প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

বড় বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নিচ্ছেন না তো?

 

রুবাইয়াত রিক্তা: পুঁজিবাজার এখন চাঙা। সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও উৎসাহী। এপ্রিল-মে মাসের মন্দা ভুলে তারা এখন মুনাফা লাভের স্বপ্ন দেখছেন। তাই তারা তেজি বাজারে বিনিয়োগে নামছেন। আর এ সুযোগে বড় বিনিয়োগকারীরা  মুনাফা নিয়ে বাজার থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন। বিশেষ করে যারা জুনের শেষ দিকে আয়কর রেয়াত পেতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছেন। কর রেয়াতই যদি তাদের লক্ষ্য হয়, তাহলে লাভ হলেই তারা কেটে পড়বেন। তাই বাজারের এ বৃদ্ধি দেখে বাজার স্থিতিশীল হয়ে গেছেÑএমনটা ভেবে বিনিয়োগে ঝাঁপিয়ে না পড়ে ধীরে-সুস্থে বাজার পর্যবেক্ষণ করে বিনিয়োগ করুন।

পুঁজিবাজার গুরু বাফেটের মতে, বাজারে সবাই যখন ঢোকে তখন বুদ্ধিমান বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে বেরিয়ে যান। দেশের পুঁজিবাজারে এখন সেই সময় চলছে। এখন মুনাফা তুলে নেওয়ার সময়। লাভ হলে মুনাফা তুলে নিন। ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন। যখন বাজার থেকে বেশিরভাগ মানুষ বেরিয়ে যাবে, তখন শেয়ার কিনুন।

উভয় শেয়ারবাজার মিলে গতকাল এক হাজার ৩০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে। ঢাকার বাজারে লেনদেন এক হাজার ২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা ছিল তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে গত ২২ মার্চ এক হাজার ২৯০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল। গতকালের লেনদেনে এককভাবে তিন খাত নেতৃত্ব দিয়েছে। এর মধ্যে শীর্ষে ছিল যথারীতি বস্ত্র খাত। এরপরে উঠে এসেছে ব্যাংক ও আর্থিক খাত। বস্ত্র খাতে লেনদেন হয়েছে ২৭৬ কোটি টাকা বা মোট লেনদেনের ২৩ শতাংশ। অন্যদিকে ব্যাংক খাতে ১৮৯ কোটি টাকা বা ১৬ শতাংশ এবং আর্থিক খাতে ১৩৮ কোটি টাকা বা ১১ শতাংশ লেনদেন হয়। এছাড়া অন্যান্য খাতে তেমন উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়নি। কম গুরুত্বপূর্ণ খাতের মধ্যে সিমেন্ট খাতের লেনদেন ৮১.৫ শতাংশ বেড়েছে। ব্যাংক খাতের চারটি ছাড়া সবগুলোর দর বেড়েছে। তিনটির কমেছে ও একটি অপরিবর্তিত ছিল। আর্থিক খাতে ২৩টি কোম্পানির মধ্যে দুটির কমেছে, দুটি অপরিবর্তিত ও বাকিগুলোর দর বেড়েছে। সূচক ইতিবাচক করতে ভূমিকা রেখেছে গ্রামীণফোন, লাফার্জ সুরমা, ব্র্যাক ব্যাংক, আইসিবি ও আইএফআইসি। এর মধ্যে শুধু জিপির কারণে বেড়েছে ৮ পয়েন্টের বেশি। সাড়ে ৪২ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা করে লেনদেনে নেতৃত্ব দেয় লংকাবাংলা। এরপরে রিজেন্ট টেক্স ৩৫ কোটি, প্রাইম ব্যাংক সাড়ে ৩১ কোটি, অ্যাগ্রো ডেনিম ৩১ কোটি, লাফার্জ সুরমা সাড়ে ২৬ কোটি, ফু-ওয়াং ফুড ২৫ কোটি, আইসিবির ২৩ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দরবৃদ্ধিতে এগিয়ে ছিল ক্ষুদ্র মূলধনি কোম্পানিগুলো। এর মধ্যে সিমটেক্স, আইসিবিএল ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, আজিজ পাইপস, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, এইচআর টেক্স দরবৃদ্ধির শীর্ষ পর্যায়ে ছিল।

 

 

 

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..