সম্পাদকীয়

বেসরকারিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করুন

আধুনিক সভ্যতার প্রধানতম অনুসঙ্গ বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ ছাড়া বর্তমানে মানুষের জীবনধারণ অনেকটাই দুরূহ হয়ে পড়েছে। বিষয়টি অনুভব করে বর্তমান সরকার দেশে বর্ধিত বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করে। এসব উদ্যোগের মধ্যে অন্যতম বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা করে তা জাতীয় গ্রিডে আনা। এ উদ্যোগ জাতীয় গ্রিড সমৃদ্ধ করতে বড় ভূমিকা রেখেছে সন্দেহ নেই। কিন্তু সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে ব্যয় হচ্ছে, বেসরকারিতে তার চেয়ে অনেক বেশি হচ্ছে। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাঁচামাল অর্থাৎ জ্বালানি আমদানিসহ বেসরকারি খাতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়া পর্যন্ত যতগুলো স্তর রয়েছে, সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হওয়া জরুরি বলে মনে করি।
এ বিষয়ে দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘ব্যয় বেশি ও জ্বালানি দক্ষতা কম: বিদ্যুৎ উৎপাদনে অদক্ষ বেসরকারি খাত!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮-১৯ অর্থবছর দেশে সরকারি বিভিন্ন কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় তিন হাজার ৪৫৯ কোটি ৬৬ লাখ কিলোওয়াট ঘণ্টা। আর বেসরকারি খাতে উৎপাদন দুই হাজার ৭১৩ কোটি ৩০ লাখ কিলোওয়াট ঘণ্টা। বাকি ৬৭৮ কোটি ৯ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ ভারত থেকে আমদানি করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে কম ব্যয় ছিল সরকারি খাতে। আর বেসরকারি খাতে যেসব কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে, তাদের ইউনিটপ্রতি উৎপাদন ব্যয় বেশি। এক্ষেত্রে তাদের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্নিহিত বিষয় রয়েছে বোধকরি। তা হলো, জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে নানা কারসাজি। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে।
বিদ্যুৎ যেহেতু অতিপ্রয়োজনীয় বিষয়, তাই এক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উদ্বুদ্ধ করতে সরকার নানা ধরনের প্রণোদনামূলক সুযোগ তাদের দিয়েছে। বিভিন্ন ধরনের কর সুবিধাও তারা পেয়ে আসছেন। এসব সুযোগের যাতে অপব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেশি মাত্রায়
দায়মুক্তি দেওয়া হলে তা অপব্যহারের সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে।
ডিজেলচালিত সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোয় যখন প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ পড়ে ২২ টাকা ২০ পয়সা, সেখানে বেসরকারি কেন্দ্রগুলোয় ৪২ টাকা ৯১ পয়সা ব্যয় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিøষ্ট বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত বলে মনে করি। সেক্ষেত্রে যদি বিদ্যমান আইন পরিবর্তন করা লাগে, তবে তা করা সমীচীন বলে মনে করি। যে কোনো মূল্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনা জরুরি।

 

সর্বশেষ..