শেয়ার বিজ ডেস্ক : চট্টগ্রাম থেকে পাইপলাইনে কুমিল্লা ডিপোতে পাঠানো জ্বালানি তেলের (ডিজেল) প্রথম পার্সেলে ৩৩ হাজার ৯৫৪ লিটার ঘাটতি ছিল। কুমিল্লা ডিপোর দুটি ট্যাংকে পানি ঢোকা নিয়ে হইচইয়ের মধ্যেই ডিজেলের ঘাটতির বিষয়টি সামনে আসে।
জানা যায়, ৮ হাজার ৩৬৩ দশমিক ৯৭৩ টন ডিজেলের মধ্যে প্রায় ৩৪ হাজার লিটার ঘাটতি পড়ে। এর পরপরই নড়েচড়ে বসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অঙ্গপ্রতিষ্ঠান যমুনা অয়েল কোম্পানি।
কুমিল্লা ডিপো থেকে যমুনা অয়েল কর্তৃপক্ষের কাছে গত ৩০ জুলাই পাঠানো এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনটিতে সই করেন যমুনা অয়েলের কুমিল্লার ডিপো ইনচার্জ মো. উজায়ের আহাম্মেদ। সম্প্র্রতি বিষয়টি প্রকাশ হয়।
এ ঘাটতির বিষয়টি কীভাবে সমাধান করা হবে, সে ব্যাপারে যমুনা অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা।
দেশের ইতিহাসে অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সুরক্ষিত চট্টগ্রাম হতে ঢাকা পর্যন্ত পাইপলাইনে জ্বালানি তেল পরিবহন প্রকল্প (সিডিপিএল) ১৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। আগে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা অঞ্চলে তেল পরিবহনে দেড় শতাধিক কোস্টাল ট্যাংকারে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগত, এখন তা ১২ ঘণ্টায় নেমে এসেছে। বিরূপ আবহাওয়ায় নৌপথে তেল পরিবহনে ঝুঁকিও কমাবে এ প্রকল্প।
এদিকে কুমিল্লা ডিপোর দুটি ট্যাংকে পানি ঢোকার ঘটনায় প্রতিবেদন জমা দেয়ার সময় পার হয়েছে এক মাস আগেই। এরপরও কেন এ প্রতিবেদন দেয়া হচ্ছে না সে বিষয়ে কেউ মুখ খুলছে না।
যমুনা অয়েলের অভ্যন্তরীণ একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গায় অবস্থিত যমুনা অয়েলের প্রধান ডিপো থেকে পাইপলাইনে পাঠানো জ্বালানি তেলের প্রথম পার্সেলেই ৩৩ হাজার ৯৫৪ লিটার ঘাটতির বিষয়টি ধরা পড়ে। গত ২৪ জুন ওই ডিপোর ৪ নম্বর ট্যাংক থেকে কুমিল্লার ১০৫ ও ১০৬ নম্বর ট্যাংকে এবং ফতুল্লার ২২ নম্বর ট্যাংকে ডিজেল পাম্পিং করে পাঠানো হয়। এদিকে কুমিল্লার ডিপোর দুটি ট্যাংকে পানি ঢুকে পড়ে ৪৫ হাজার লিটার।
যমুনা অয়েলের প্রধান কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইনের কুমিল্লা ডিপোতে পানি ঢুকে পড়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, হয়তো পাম্পিংয়ের সময় পানি থাকতে পারে, সে পানি কুমিল্লার দুটি ট্যাংকে পাওয়া গেছে। ওই দুটি ট্যাংকে ৩৩ হাজার ৯৫৪ লিটার তেল ঘাটতি পানি ঢোকার কারণেই হতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।
যমুনা অয়েলে কুমিল্লার ডিপো ইনচার্জ মো. উজায়ের আহাম্মেদ সিডিপিএলের কুমিল্লার ডিপোর ১০৫ ও ১০৬ নম্বর ট্যাংকে পানি ঢোকার কথা স্বীকার করেন।
পরিবেশবান্ধব, ঝুঁকিমুক্ত, পরিবহন ব্যয় ও সময়সাশ্রয়ী ১৬ ইঞ্চি ব্যাসের ২৪২ কিলোমিটার পাইপলাইনে চট্টগ্রাম থেকে প্রতি ঘণ্টায় ২৬০-২৮০ টন ডিজেল যাওয়ার কথা নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপোতে। গত ২২ জুন সন্ধ্যা থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বাণিজ্যিক এ কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, বছরে ৫০ লাখ টন জ্বালানি তেল সরবরাহের সক্ষমতাসহ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত, সিস্টেম লস কমানো, নৌপথে তেল পরিবহনের বিপুল খরচ সাশ্রয়, পরিবেশ সুরক্ষা, ঝুঁকিমুক্তভাবে দ্রুততম সময়ে তেল পরিবহনের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত ২৫০ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়। প্রায় তিন হাজার ৭০০ কোটি টাকায় বাস্তবায়ন করা পাইপলাইন প্রকল্পে বছরে সাশ্রয় হবে ২২৬ কোটি টাকা।

Discussion about this post