প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম : ইসলামী ব্যাংক থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দেশের আলোচিত শিল্প গ্রুপ এস আলমের চেয়ারম্যান সাইফুল আলমের (এস আলম) বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক তাহসিন মুনাবীল হক ও সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে এ মামলা দুটি করেন। দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলাগুলো করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুদক চট্টগ্রামের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ১ এ মামলা দুটি করা হয় বলে জানিয়েছেন দুদকের উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ। মামলা দুটিতে এস
আলমের স্বজন, এস আলম গ্রুপের কর্মকর্তা এবং ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
মামলা দুটির একটিতে ইসলামী ব্যাংক থেকে আদিল করপোরেশন নামে একটি কোম্পানিকে এক হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ দেয়া এবং পরে তা এস আলম গ্রুপের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে। অন্য মামলায় ইসলামী ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখায় একটি হিসাবে ৫২১ কোটি টাকার ‘অস্বাভাবিক’ লেনদেনের মাধ্যমে এস আলম গ্রুপের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে অর্থ স্থানান্তর করে তা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।
তাহাসিন মুনাবীল হক বাদী হয়ে করা মামলার অভিযোগে বলা হয়, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস আলমের ভাগ্নে মোহাম্মদ মোস্তাইন বিল্লাহ আদিল তার প্রতিষ্ঠান তার প্রতিষ্ঠান আদিল করপোরেশনের নামে ২০১৭ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ইসলামী ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখায় চলতি হিসাব খুলে পরদিন ঋণের জন্য আবেদন করেন এবং তিন দিনের মাথায় ব্যাংক ঋণ অনুমোদন করে। যোগ্যতা না থাকার পরও প্রতিষ্ঠানটিকে বিশেষ বিনিয়োগ সুবিধার বিপরীতে ১০টি বিনিযোগ সুবিধা (ঋণ) দেয়া হয়। ২০১৭ সালে আদিল করপোরেশনের নামে ঋণসীমা ৪০ কোটি টাকা থাকলেও নিয়ম বহির্ভূতভাবে তা বাড়ানো হয়। বর্তমানে এর সুদ ও আসলসহ স্থিতির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।
মামলাটির অভিযোগে আরও বলা হয়, ঋণ দেয়ার পর ২০২২ সালের ৮ নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট পর্যন্ত আদিল করপোরেশনের হিসাব থেকে নাম সর্বস্ব ৯টি প্রতিষ্ঠানের হিসাবে ১ হাজার ৭৭ কোটি ১১ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়। পরে এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়। এ মামলায় ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ ৩১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসানের করা মামলায় বলা হয়, অভিযোগ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দুদক জানতে পারে, ইসলামী ব্যাংকে টপটেন নামে একটি হিসাব থেকে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর ডেবিট ভাউচারের মাধ্যমে ৫২১ কোটি ৫২ লাখ টাকা এস আলম গ্রুপের কয়েকটি অয়েল মিলের হিসাবে জমা করার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post