প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

কোম্পানি পরিচালকদের শেয়ার ধারণে বাধ্যবাধকতা

 

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ার ধারণে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পক্ষ থেকে যে নিয়ম বেঁধে দেওয়া আছে, তা পরিপালনে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এটাকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ নেই। বিশ্লেষকদের যুক্তি, ন্যূনতম শেয়ার ধারণের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেটা পরিপালন করা না হলে কোম্পানির প্রতি পরিচালকদের দায়বদ্ধতা সেভাবে থাকে না। এতে প্রতিষ্ঠান আশানুরূপ মুনাফা অর্জন করতেও ব্যর্থ হয় কখনও কখনও। তাতে আবার ক্ষতিগ্রস্ত হন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগকারীরা। এ যুক্তি খণ্ডন করা কঠিন। এজন্য বিএসইসি’র এমন অবস্থানকে আমরা সাধুবাদ জানাই। এতে বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি বাজারের স্বার্থও রক্ষা হবে।

বস্তুত পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ার ধারণসংক্রান্ত নির্দেশনাটি বিএসইসি জারি করেছিল ২০১১ সালে। তাতে বলা হয়, তালিকাভুক্ত সব কোম্পানির উদ্যোক্তা বা পরিচালককে নিজ প্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম দুই শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হবে। উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণেও বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয় ওই নির্দেশনায়। কিন্তু এটি পরিপালনে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেশ কিছু কোম্পানির ইতিবাচক সাড়া যে পাওয়া যায়নি, তা বলা বাহুল্য। এ কারণে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও সেক্ষেত্রে অনেকটা ছাড় দিয়ে এসেছে বিএসইসি। বাস্তবতা হলো, বিএসইসি’র নির্দেশনা পরিপালনের বিষয়গুলো শিথিলভাবে দেখলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বাজারে। এজন্য তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর উচিত নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে সংস্থাটির কার্যক্রমে সহায়তা করা।

উদোক্তা-পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ার ধারণের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, এ থেকে শুধু বিনিয়োগকারী নন, লাভবান হবে প্রতিষ্ঠানও; যার সুফল পাবেন সংশ্লিষ্টরা। এক্ষেত্রে যদি লোকসান হয়, তার দায়ও সমানভাবে বহন করতে হবে পরিচালকদের। লাভ-লোকসান ব্যবসার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বাস্তবতা হলো, কোনো ব্যক্তি যদি ঝুঁকি গ্রহণে প্রস্তুত না থাকে, তাহলে তার এমন কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া উচিত নয়। বাজারে বিভিন্ন সময় কারসাজির যে ঘটনা ঘটে, তার সঙ্গে এমন মানসিকতাসম্পন্ন পরিচালকদের একটি অংশ যে জড়িতÑসে ব্যাপারে অভিযোগ পাওয়া গেছে বিভিন্ন সময়। আমরা চাই, বিএসইসি’র কঠোর মনোভাব অব্যাহত রাখা হবে। ন্যূনতম শেয়ার ধারণ না করে কেউ যেন নতুনভাবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হতে না পারেন, সে ব্যাপারে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির যথাযথ তদারকি প্রত্যাশা করি।

যেসব কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালক সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশের কম শেয়ার ধারণ করছেন, তাদের শেয়ার পরিচালকদের বাইরে কেনাবেচা ও স্থানান্তর বিষয়ে বিএসইসি’র অনুমোদন নিতে বলা হয়েছে সোমবার দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পাঠানো সংস্থাটির এক চিঠিতে। এ নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো যথাযথভাবে পরিপালন করবে কিনা, সে ব্যাপারে সন্দেহ থেকেই যায়। আমাদের ধারণা, তদারকি শিথিল করা হলে কিছু কোম্পানি আগের মনোভাব অব্যাহত রাখবে। বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থার নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায়ও থাকার কথা। আশা করি, কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে তার সুস্পষ্ট প্রভাব দৃশ্যমান হবে। আশার কথা, পুঁজিবাজারে কাঠামোগত যেসব দুর্বলতা ছিল, তা কাটিয়ে উঠতে পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে বিএসইসি। বাজার আরও শক্তিশালী করতে ও এর প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে এমন আরও নিয়ম-কানুন প্রণয়ন ও বিদ্যমান কিছু আইনের যে সংস্কার দরকারÑতা শোনা যায় পুঁজিবাজারসংক্রান্ত আলোচনায়। বিশেষজ্ঞদের এসব সুপারিশ বিবেচনায় নেওয়ার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে তা দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।