প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

উদ্বোধনের অপেক্ষায় আদমদীঘি বহুতল খাদ্যগুদাম

আলমগীর হোসেন, বগুড়া: বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে অত্যাধুনিক বহুতল খাদ্যগুদাম নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন চাল সংরক্ষণ ও নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নির্মাণ করা হয় এ গুদাম। প্রায় ২৬ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এ গুদামে কোনো খাদ্য ঘাটতি হবে না। সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এ গুদাম এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়।

জানা গেছে, ২০১২ সালের মাঝামাঝি সময়ে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে নির্মাণ ঠিকাদার নিযুক্ত করা হয়। ওই বছরের ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ খাদ্য অধিদফতরের সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চুক্তি সম্পাদন হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে এটির নির্মাণ কাজ শুরু করে জাপানের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান শিমুজি করপোরেশন। টার্নকি পদ্ধতিতে এটির নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ২৬৪ কোটি টাকা। সান্তাহার শহর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দক্ষিণে পৌর এলাকার আমঝুপি এলাকায় সান্তাহার খাদ্যশস্য সাইলো (গম সংরক্ষণাগার) ক্যাম্পাসে দেশের প্রথম এই বহুতল খাদ্যগুদাম নির্মাণ করা হচ্ছে। আপাতত এটি দ্বিতল ভবন হচ্ছে। দুটি দ্বিতল ভবনে উপর-নিচ মিলে থাকছে ১৬টি কক্ষ।

প্রকল্প পরিচালক গোলাম মোস্তফা জানান, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন চাল সংরক্ষণ ও নিরাপদ খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং প্রচলিত সংরক্ষণ ব্যবস্থায় যে বিপুল পরিমাণ খাদ্য ঘাটতি হয়, তা মোকাবিলা করার জন্য জাপান সরকার বাংলাদেশ সরকারকে পরামর্শ ও আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেয়। সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয় জাপানের ওই প্রস্তাব গ্রহণ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জাপান ইন্টারন্যাশ্যাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) এই প্রকল্পে সিংহভাগ অর্থায়ন করতে এগিয়ে আসে। মোট ব্যয় বাংলাদেশি টাকায় ২৬৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাইকা দিয়েছে ২০২ কোটি টাকা। এই বহুতল খাদ্যগুদামের ধারণক্ষমতা হবে প্রায় ২৬ হাজার মেট্রিক টন।

এদিকে ১৯৬৯-৭০ সালে ওই স্থানে প্রায় ১৬ একর জমি অধিগ্রহণ করে বিন পদ্ধতিতে (খোলা অবস্থায়) উন্নতমানের গম সংরক্ষণ করার জন্য ‘সান্তাহার খাদ্যশস্য সাইলো’ নামে প্রায় ১৮ তলা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। এর ধারণক্ষমতা ২৫ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন। সে সময় জমি অধিগ্রহণসহ নির্মাণ ব্যয় হয়েছিল ৪০ লাখ ৪০ হাজার ৬৫ ইউএস ডলার। তখন প্রতি ডলারের বিপরীতে মিলতো চার দশমিক ৭৬ রুপি।

এই গম সংরক্ষণাগারে সড়কপথে ট্রাক ও রেলপথে ওয়াগনে বস্তায় আসা গম বিশাল আকারের হাউজে ঢেলে দেওয়া হয়। পক্ষান্তরে রেলপথে হপার (বিসিএফজি) ওয়াগনে খোলা অবস্থায় আসা গমও ওই ওয়াগন থেকে সরাসরি ঢেলে দেওয়া হয় হাউজে। এরপর সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে মজুত হয় সুউচ্চ ভবনের বিনে। সংরক্ষিত গম পরে অন্যত্র পাঠানোর সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিন থেকে চওড়া ফিতা বা বেল্টের সাহায্যে চলে যায় লোডিং পয়েন্টে। সেখানে একইভাবে বস্তাবন্দি, ওজন ও সেলাই কাজ সম্পন্ন হয়। তারপর লোডিং শ্রমিকরা ট্রাকে লোড দেন। এখানে কাজ করেন প্রায় অর্ধশত স্থানীয় শ্রমিক। অত্যাধুনিক এই বহুতল খাদ্যগুদামে শতাধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে।