এতে উল্লিখিত সমস্যার সমাধান যেমন সম্ভব, তেমনি সম্ভব বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা।

মিল্ক ভিটার খামারিরা দুধ উৎপাদন করেন সমবায়ের ভিত্তিতে। চাইলেও অন্য কারও কাছে এটি বিক্রি করা সম্ভব নয় তাদের পক্ষে। এ পরিস্থিতিতে সমস্যা থেকে যায় বাড়তি দাম পাওয়ার ক্ষেত্রেও। প্রতিবেদনেই উল্লেখ করা হয়েছে, মিল্ক ভিটা দাম কমালে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও অনুসরণ করে এ ধারা। উৎপাদনকারীদের জন্য এটা যে এক বড় সমস্যা, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এক্ষেত্রে মনে রাখা দরকার, প্রতিষ্ঠানটির দুধ উৎপাদনের সঙ্গে শুধু এক লাখ ২৪ হাজার মানুষ যুক্ত ননÑতাদের পরিবারও। এদের অসন্তুষ্ট রেখে বাজারজাতে মধ্যস্তরে যুক্তদের খুশি করার সিদ্ধান্ত সুবিবেচনাপ্রসূত নয়। অতীতে এ পর্যায়ে দাম নির্ধারণ ঘিরে যত নেতিবাচক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে দেখেছি, আমরা তার পুনরাবৃত্তি চাই না। আমাদের বক্তব্য হলো, কোনো কারণে এ সময়ে দুধের দাম যদি বাড়াতেই হয়, তাহলে এর সুবিধা খামারিদেরও পেতে দেওয়া উচিত। কেউ সুফল পাবে আর কেউ বঞ্চিত হবে, এ নীতি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

 

হওয়া উচিত উৎপাদনকারী, প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠান, বাজারজাতকারী, ভোক্তা সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে। উল্লিখিত ক্ষেত্রে উৎপাদনকারীদের দাম নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় রাখা হয়েছিল বলে মনে হয় না। বিক্রেতাদের মতো তাদের বক্তব্যও শোনা উচিত মিল্ক ভিটা কর্তৃপক্ষের। এতে উল্লিখিত সমস্যার সমাধান যেমন সম্ভব, তেমনি সম্ভব বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা।

মিল্ক ভিটার খামারিরা দুধ উৎপাদন করেন সমবায়ের ভিত্তিতে। চাইলেও অন্য কারও কাছে এটি বিক্রি করা সম্ভব নয় তাদের পক্ষে। এ পরিস্থিতিতে সমস্যা থেকে যায় বাড়তি দাম পাওয়ার ক্ষেত্রেও। প্রতিবেদনেই উল্লেখ করা হয়েছে, মিল্ক ভিটা দাম কমালে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও অনুসরণ করে এ ধারা। উৎপাদনকারীদের জন্য এটা যে এক বড় সমস্যা, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এক্ষেত্রে মনে রাখা দরকার, প্রতিষ্ঠানটির দুধ উৎপাদনের সঙ্গে শুধু এক লাখ ২৪ হাজার মানুষ যুক্ত ননÑতাদের পরিবারও। এদের অসন্তুষ্ট রেখে বাজারজাতে মধ্যস্তরে যুক্তদের খুশি করার সিদ্ধান্ত সুবিবেচনাপ্রসূত নয়। অতীতে এ পর্যায়ে দাম নির্ধারণ ঘিরে যত নেতিবাচক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে দেখেছি, আমরা তার পুনরাবৃত্তি চাই না। আমাদের বক্তব্য হলো, কোনো কারণে এ সময়ে দুধের দাম যদি বাড়াতেই হয়, তাহলে এর সুবিধা খামারিদেরও পেতে দেওয়া উচিত। কেউ সুফল পাবে আর কেউ বঞ্চিত হবে, এ নীতি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..