নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের ব্যাংক খাতে ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ কমার প্রবণতা দেখা গেছে। তবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় শ্রেণিকৃত ঋণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ব্যাংকগুলোর পাঠানো সিএল-১ বিবরণী পর্যালোচনায় এ চিত্র উঠে এসেছে। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ভিত্তিতে দেশের ৬১টি তফসিলি ব্যাংকের মোট ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা; যা মোট ঋণের ৩০.৬০ শতাংশ। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগের প্রান্তিক অর্থাৎ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শেষে মোট ঋণ ও অগ্রিম ছিল ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৩৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা। সে সময়ে শ্রেণিকৃত ঋণ ছিল ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা; যা মোট ঋণের ৩৫.৭৩ শতাংশ। ফলে এক প্রান্তিকে শ্রেণিকৃত ঋণ কমেছে ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা এবং হার কমেছে ৫.১৩ শতাংশ পয়েন্ট। তবে বার্ষিক তুলনায় চিত্র ভিন্ন। ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে শ্রেণিকৃত ঋণের গ্রস হার ছিল ২০.২০ শতাংশ। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ডিসেম্বর ২০২৫-এ গ্রস হার বেড়েছে ১০.৪০ শতাংশ পয়েন্ট।
প্রভিশন ও স্থগিত সুদের সঙ্গে সমন্বয়ের (নিট অফ) পর ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে নিট শ্রেণিকৃত ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ১৩.৯৩ শতাংশে; যা ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ ছিল ২৬.৪০ শতাংশ। অর্থাৎ এক প্রান্তিকে নিট শ্রেণিকৃত ঋণের হার কমেছে ১২.৪৭ শতাংশ পয়েন্ট।
ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে শ্রেণিকৃত ঋণের মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ২৯.৯২ শতাংশ। এর আগের প্রান্তিক অর্থাৎ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ১২ হাজার ৮৭১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ৩২.৭৪ শতাংশ। সে হিসাবে এক প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ কমেছে ৬৮ হাজার ৩৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা এবং হার কমেছে ২.৮২ শতাংশ পয়েন্ট।
ব্যাংক-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রান্তিক ভিত্তিতে খেলাপি ঋণ কমলেও সামগ্রিক চিত্র এখনও উদ্বেগজনক। বিশেষ করে এক বছরের ব্যবধানে শ্রেণিকৃত ঋণের হার দ্বিগুণের কাছাকাছি বেড়ে যাওয়া আর্থিক খাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তারা মনে করেন, ঋণ পুনঃতফসিল, আইনি প্রক্রিয়া জোরদার ও কার্যকর নজরদারি ছাড়া টেকসইভাবে খেলাপি ঋণ কমানো সম্ভব হবে না।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post