প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

দর সংশোধন স্বস্তির

রুবাইয়াত রিক্তা: পুঁজিবাজারে গতকাল সোমবার দর সংশোধন হয়েছে। গত এক মাসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক বেড়েছে ৩৮৩ পয়েন্ট। এ সময় ১৯ কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। মাত্র চার কার্যদিবস সূচক কমেছে। বেড়েছে ১৫ কার্যদিবস। লেনদেন ৫০০ কোটির ঘর থেকে ১২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তাই গতকালের সংশোধনকে প্রত্যাশিত বলা যায়। কারণ পুঁজিবাজারে সূচকের একটানা বৃদ্ধি স্বাভাবিক হতে পারে না। এই সংশোধনে বিনিয়োগকারীরাও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। গতকাল গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সবগুলো খাতে দর সংশোধন হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় সংশোধন হয়েছে বস্ত্র খাতে। বেশ কিছুদিন ধরে এ খাত লেনদেনে প্রাধান্য বিস্তার করে আসছিল। গতকাল এ খাতের ৪৮টি কোম্পানির মধ্যে মাত্র আটটির দর বেড়েছে, কমেছে ৩৫টির। অপরিবর্তিত ছিল ৫টি। প্রকৌশল খাত তুলনামূলক ইতিবাচক অবস্থানে ছিল। ব্যাংক ও আর্থিক খাতের বেশিরভাগ কোম্পানি দরপতনে ছিল।

গতকাল দুই পুঁজিবাজার মিলে লেনদেন কমেছে প্রায় ১২৫ কোটি টাকা। ডিএসইতে লেনদেন হয় এক হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয় প্রকৌশল খাতে। এ খাতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৯০ কোটি টাকা বা মোট লেনদেনের ১৭ শতাংশ। বস্ত্র খাতে লেনদেন হয় ১৭৩ কোটি টাকা বা ১৫ শতাংশ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ১৩৬ কোটি টাকা বা ১২ শতাংশ, ওষুধ ও রসায়ন এবং ব্যাংক খাতে লেনদেন হয় ১০ শতাংশ বা ১১১ কোটি টাকা করে। লেনদেনে নেতৃত্ব দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে কনফিডেন্স সিমেন্ট ৫৮ কোটি টাকা, ইফাদ অটোস ৫৩ কোটি, কেয়া কসমেটিকস ৩৭ কোটি, এমজেএলবিডি ৩৬ কোটি, সিমটেক্স ৩৪ কোটি ও বিবিএসের ৩১ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্সের ২০ পয়েন্ট পতন হয়। সূচক পতনে জিপি তিন পয়েন্ট, ইসলামী ব্যাংক দুই পয়েন্ট, লাফার্জ সুরমা, ইউনাইটেড পাওয়ার, কেয়া কসমেটিকস এক পয়েন্ট করে ভূমিকা রাখে।

দর বৃদ্ধির শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলো ছিলÑজুট স্পিনার্স, বিডি অটোকার, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, আইপিডিসি, এপেক্স স্পিনিং, আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচুয়াল ফান্ড, কনফিডেন্স সিমেন্ট, সিমটেক্স। এর মধ্যে ‘জেড’ ক্যাটাগরির জুট স্পিনার্সের দর বেড়েছে ১০ শতাংশ; ‘বি’ ক্যাটাগরির বিডিকারের দর ৮.৭০ শতাংশ বেড়েছে। ডিএসই কর্তৃপক্ষ দুর্বল কোম্পানিগুলোর অকারণে দর বৃদ্ধিতে নোটিস পাঠানো সত্ত্বেও এসব কোম্পানির দর বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। বিনিয়োগকারীদের এসব শেয়ারে বিনিয়োগের আগে সতর্ক হতে হবে। কারণ দুর্বল কোম্পানির দর বৃদ্ধি দেখে সেসব শেয়ারে বিনিয়োগ করে দ্রুত লাভবান হওয়ার লোভ সামলাতে না পারলে এক সময় বিপদ হতে পারে। তবে দুর্বল কোম্পানিতে তখনই বিনিয়োগ করুন যখন দেখবেন এসব কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন ভালো হচ্ছে বা সামনে কোম্পানিটির ভালো করার সম্ভাবনা রয়েছে।