সাক্ষাৎকার

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পানি ও বিদ্যুৎবিচ্ছিন্নতা কাম্য নয়

 

দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জোয়ার তুঙ্গে। বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে এসেছে নানা পদক্ষেপ। তবে ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহি ও সমন্বয়ের অভাবে যখন দেশের সবচেয়ে বড় ও আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্নতা এবং এ কারণে পানিহীন শোচনীয় অবস্থায় লাগাতার ছয় ঘণ্টা অতিবাহিত হয়, তখন তা লজ্জাজনক দৃষ্টান্তই সৃষ্টি করে। এ-সংক্রান্ত একটি সরেজমিন প্রতিবেদন গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে প্রকাশিত হলে সেখানে উপস্থিত যাত্রীদের দুর্ভোগ ও অসহায়ত্ব জনমনকে অবাক করেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণœ রাখতে এবং দেশের সব পর্যায়ের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিমানবন্দরের মতো সারা দেশের এমন হাজারো অব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই।
বর্তমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশীয় চারটি ও বিদেশি ২৬টি এয়ারলাইনসের দৈনিক ১৩০টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়। এসব ফ্লাইটের বোর্ডিং পাস ইস্যু, ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং, কার্গো লোড-আনলোড ও এয়ারক্রাফটের কোনো কাজই বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যতিরেকে সম্পন্ন হতে পারে না। অধিকন্তু, আলো, যাত্রীদের শৌচাগার ও প্রক্ষালন কক্ষের জরুরি পানি এবং গরমের এই কঠিন দাবদাহে এয়ারকন্ডিশন ব্যবস্থার আবশ্যিক বিদ্যুৎচাহিদা মিটমাট করতে আকস্মিক দুর্ঘটনায় বিকল্প শতভাগ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা রাখাটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হওয়া উচিত। কিন্তু রেললাইনের কাজে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার দরুন এই দুর্ঘটনায় বিমানবন্দরের যে অক্ষমতা এবার চিহ্নিত হলো, তা একেবারেই সন্তোষজনক বলা যায় না। গত ১৫ জুলাই দুবাই এয়ারপোর্টেও বিদ্যুৎবিচ্ছিন্নতা ঘটেছিল কারিগরি কারণে, যা ৩০ মিনিটের প্রচেষ্টায় স্বাভাবিক হয়ে যায়। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা এয়ারপোর্টে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্নতার ঘটনায় কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না রাখার বিষয়টিকে রাষ্ট্রীয় পক্ষ থেকে ক্ষমাহীন অপরাধ বলে সাব্যস্ত করা হয়। অথচ ছয় ঘণ্টা বিকল থাকার পরও বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ অতি দ্রুততার সঙ্গে বিদ্যুৎ ও পানির সংকট নিরসনে ডেসা ও ওয়াসাকে ধন্যবাদ জানাল এবং নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকার যে দাবি জানায় তা দায়িত্বশীলতা ও স্বচ্ছতার পরিচয় রাখে না। ফ্লাইটে বিপর্যয় না ঘটলেও বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন আবহাওয়ায় অভ্যস্ত যাত্রীদের জন্য হঠাৎ গরম পরিবেশ অভিযোজনযোগ্য হতে পারে না। এমনকি এটা অবশ্যই স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ। তাছাড়া, জরুরি পানির ব্যবস্থাও বিকল হয়ে গেলে যাত্রীদের যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে তা দেশের উন্নয়নশীল মর্যাদাকে বিদেশের কাছে কিছুটা হলেও খাটে করেছে।
এই পরিস্থিতিকে ছোট করে না দেখে সৃষ্ট দুর্ঘটনা কেন এড়ানো গেল না সে বিষয়ে বিদ্যুৎ ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করে এবং ভবিষ্যতের কোনো দুর্ঘটনায় শতভাগ বিকল্প বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা রাখতে রাষ্ট্রজন আশু ব্যবস্থা নিবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।

সর্বশেষ..