আজকের পত্রিকা পাঠকের চিঠি

কৃষক বাঁচাতে কৃষি ট্রেন

আ:ছোবাহান জুয়েল:

করোনা পরিস্থিতিতে কৃষকরা পড়েছেন চরম বিপাকে। ভাইরাস নিয়ে নানা অস্থিরতায় ক্রেতা না পাওয়ায় তাদের উৎপাদিত সবজি বিক্রি করতে পারছেন না। কৃষি জমিতেই নষ্ট হচ্ছে আবাদি শাক-সবজি। কৃষকেরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উত্পাদিত সবজির ৩০-৩৫ ভাগই এখনো মাঠে রয়েছে। এসব সবজির মধ্যে রয়েছে বেগুন, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও করলা।

উৎপাদিত এলাকায় কৃষি পণ্যের যে দাম ঢাকায় বা দেশের অন্যান্য শহরে এলেই তার দাম দ্বিগুণ কোন কোন ক্ষেত্রে তিনগুণও হয়। এই বর্ধিত দামের কোন অংশই কৃষক পায় না। আবার উৎপাদনের এলাকায় ঠিকমতো পরিবহনের কারণেও প্রায় অর্ধেক ফসল নষ্ট হয়। এই সমস্যা মোকাবেলায় বাংলাদেশ রেলওয়ে কৃষি ট্রেন চালুর  উদ্যোগ নিতে পারে।

দেশব্যাপী লকডাউনের কারণে পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় বাজারজাত করতে না পারা ও পাইকার না আসায় বিপাকে পড়েছেন তারা। করোনা পরিস্থিতে উৎপাদিত কৃষিপণ্য নিরাপদে, কম খরচে রাজধানীর মানুষের কাছে পরিবহনের জন্য কৃষি ট্রেন।

ট্রেনগুলো চালু হলে একদিকে কৃষকরা যেমন লাভবান হবেন। তেমনি ভোক্তারাও কম দামে পণ্য কিনতে পারবেন। কারণ অন্য জেলা থেকে ঢাকায় কৃষিপণ্য আনার ক্ষেত্রে যে পরিমাণ খরচ পড়তো ব্যবসায়ীদের। ট্রেনের ক্ষেত্রে খরচ তার অর্ধেকেরও কম পড়বে। এসব কৃষি ট্রেনে কৃষিপণ্যগুলোও সতেজ থাকবে।

খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান ছাড়াও চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রচুর পরিমাণে কৃষিপণ্য প্রতিদিন চট্টগ্রাম শহরে আসে। এখান থেকে ঢাকাসহ অন্যান্য জেলাতেও কৃষিপণ্য যায়। ঢাকায় পৌঁছাতে গিয়ে অনেক পণ্য পচে যায়। তাই কৃষিপণ্যবাহী ট্রেন চালু করা হলে কৃষিখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন হবে।

বাংলাদেশে কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য ৭০’র দশকে অন্যতম প্রধান বাহন ছিল রেলপথ। সে সময় কাঁচা পাট, তুলা, ডাল, মসলা, তেলবীজ, গম, অন্যান্য খাদ্যশস্য, লবণ, চিনি, আখ, চা তেলসহ বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য পরিবহন করা হতো ট্রেনে। তবে বর্তমানে ট্রেনে কৃষিপণ্য পরিবহন শূন্যের কোটায় নেমেছে।

এই ব্যবস্থা চালু হলে কৃষকরা পণ্যের ন্যায্য দাম পাবে। ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হবে পণ্য পরিবহনে খরচ কমে যাওয়ার কারণে। আর পরিবহণে চাঁদাবাজির যে অভিযোগ রয়েছে ট্রেনের ক্ষেত্রে এটি সম্ভব হবে না। পণ্য দ্রুত পৌঁছবে। গ্রসারি ট্রেন হওয়ায় পণ্য নষ্টও কম হবে।

###

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..