প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বছরজুড়ে প্রকৌশল খাতের আধিপত্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: বছরজুড়ে প্রকৌশল খাতের নেতৃত্ব দেওয়া কোম্পানিগুলো উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ফলে ২০১৬ সালে পুঁজিবাজারে লেনদেনের শীর্ষে ছিল এ খাত। দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মোট লেনদেনের ১৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ ছিল প্রকৌশল খাতের।

চাহিদা বাড়ার কারণে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি রড নির্মাণে মধ্যবর্তী কাঁচামাল বিলেট উৎপাদনেও বাড়ছে স্বয়ংসম্পূর্ণতা। এসব কারণে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের প্রতি সব ধরনের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে। ফলে ঊর্ধ্বমুখী বাজার ঘুরেফিরে লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করেছে প্রকৌশল খাত।

এ খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আবাসন খাতে স্থবিরতা পুরোপুরি কেটে যাওয়ার আভাসে প্রকৌশল খাতের একাধিক কোম্পানি তাদের উৎপাদনক্ষমতা বাড়াচ্ছে। সে কারণে এ বছরজুড়ে ডিএসই লেনদেনের শীর্ষে স্থান করে নেয় প্রকৌশল খাত।

বর্তমানে পুঁজিবাজারে এ খাতে ৩৩টি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত রয়েছে। এর বেশিরভাগ কোম্পানির অবস্থা ভালো রয়েছে। অধিকাংশ কোম্পানির অবস্থান এ ক্যাটাগরিতে। অন্য খাতের তুলনায় এ খাতের লভ্যাংশ  প্রদানের হারও বেশি।

ডিএসইর বাজার-বিশ্লেষণে দেখা যায়, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খাতগুলোর মধ্যে ২০১৬ সালে মোট লেনদেনের ১৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ ছিল প্রকৌশল খাতের। অন্য খাতগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল জ্বালানি খাত। এ খাতের লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। এ খাতের লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ।

এরপর যথাক্রমে বস্ত্র খাতের ১০ দশমিক ৯৪ শতাংশ, ব্যাংকিং খাতের ৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাতের ৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ, বিবিধ খাতের ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ, সিমেন্ট খাতের ৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ, আইটি খাতের ২ দশমিক ৩৪ শতাংশ লেনদেন ছিল।

এছাড়া বিমা খাতের ২ দশমিক ৩০ শতাংশ, সেবা খাতের ২ দশমিক ১৪ শতাংশ, টেলিকমিউনিকেশনস খাতের ১ দশমিক ৮৭ শতাংশ, ভ্রমণ ও পর্যটন খাতের খাত ১ দশমিক ৪০ শতাংশ, ট্যানারি খাতের ১ দশমিক ৩১ শতাংশ, সিরামিক খাতের ১ দশমিক ২২ শতাংশ, মিউচুয়াল ফান্ডের দশমিক ৯৯ শতাংশ, জুট খাতের দশমিক ২৩ শতাংশ, পেপার অ্যান্ড প্রিন্টিং খাতে দশমিক ২০ শতাংশ এবং করপোরেট বন্ডে লেনদেন ছিল দশমিক ১ শতাংশ।

জানা গেছে, সম্প্রতি পরিবেশগত ছাড়পত্র পেয়েছে প্রকৌশল খাতের বিএসআরএম স্টিল ও জিপিএইচ ইস্পাত। চট্টগ্রামে মিরসরাইয়ের সোনাপাহাড় এলাকায় নির্মাণাধীন বিএসআরএম স্টিল মিলসের নতুন ইউনিটের ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এ ইউনিটে কোম্পানিটি আয়রন বিলেট উৎপাদন করবে।

জিপিএইচ ইস্পাতের সীতাকুন্ড ইউনিটের ইআইএ অনুমোদন দিয়েছে পরিবেশগত ছাড়পত্র কমিটি। এ ইউনিটে বিলেট, রড ও বার উৎপাদন করা হয়। এ প্রকল্পের সম্প্রসারণের জন্য ইতোমধ্যে রাইটের মাধ্যমে টাকা তুলেছে কোম্পানিটি। ২০১৮ সালের মধ্যে কোম্পানিটি সম্প্রসারিত ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করতে চায়। এসব খবরে প্রকৌশল খাতের প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ বাড়ছে।

প্রকৌশল খাতে উৎপাদন বাড়ার প্রমাণ পাওয়া যায় গত তিন বছরের তথ্য পর্যালোচনা করলে। ইস্পাত শিল্পে ব্যবহƒত কাঁচামাল বিলেট ও স্ক্র্যাপ (পুরোনো জাহাজ ও পুরোনো লোহা) আমদানি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এ দুই ধরনের কাঁচামাল আমদানি হয় ২৮ লাখ টন। তা ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়ায় সোয়া ৪৪ লাখ টনেরও বেশি। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আমদানি হয় প্রায় ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন।

এ প্রসঙ্গে কথা হয় প্রকৌশল খাতের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি বিএসআরএম স্টিল মিলসের নির্বাহী পরিচালক তপন সেন গুপ্তের সঙ্গে। তিনি শেয়ার বিজকে বলেন, দিন দিন আমাদের পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। সরকারের অনেক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন আছে। পদ্মা সেতুতে রডের ব্যবহার বেশি না হলেও চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীতে টানেল, রেলওয়ে লাইন, সেতু, সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎ প্রকল্প ও মেট্রোরেল প্রকল্পগুলোতে বিপুল পরিমাণে রডের দরকার হবে। আবার আবাসন খাতে ধীরে ধীরে মন্দা কাটছে। এ খাতে সব সময় মন্দা থাকবে না। আবাসন খাত ঘুরে দাঁড়ালে ইস্পাতপণ্যের বড় চাহিদা তৈরি হবে। তাই নতুন করে উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি জানান, বিএসআরএম স্টিলের পরিচালনা পর্ষদ নতুন গলন প্ল্যান্ট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন গলন প্ল্যান্টের উৎপাদন ক্ষমতা হবে চার লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন। এমএস বিলেটস স্থাপন করা হবে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে। কোম্পানিটি এ প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৭২৫ কোটি টাকা।

ডিএসইর সাবেক পরিচালক ও মডার্ন সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খুজিস্তানূর-ই- নাহরিন শেয়ার বিজ্কে বলেন, আমাদের দেশের বিনিয়োগকারীরা আগের চেয়ে সচেতন হচ্ছেন। তারা এখন অন্যের কথায় শেয়ার কেনাবেচার হার কমিয়ে দিয়েছেন। প্রকৌশল খাতের অগ্রগতি দেখে, এ খাতে তারা বিনিয়োগ করছেন।