অর্থ উপদেষ্টা মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের বলেছেন, দেশে চাঁদাবাজির কারণে পণ্যমূল্য বাড়ছে। এ চাঁদাবাজি থামানো তার (অর্থ) মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়। অন্তর্বর্তী সরকার কাউকে ধরে শাস্তি দেয়ার নীতিতেও নেই। রাজনৈতিক সরকার ছাড়া চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
চাঁদাবাজির উদাহরণ দিতে গিয়ে অর্থ উপদেষ বলেন, ৫ আগস্টের পর নানা পক্ষ চাঁদাবাজিতে জড়িয়েছে। আগে যেখানে এক টাকা চাঁদা নেয়া হতো, এখন সেখানে নেয়া হয় দেড় থেকে দুই টাকা। আগে যারা ছিল, তারাও চাঁদাবাজির পেছনে আছে। যারা চাঁদাবাজি করে তারাই আবার ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্য।
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান থাকা সত্ত্বেও তা প্রয়োগ হচ্ছে না। আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা দরকার। সঙ্ঘবদ্ধ চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে শাস্তি আরও কঠোর করা যেতে পারে। চাঁদাবাজ ও তাদের পৃষ্ঠপোষক উভয়ের জন্য কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা। অন্তর্বর্তী সরকার চাইলেও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে পারে না। কেননা, তাদের দলগুলোর সমর্থন পাবে না। নিজদলের চাঁদাবাজদের কমবেশি সব দলই প্রশ্রয় দেয়। নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ চাঁদাবাজি।
কোথায় নেই চাঁদাবাজি! নিত্যপণ্যের বাজারে চাঁদাবাজির খবর সবার জানা। উৎপাদনস্থল থেকে শুরু করে বাজারে পৌঁছানো পর্যন্ত পথে দফায় দফায় চাঁদা দিতে হয়। এমনকি চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য পাইকারি ও খুচরা বাজারেও। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে চাঁদাবাজির উৎপাত কিছুটা কমলেও তা চালুর ক্ষেত্র তৈরিতে সুযোগ সন্ধানীদের বিরাম নেই।
আগে যেমন পুলিশের নামে, মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নামে সড়কে চাঁদা নেয়া হতো, এখন তা আবার শুরুর লক্ষণ দেখা দিয়েছে। ফলে চাঁদাবাজির কারণে পণ্যের খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পরিবহন খাতে ট্রান্সপোর্ট সেক্টরের চাঁদাবাজির বিষয়টি ভয়াবহ, এটি শুধু একটি স্থানে চাঁদা দিলেই হয় না, বিভিন্ন জায়গায় দিতে হয়।
কাউকে দীর্ঘমেয়াদে চাঁদাবাজি করতে হলে তাকে কোনো একটি রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থাকতে হয়। তাহলে কেউ তাকে ঘাঁটানোর সাহস রাখে না। চাঁদাবাজি বৈধ পেশা নয়। তাই তার পেছনে কেউ থাকতে হয়। যে কোনো বা সব চাঁদাবাজকে জিজ্ঞেস করলে জানা যাব, সে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা বড় দলের লোক। সংশ্লিষ্ট ওই দলের নেতাই এ অবৈধ চাঁদার টাকাটা পান; আর যারা চাঁদা তোলে, তারা মূলত দৈনিক বা মাসিক ভিত্তিতে নিয়োজিত শ্রমিক।
চাঁদাবাজি বন্ধে কী করা উচিত। বর্তমান সরকারের যেহেতু কোনো দল নেই, জনগণই তাদের শক্তি। সরকার ও বড় রাজনৈতিক দলগুলো একটা ঐকমত্যে আসতে পারে যে, তারা কোনো চাঁদাবাজিকে প্রশ্রয় দেবেন না। এখানেও সংস্কার দরকার। এ সংস্কারের সুফল পাবে দেশের আপামর জনসাধারণ।
প্রিন্ট করুন






Discussion about this post