Print Date & Time : 22 May 2026 Friday 11:11 pm

মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা : বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় ভাগে ইসলামী অর্থনীতির নবজাগরণের ফলস্বরূপ উদ্ভাবিত হয় প্রচলিত ব্যাংকিং কাঠামোর আদলে ইসলামিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা। ১৯৪০’র দশকের শেষ দিকে ইসলামী অর্থনীতির ওপর পাক-ভারত উপমহাদেশের লেখকেরা ইংরেজি ও মধ্যপ্রাচ্যের লেখকরা আরবি ভাষায় লেখালেখির মাধ্যমে এর কাঠামো তোলে ধরেন। ইসলামী ব্যাংকিংয়ের ওপর প্রথম কলম ধরেন পাকিস্তানি এক ব্যাংকিং অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ উজাইর।

বিশ্বে ব্যাংক ব্যবস্থা ৬০০ বছর আগে যাত্রা শুরু করলেও শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু হয় মিসরে ১৯৬৩ সালে। ১৯৭৫ সালের ২০ অক্টোবর ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বের ইসলামী ব্যাংকিং আন্দোলন জোরদার হয়। তারই অংশ হিসেবে বাংলাদেশে তা শুরু হয় ১৯৮৩ সালে দেশ-বিদেশি উদ্যোগ ও সরকারি-বেসরকারি মালিকানায় ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড’ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। ওআইসি ও আইডিবির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ইসলামী অর্থনীতি ও শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকব্যবস্থা প্রবর্তন করার জন্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই প্রতিশ্রুতির আলোকে দেশে ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটি একীভূতকরণের পথে। এছাড়াও ১৭টি প্রচলিত ব্যাংকের ৪১টি ইসলামী ব্যাংকিং শাখা এবং ২১টি প্রচলিত ব্যাংক ৯০৫টি ইসলামী উইন্ডোর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।

বিশ্বে যখন ইসলামী ব্যাংকিং শিল্পের ব্যাপক সম্প্রসারণ হচ্ছে ঠিক তখনই বাংলাদেশে অনিয়ম, দুর্নীতি, দুর্বল তদারকি ইত্যাদির কারণে অধিকাংশ ইসলামিক ব্যাংক খেলাপি ঋণে জর্জরিত হয়ে তারল্য সংকটে পড়ে।  গ্রাহকদের আস্থার সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। ফলে দেশের সচেতন নাগরিক ও  অর্থনীতিবিদরা ব্যাংক সংস্কারের আওয়াজ তোলে। তারই অংশ হিসেবে ২০২৩ সালের পাঁচই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক ‘প্রম্পট কারেক্টিভ অ্যাকশন (পিসিএ) ফ্রেমওয়ার্ক শীর্ষক এক সার্কুলার জারি করে। দুর্বল ব্যাংকগুলোর সংকট কাটিয়ে তোলার পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই ফ্রেমওয়ার্কটি তৈরি করা হয়েছিল। সার্কুলারে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ থেকে পিসিএ ফ্রেমওয়ার্ক কার্যকর করা হবে।

৫ আগস্ট ২০২৪ অভূতপূর্ব এক গণ-অভ্যুথানের মাধ্যমে আওয়ামী সরকারের পতন হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ অসংখ্য কর্মকর্তা পালিয়ে যায়। ফলে ব্যাংকিং খাতে শুরু হয় অস্থিরতা। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৩তম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেন ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেই ব্যাংক সংস্কারে হাত দেন। বাংলাদেশের অর্থনীতির শ্বেতপত্রে ব্যাংক খাতকে দেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত খাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ব্যাংকিং খাতের ব্যাপক গুণগত পর্যালোচনা করার জন্য তিনটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। সংস্কারের অংশ হিসেবে ৯ মে ২০২৫ জারি করা হয় ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ-২০২৫’।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে শুরু হয় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক সহায়তার পরও ঘুরে দাঁড়াতে ব্যর্থ হওয়ায় শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি (এসআইবিএল, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক) ব্যাংককে গত ৫ নভেম্বর ২০২৫ ‘অকার্যকর’ ঘোষণা করা হয় এবং প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়। একই সঙ্গে ঘোষণা করা হয়, এই পাঁচটি ব্যাংক এখন থেকে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ-২০২৫’-এর অধীনে পরিচালিত হবে।

ইতোমধ্যে সরকার এই পাঁচটি দুর্বল ব্যাংক একীভূত করে শরিয়াহভিত্তিক একটি নতুন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। ওই ব্যাংকগুলোর সমুদয় সম্পদ ও দায় নতুন ব্যাংকের অধীনে চলে যাবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ব্যাংক খাতের অস্থিরতা কমানো, গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা। প্রাথমিক লাইসেন্স পাওয়া সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধনের ২০ হাজার কোটি টাকা দেবে সরকার। প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের শেয়ার দিয়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা মূলধনে রূপান্তর করা হবে বেইল ইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। পরে আবার রেজল্যুশন পরিকল্পনা অনুযায়ী তা পরিশোধ করা হবে আমানতকারীদের। যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমানতকারী ও অন্যান্য পাওনাদারের ঋণের একাংশ বাতিল হয়ে শেয়ারে রূপান্তরিত হয় সেটাই হচ্ছে বেইল-ইন।

ব্যাংক মার্জারের ইতিহাস

ব্যাংক একীভূতকরণের (মার্জার) ইতিহাস প্রাচীন মেসোপটেমিয়া থেকে শুরু করে আধুনিক যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত। ১৭০০ সালের দিকে ইংল্যান্ডে বার্কলেজ ব্যাংক যাত্রা শুরু করে। বার্কলেজ ১৮৯৬ সালে ২০টির বেশি ছোট ব্যাংক একীভূত করে একটি বৃহৎ ব্যাংক তৈরি করে। এটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আকার ধারণ করে এবং ১৯ শতকে জেপি মর্গান অ্যান্ড কোং এবং চেজ ম্যানহাটন ব্যাংকের মতো উল্লেখযোগ্য একীভূতকরণের মাধ্যমে এর বিকাশ ঘটে। সুইজারল্যান্ডের দুই বড় ব্যাংক ইউবিএস ও ক্রেডিট সুইসের এক হয়ে যাওয়া। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ২০০১ সালে এক সমীক্ষায় বলেছিল ১৯৮০ থেকে ১৯৯৭ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংকের সংখ্যা ১২ হাজার ৩৩৩ থেকে কমে হয়েছেল ৭ হাজার ১২২টি। ইউরোপের দেশ ফ্রান্সে ১৯৮০ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে ব্যাংকের সংখ্যা কমেছে ৪৩ শতাংশ এবং ডেনমার্কে ৫৭ শতাংশ। ইন্দোনেশিয়াতে ১৯৯৮ সালে চারটি রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংককে একীভূত করে একটিতে রূপান্তরের ঘোষণা দেয়। ব্যাংকটি সফল হয়েছিল।

বাংলাদেশে ব্যাংক মার্জারের ইতিহাস খুবই সংক্ষিপ্ত। ১৯৭২ সালে ১২টি ব্যাংক একীভূত করে ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক করা হয়েছিল। বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) ২০০৯ সালে ১৬ নভেম্বর বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক ও বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থাকে একীভূত করে গঠিত হয়েছিল। সেটা তো অনেক ভালোভাবে চলছে এখন। দীর্ঘ ১৬ বছর পর একই সময়ে পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক দুর্বল ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামে নতুন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।

চ্যালেঞ্জগুলো

ব্যাংক পরিচালনায় বিগত দিনের দুর্বলতার বদনাম অতিক্রম করে পাঁচটি ব্যাংকে জনগণের আমানত চাহিবামাত্র ফেরত দেয়া এবং আমানত সংগ্রহ, শিল্প, ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ, প্রবাসী আয় সংগ্রহ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ওই পাঁচটি ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা বা বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৭৭ শতাংশ। অপরদিকে মোট আমানতের পরিমাণ ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা। এই দেনা-পাওনার সমন্বয় করাই কঠিন চ্যালেঞ্জ। অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সমস্যায় পড়া পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগকে দেশের অর্থনীতির বিশ্লেষকরা একটি উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ বলে অভিহিত করেছেন, যা একটি নৈতিক চ্যালেঞ্জ। ব্যাংকগুলোর কোনো শাখা বন্ধ না করে এবং কোনো লোকবল না কমানোর ঘোষণা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যাংক একীভূতকরণের প্রধান চ্যালেঞ্জ আইটি সিস্টেমের ইন্টিগ্রেশন (ভিন্ন ভিন্ন ব্যাংকের ব্যবহূত প্রযুক্তি তথ্যসহ একটিতে রূপান্তর করা), স্যালারি স্ট্রাকচার ন্যাশনালাইজেশন এবং পরিচালনাগত ব্যয় কমানো। দেশজুড়ে এই পাঁচ ব্যাংকের ৭৬০টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট আউটলেট এবং ৭৯৫টি এটিএম বুথ রয়েছে। ওই শাখা, উপশাখা এবং এজেন্ট আউটলেটগুলো সারা দেশে সমন্বয় করাও একটি চ্যালেঞ্জ। এছাড়া আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো কতিপয় অর্থনীতিবিদ ও সাংবাদিক এই মার্জার প্রক্রিয়ার নেতিবাচক দিক জনগণের মাঝে বিভিন্ন উপায়ে উপস্থাপনের চেষ্টা করে যাচ্ছে, যাতে এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়।

সম্ভাবনাগুলো

উপর্যুক্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার যুতসই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ব্যাংকগুলোর প্রকৃত অবস্থা চিহ্নিত করার জন্য আন্তর্জাতিক অডিট প্রতিষ্ঠান কেপিএমজি এবং আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং-এই দুই সংস্থার মাধ্যমে ফরেনসিক অডিক করানো হয়। শরিয়াহভিত্তিক রাষ্ট্রমালিকানাধীন নতুন ব্যাংক গঠনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে সিমুলেশন অনুশীলন (এক্সারসাইজ) করেছে। কোনো জরুরি অবস্থা বা ঘটনার সময় কিভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে, তা পরীক্ষা করা হয় যে পদ্ধতির মাধ্যমে, সেটাই হচ্ছে সিমুলেশন অনুশীলন। এর ভিত্তিতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের জন্য আগামী ১০ বছর মেয়াদি একটি আর্থিক ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার তদারকি ও নীতি নির্ধারণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক একটি স্বতন্ত্র ‘ইসলামী ব্যাংকিং রেগুলেশন্স অ্যান্ড পলিসি’ বিভাগ গঠন করেছে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকিং আইন তৈরির কাজ চলমান। সরকার ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ নামে একটি আইনি কাঠামো তৈরি করেছে। এই অধ্যাদেশে সংকটপূর্ণ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি ‘ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি’ গঠন অথবা স্থানীয় বা বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সম্পদ হস্তান্তর করার কথা বলা আছে। এই কাজটির সঠিকভাবে সম্পাদন করতে পারলে এই উদ্যোগের সফলতার আলোর মুখ দেখবে। ব্যাংক খাতে পরিবারতন্ত্রের লাগাম টানতে ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন’ সংশোধন করা হচ্ছে। দেশের ব্যাংক ব্যবসা নির্ধারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ এখতিয়ার প্রতিষ্ঠা করা, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা এবং ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করাই এবারের ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

পাহাড়সম ঋণের বোঝা নিয়ে ডুবন্তপ্রায় ব্যাংকিং খাতকে পুনর্গঠন করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ফেরাতে ভারত সরকার  মোট ২৭টির মধ্যে ১০টি বড় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক চারটিতে একীভূত করেছে। একীভূতকরণের ফলে ব্যাংকগুলো শক্তিশালী হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় ২০২১ সালে তিনটি রাষ্ট্রীয় শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে একীভূত করে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক ‘ব্যাংক সিরিয়াহ ইন্দোনেশিয়া’ গঠিত করে, যা বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ইসলামী ব্যাংক হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশ যদি ভারতের মতো দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা গ্রহণ করে এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো বিশেষায়িত ইসলামী ব্যাংকিং কাঠামো ও নীতি অনুসরণ করে, তবে অবশ্যই সফল হবে।

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা এবং আমানতকারীদের স্বার্থের কারণেই একীভূতকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। এই কৌশল হিসেবে শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ দুর্বল ব্যাংক অকার্যকর ঘোষণা করে বাংলাদেশে প্রথম রাষ্ট্রীয় মালিকানায় ইসলামী ব্যাংক ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ এর যাত্রা চুড়ান্ত পর্যায় রয়েছে। দেশের ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা এবং গ্রাহকের আস্থা পুনরূদ্ধারের মাধ্যমে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার জন্য আন্তর্জাতিক যুতসই নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া কোনো খাত টিকতে পারে না। এজন্য উচ্চমানের নীতি ও উত্তম চর্চা অনুসরণ করতে হবে।  সর্বোপরি, এই ব্যাংকটির সফলতার জন্য ইংরেজ কবি রুডিয়ার্ড কিপলিংয়ের ‘If’ কবিতাটি অনুধাবন যোগ্য। কবিতাটির বাংলা অনুবাদ: তুমি যদি তোমার সারা জীবনের রোজগার একসঙ্গে রেখে

ভাগ্যের খেলায় বাজি ধরতে পার, সবকিছু হারিয়ে আবার প্রথম থেকে শুরু করতে পার, নিজের পরাজয় সম্পর্কে কাউকে কিছু না বলে, তুমি যদি কাজ করে যেতে পার,

যখন তোমার হূদয়, তোমার শিরা এবং তোমার হাড়মাংসও হার মেনে যায়, তখনও দাঁড়িয়ে থাকবে, যখন তোমার মধ্যে আর কিছু না-ও থাকে কেবল ওই ইচ্ছাশক্তি ছাড়া, যা তোমাকে বলে ‘লেগে থাকো, হাল ছেড় না।’

শওকত হোসেন, ‘ব্যাংক নিয়ে আস্থার সংকট কেন’ শিরোনামে একটি প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন ‘যদি তুমি মাথা ঠান্ডা রাখতে পারো তখন/যখন সবাই মাথা গরম করে… [প্রথম আলো, ৩০ নভেম্বর ২০২২]। কিপলিং চেয়েছিলেন, সবাই যতই মাথা গরম করুক, আস্থা হারাক, তার সন্তান যেন মাথা ঠান্ডা রাখে, তাহলেই এই পৃথিবী হবে তার। আতঙ্কের সময় মাথা ঠান্ডা রাখাটাই আসলে সবচেয়ে বড় সদগুণ।’ বর্তমান সরকার বাংলাদেশের ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলো রক্ষায় এবং টেকসই ব্যাংকিং খাত উন্নয়নে যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তা অবশ্যই সফল হবে। ব্যাংকটির সফলতা নির্ভর করছে ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব প্রাপ্ত সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দক্ষতার ওপর। রাজনৈতিক চাপ থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও আইনি সুরক্ষা দিতে পারলে এই ব্যাংকটি সারা বিশ্বের একটি মডেল হিসেবে পরিগণিত হবে।

 

কর্মকর্তা

শরিয়াহ্ সেক্রেটারিয়েট

গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি

drmdgulammustafa@gmail.com