নিজস্ব প্রতিবেদক : পতনের পর ঊর্ধ্বমুখী ছিল দেশের পুঁজিবাজার। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। গতকাল আগের কার্যদিবসের তুলনায় ডিএসইতে লেনদেনও অনেকটাই বেড়েছে। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার এবং মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দরও বেড়েছে।
ডিএসইর সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ৭৪ দশমিক ৬৩ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৫১৭ পয়েন্টে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৮ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ২০৭ পয়েন্টে এবং ডিএস ৩০ সূচক ৪০ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৫৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেনেও ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। ডিএসইতে গতকাল লেনদেন আগের কার্যদিবসের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে।
ডিএসইর তথ্যমতে, গতকাল লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ কোম্পানি এবং ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিটের দর কমেছে। ডিএসইতে গতকাল মোট ৩৯৮টি কোম্পানি এবং মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২৮১টি ফান্ড ও কোম্পানির দর বেড়েছে। এর বিপরীতে ৮৬টি ফান্ড ও কোম্পানির দর কমেছে। দিনশেষে ৩১টি ফান্ড ও কোম্পানির দর অপরিবর্তিত ছিল।
এদিকে বিভিন্ন ক্যাটেগরির মধ্যে ‘এ’ ক্যাটেগরির ২১৯টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১৪৮টি কোম্পানি ও ফান্ডের দর বেড়েছে। এর বিপরীতে ৫৭টি ফান্ড ও কোম্পানির দর কমেছে। দিনশেষে অপরিবর্তিত ছিল ১৪টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর।
একইভাবে ‘বি’ ক্যাটেগরির ৮৩টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮টি ফান্ড ও কোম্পানির দরদাম বেড়েছে। এর বিপরীতে ১৮টি ফান্ড ও কোম্পানির দর কমেছে। দিনশেষে অপরিবর্তিত ছিল সাতটি ফান্ড ও কোম্পানির দর।
‘জেড’ ক্যাটেগরির ৯৬টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৭৫টি ফান্ড ও কোম্পানির দর বেড়েছে। এর বিপরীতে ১১টি ফান্ড ও কোম্পানির দর কমেছে। দিনশেষে অপরিবর্তিত ছিল ১০টি ফান্ড ও কোম্পানির দর।
একইসঙ্গে মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও বেশির ভাগ ফান্ডের ইউনিটের দরও বেড়েছে। লেনদেন হওয়া ৩৬টি ফান্ডের মধ্যে মাত্র ২৫টি ফান্ডের ইউনিট দর বেড়েছে, বিপরীতে দুটি ফান্ডের ইউনিট দর কমেছে। দিনশেষে অপরিবর্তিত ছিল ৯টি ফান্ডের ইউনিট দর।
ডিএসইতে গতকাল মোট ৩৭ কোটি ৫৯ লাখ ৭৯ হাজার ১১৩টি শেয়ার ও ইউনিট দুই লাখ ৯৮ হাজার ৭৭২ বার হাতবদল হয়েছে। এর জেরে দিনশেষে ডিএসইতে মোট লেনদেন দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৩২ কোটি ৩১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৯৭১ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে রেনেটার শেয়ার। কোম্পানিটির ২২ কোটি ৬৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিটি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২২ কোটি ১১ লাখ টাকার। ২১ কোটি ৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সোনালী পেপার।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছেÑব্র্যাক ব্যাংক, কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজ, ওরিয়ন ইনফিউশন, সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস, ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক এবং ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ধীরে ধীরে উন্নতি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করছে। বর্তমান প্রবণতা বজায় থাকলে বাজার আরও চাঙ্গা হতে পারে। গতকাল পুঁজিবাজারের এই তেজি ভাব বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। আগামী দিনগুলোয় বাজারের এই ইতিবাচক ধারা বজায় থাকে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সূচক বাড়ার পাশাপাশি পুঁজিবাজারে লেনদেনেরও পরিমাণ বেড়েছে। এটি বাজারে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং ইতিবাচক মনোভাবের ইঙ্গিত দেয়। বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন, আগামী দিনগুলোতেও এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় থাকবে।

Discussion about this post