বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

কভিডের পর ফের রপ্তানি বৃদ্ধির ধারায় ফিরবে দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, দেশের রপ্তানি পণ্য সংখ্যা ও বাজার সম্প্রসারণের বিকল্প নেই। শুধু তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না। তাই দেশের সম্ভাবনাময় ১৯টি রপ্তানি পণ্যকে টার্গেট করে সরকার কাজ করছে। রপ্তানিপণ্যকে অধিক গুরুত্ব দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রতি বছর একটি সম্ভাবনাময় রপ্তানি পণ্যকে ‘প্রোডাক্ট অব দি ইয়ার’ ঘোষণা করেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ইসিফোরজে নামে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে চামড়াজাতপণ্য, প্লাস্টিক, তথ্যপ্রযুক্তি এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এ চারটি রপ্তানি পণ্যের খাতকে যোগ্য করে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু কভিড-১৯-এর কারণে কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর মাঝেও রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো চলছে, আমাদেরর রপ্তানি থেমে নেই। কভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ আবার রপ্তানি বৃদ্ধির ধারায় ফিরে আসবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এরই মধ্যে ভূমি বরাদ্দ পাওয়া গেছে, নির্মাণ প্রক্রিয়া চলছে। এখানে দেশের শিক্ষিত যুবসমাজকে প্রশিক্ষণ প্রদান, হাতেকলমে শিক্ষা প্রদান, ডিজাইনে বৈচিত্র্য আনা ও পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করতে কাজ করা হবে। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব বাণিজ্যে এগিয়ে যাওয়ার জন্য দক্ষতা অর্জন করতে হবে। একটি পণ্যের কাঁচামাল থেকে শুরু করে প্যাকেজিং পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানের করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা প্রয়োজন।

বাণিজ্যমন্ত্রী গতকাল ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে আইসিএবি আয়োজিত ‘ডাইভারসিফিকেশন অব বাংলাদেশ এক্সপোর্ট বাসকেট: অপারচুনিটিস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’ শীর্ষক ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর বাংলাদেশকে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এজন্য সরকার কাজ করছে। বাণিজ্য সুবিধা আদায়ের জন্য পিটিএ বা এফটিএ’র মতো বাণিজ্য চুক্তি করার জন্য সরকার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ভুটানের সঙ্গে পিটিএ স্বাক্ষর হয়েছে, আরও বেশকিছু দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করার জন্য আলোচনা চলছে।

আইসিএবি’র সাবেক প্রেসিডেন্ট আজিজ এইচ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইসিএবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব শুভাশীষ বসু। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন, বিসিকের চেয়ারম্যান মোস্তাক হোসেন, বিজিএমইএর প্রেসিডেন্ট ফারুক হাসান, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ও শিপবিল্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ হ্যান্ডিক্রাফট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট গোলাম আহসান,  বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসের (বেসিস) প্রেসিডেন্ট সৈয়দ আলমাস কবীর, বাংলাদেশ জুট গুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মারুফ হোসেন, বাংলাদেশ এগ্রো-প্রোসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মো. সোহরাব হাসান এবং আইসিএবি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট মারিয়া হাওলাদার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইসিএবির প্রেসিডেন্ট মাহমুদুল হাসান খসরু।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..