তথ্যপ্রযুক্তি খাতে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন স্কিমের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিনিয়োগ সংগ্রহ করার প্রবণতা বাড়ছে। অনুসন্ধানে এ খাতের গোটা বিশেক প্রতিষ্ঠানের অননুমোদিত আর্থিক লেনদেন পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। দ্রুত এসব প্রতিষ্ঠানকে কাঠামোর মধ্যে না আনলে অতীতে ই-কমার্স খাতের প্রতারণার মতো আবারও দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হতে পারে গ্রাহকদের। এ ধরনের অননুমোদিত ‘বিজনেস মডেল’ নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে শেয়ার বিজ। আজ প্রকাশিত হলো দ্বিতীয় পর্ব
মনিরুল হক : ছাগল পালন বা মৎস্য খামারসহ বিভিন্ন ধরনের কৃষি প্রকল্পের (স্কিম) শেয়ার কেনা বা বিনিয়োগের কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করছে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান। ছয় মাস থেকে তিন বছর মেয়াদে এই অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ব্যাংকের মতো করে দেয়া হচ্ছে সুদ। সেই সুদের হার আবার ব্যাংকের থেকে অনেক বেশি।
কৃষকের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলে, কৃষি খাতের উন্নয়নকে সামনে রেখে দেশের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এভাবেই অর্থ সংগ্রহ করছে আইটি খাতের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, সংগৃহীত টাকা দিয়ে তারা কৃষি-অকৃষি প্রকল্পে বিনিয়োগ করে। সেই বিনিয়োগ থেকে পাওয়া মুনাফা শেয়ার করে অর্থ প্রদানকারীর সঙ্গে। ঠিক যেমনটা করে থাকে ব্যাংক।
তবে এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মতো কাজ করার কোনো অনুমোদন নেই। কেবল ট্রেড লাইসেন্স দিয়েই চলছে কারবার।
প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগকারীদের অর্থ সুরক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে নিজেরাই দায়বদ্ধ বলে চালিয়ে দিচ্ছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের লাগাম টানতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কার্যত কোনো তদারকি দেখা যাচ্ছে না।
মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত উচ্চ মুনাফার মন ভোলানো বিজ্ঞাপন দিয়ে তারা গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে। ফলে অনেকেই এ ধরনের প্রকল্পে বিনিয়োগ করছেন। এতেই অল্প সময়ে ফুলেফেঁপে উঠছে প্রতিষ্ঠানগুলো।
উচ্চ মুনাফার আশায় নিজের সঞ্চিত অর্থ এসব অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দিচ্ছে অনেকেই।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশে যখন ব্যাংকিং চ্যানেলে সুদের হার কম, তখন সাধারণ মানুষ অপেক্ষাকৃত বেশি মুনাফার আশায় এসব ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অর্থলগ্নি করে। তারা ভুলে যায় অনুমোদনহীন এ প্রতিষ্ঠানগুলোয় প্রতারণার ঘটনা ঘটলে তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া খুবই কঠিন। সামান্য সংকটে পড়লেই এসব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। অতীতে যুবক, ডেসটিনি, ইউনিপেটুইউসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের এমন কর্মকাণ্ডে অনেক গ্রাহক কষ্টার্জিত অর্থ খুইয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে কৃষিভিত্তিক ও অকৃষি প্রকল্প যেমন রিসোর্ট বা গার্মেন্ট ব্যবসাসহ বিভিন্ন ব্যবসার শেয়ার বিক্রি বা বিনিয়োগের কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলতে দেখা যায় আইফার্মার, এগ্রিভেঞ্চার, সুখের খামার, অ্যাগ্রোনোচেইন, মানভিক গ্রুপসহ কিছু প্রতিষ্ঠানকে।
আইফার্মার: আইফার্মার কৃষি-অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিনিয়োগ নিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবিÑতারা কৃষকদের আর্থিক পরামর্শ, আবহাওয়া আপডেট, আধুনিক প্রযুক্তি, শস্য উৎপাদন বৃদ্ধি সম্পর্কিত পরামর্শ এবং অর্থে সহজ প্রবেশাধিকার প্রদানের লক্ষ্যে কাজ করে। বিটুবি সাপ্লাই চেইনের মতো করে কাজ করে। বিনিয়োগকারী ও কৃষকের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি অনেক কৃষকের দারিদ্র্য দূর করার কথা বলে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ২০১৮ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজারের অধিক কৃষক নিবন্ধিত হয়েছে এবং প্রায় ৪০ কোটি টাকার বেশি খামারকে অর্থায়ন দিতে সক্ষম হয়েছে।
আইফার্মারের পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হয় অ্যাপের মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠানটিতে বিভিন্ন মেয়াদে বিভিন্ন প্রজেক্টে বিনিয়োগ নিয়ে থাকে। বর্তমানে তাদের যেসব প্রজেক্ট চালু আছে এগুলোয় শেয়ারপ্রতি সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়। প্রজেক্টগুলোর মেয়াদ ৪ মাস থেকে শুরু করে ৩৬ মাস পর্যন্ত। বিনিয়োগ এবং মেয়াদের ওপর নির্ভর করে ৬ শতাংশ থেকে শুরু করে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা দেয়া হয় বলে দাবি করে প্রতিষ্ঠানটি। অর্থাৎ অনেকটা ব্যাংকের মতো বিনিয়োগ নিয়ে থাকে আইফার্মার।
আইফার্মার অফিসের ঠিকানা: এনই(বি) ৩বি, রোড ৭৪, গুলশান-২, ঢাকা ১২১২ এবং সিঙ্গাপুর অফিসের ঠিকানা: ৩ ফ্রেজার স্ট্রিট #০৫-২৪, ডুও টাওয়ার, ৩ টেমাসেক অ্যাভিনিউ, সেন্টেনিয়াল টাওয়ার, #১৭-০১, সিঙ্গাপুর ০৩৯১৯০। আইফার্মারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও ফাহাদ ইফাজ। সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং সিওও জামিল এম আকবর।
এগ্রিভেঞ্চার: প্রতিষ্ঠানটির সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এখানে স্বল্পমেয়াদি, দীর্ঘমেয়াদি এবং মাসিক প্রজেক্ট রয়েছে। এ প্রজেক্টে ইনভেস্ট করতে হলে ওয়েবসাইট থেকে প্রকল্প বাছাই করে ব্যাংকে টাকা ট্রান্সফার করলে অর্ডার ইনভয়েসের মাধ্যমে ওনারশিপ সার্টিফিকেট পাওয়া যাবে। প্রকল্প শেষে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করা হয়। বার্ষিক ৩০ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পাওয়া যায়।
এ ধরনের ব্যবসার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি আছে কি নাÑজানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, এটা রেজিস্টার্ড কোম্পনি। এটাই যথেষ্ট। তারা যে প্রক্রিয়ায় টাকা তোলে, তার জন্য কোনো নীতিমালা নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটা নীতিমালা তৈরি হচ্ছে। ওটা যখন হয়ে যাবে তখন তারা লাইনআপ করবে এটার সঙ্গে।
অফিসিয়াল কোনো অনুমোদন না থাকলেও তারা বড় অঙ্কের বিনিয়োগ পেলে তা ট্রেডিং প্রজেক্টের আওতায় নিয়ে নেয়।
এগ্রিভেঞ্চারের ঠিকানা: লেভেল-৫, ৬০, তেজগাঁও ট্রিবিউট, কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, ঢাকা ১২১৫। প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও: রাব্বি রিদোয়ান এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান: আমিরুল মোস্তফা আরেফিন।
মানভিক গ্রুপ: প্রতিষ্ঠানটিতে যোগাযোগ করে জানা যায়, মানভিক গ্রুপের মূলত গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি বিজনেস। এর পাশাপাশি ফার্নিচার ইন্টেরিয়র, এগ্রো রিসোর্টেরও বিজনেস আছে। গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি বিজনেস পারপাসে ইনভেস্টমেন্ট নেয়া হয়। এক বছরের একটা কন্ট্রাক্ট সাইনিং হবে। এক বছরে প্রতি মাসে প্রফিট শেয়ার করা হবে। অর্থাৎ ১২ মাসে ১২টা প্রফিট শেয়ার করা হবে। এক বছর পরে চাইলে ইনভেস্টমেন্টের অ্যামাউন্ট উইথড্র করা যাবে অথবা নতুন করে আবার রিনিউ করা যাবে। প্রফিট ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অথবা বিকাশের মাধ্যমে নেয়া যাবে। গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে ইনভেস্টমেন্টের একটা ডিড ডকুমেন্টস দেয়া হবে সিকিউরিটি পারপাসে। এর পাশাপাশি কোম্পানির একটা ব্যাংক চেক দেয়া হবে। যে পরিমাণ টাকা ইনভেস্ট করা হবে, ওই পরিমাণ টাকার একটা ব্যাংক চেক দেয়া হবে। কোম্পানির ট্রেড লাইসেন্স, টিন, বিন, এনআইডির কপি ও সিকিউরিটি পারপাসে দেয়া হবে। তাদের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির বয়স সাড়ে পাঁচ বছর মতো হচ্ছে। মোটামুটি ইনভেস্টর হিসেবে মানভিক গ্রুপের সঙ্গে যারা কাজ করছে তাদের অনেকেই প্রায় আড়াই বছর, তিন বছর, সাড়ে তিন বছর ধরে আছে।
প্রতিষ্ঠানটির গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি রাজধানীর খিলগাঁওয়ে। দক্ষিণ বনশ্রীতে তাদের ফার্নিচারের একটা শোরুম, ইন্টেরিয়রের অফিস আছে এবং নন্দীপাড়ায় ফার্নিচারের আরেকটা শোরুম, দুটো ফ্যাক্টরি আছে। এছাড়া কক্সবাজারের চকরিয়ায় তাদের এগ্রো রিসোর্টের ব্যবসা রয়েছে।
মানভিক গ্রুপের ঠিকানা: রাজধানীর খিলগাওয়ের ১৮৩/৩, পূর্ব গোড়ান, রোড-৮। স্বত্বাধিকারীর নাম ইফতেখার উদ্দিন।
সুখের খামার: সুখের খামার কিছুটা জমি কিনে পাঁচতারকা হোটেল নির্মাণ ও এর শেয়ার ধারণের মতো করে কাজ করে। তাদের অ্যাগ্রো ভিলেজ প্রজেক্টে ৩০ বিঘা জায়গার ওপর বিভিন্ন ধরনের কৃষি খামার করার কথা রয়েছে।
তাদের দাবি প্রত্যেক শেয়ারহোল্ডার এই প্রজেক্টের মালিক হবেন। বিনিয়োগ করার ৩-৪ বছর পর শেয়ারের মূল্য ২-৩ গুণ বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে সুখের খামারের প্রতিটি শেয়ার মূল্য ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।
সুখের খামারের ঠিকানা বগুড়ার কাহালু উপজেলার বাগোইল নামক স্থান। প্রতিষ্ঠাতা জোবায়ের ইসলাম এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা: তাসদীখ হাবীব।
অ্যাগ্রোনোচেন: এই প্রতিষ্ঠানটিও বিভিন্ন কৃষি প্রজেক্টে বিনিয়োগ নিয়ে থাকে। অ্যাগ্রোনোচেনের ঠিকানা: লেভেল ১, হাউস ১৫৮২, রোড ৪৪, ব্লক এল, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও: ইমতিয়াজ ফারহান বিন হাবিব এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিটিও: খান মুহাম্মদ নাফিউল আকবর।
এক্সিকিউটিভ এগ্রো লিমিটেড: প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রকল্পের শেয়ার মূল্য নির্ধারণ করেছে ৬ লাখ টাকা। শেয়ারপ্রতি আজীবন মাসিক ভিত্তিতে ন্যূনতম ৪ হাজার টাকা মুনাফা তো দেয়ার দাবি করছে প্রতিষ্ঠানটি।
মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলায় কালীগঙ্গা নদীর পাশে ৩৪ বিঘা অর্থাৎ ১০০০ শতক জমির ওপর এগ্রো প্রজেক্ট শুরু করার কথা বলে বিনিয়োগ নেয়া হচ্ছে। খামার এরিয়ায় থাকবেÑগরুর খামার, ছাগলের খামার, ভেড়ার খামার, দেশি মুরগির খামার, দেশি হাঁসের খামার, মাছের খামার, শাকসবজির ক্ষেত, ফল ও ফুলের বাগান এবং শস্য ক্ষেত। এরকম চটকদার স্কিমের কথা বলে মানুষের কাছ থেকে বিনিয়োগ নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
আইটি খাতে এমন অননুমোদিত লেনদেনে জড়িয়ে পড়েছে আরও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান। শেয়ার বিজ-এর অনুসন্ধানে এমন অন্তত ২০টি প্রতিষ্ঠান খুঁজে পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কোনো প্রতিষ্ঠান কৃষিভিত্তিক প্রকল্পের শেয়ার বিক্রি করে বিনিয়োগ তুলছে, কোনো প্রতিষ্ঠান ই-কমার্সের আড়ালে এমএলএম বা ট্রেডিং করছে, কোনো প্রতিষ্ঠান ভেঞ্চার ক্যাপিটালের মতো করে ক্রাউড ফান্ডিং করছে।
অথচ দেশের প্রচলিত আইনে এ ধরনের বিনিয়োগ তুলতে বেশ কিছু অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থার অনুমোদন ছাড়াই সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিনিয়োগ সংগ্রহ করা যায় না। কারণ এই প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে গেলে বা প্রতারণা করলে গ্রাহকের টাকা ফেরতের উপায় থাকে না।
এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের প্রধান দায়িত্ব বর্তায় বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ভোক্তা অধিদপ্তর, প্রতিযোগিতা কমিশন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ওপর। ফলে তাদের কঠোর নজরদারি দরকার।
আইটি খাতের এতগুলো প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর প্রকাশ্যে বিনিয়োগ নেয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বার্তা যাচ্ছে যে, হয়তো এই কার্যক্রমগুলো বৈধ।
সার্বিক বিষয়ে শেয়ার বিজ কথা বলে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সার্বিকভাবে আমরা এ ব্যবসাগুলোকে অনলাইন ব্যবসা বলে থাকি। এখানে অর্ডার করার পর পণ্য ডেলিভারির আগে যাতে প্রতিষ্ঠান টাকা তুলে নিতে না পারে সে জন্য সারাবিশ্বে সেন্ট্রাল লজিস্টিক ট্রাকিং প্ল্যাটফর্ম (সিএলটিপি) ব্যবহার করা হয়। আমরা এখানেও সিএলটিপি চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। এটা পাইলটিং চলছে। এতে যেটা দেখা গেছে, সম্প্রতি অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সিগুলোয় কিছু জালিয়াতি হয়েছে। তাদের কেস নিয়ে আমরা কাজ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের জালিয়াতি রোধে সিএলটিপির পরিপূর্ণ ব্যবহারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে যুক্ত করতে হবে। এটা হলে অনলাইনে সম্পদ কেন্দ্রীভূত করে তা মেরে দেয়ার সুযোগটা থাকবে না।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আমাদের নজরে এসেছে, আমরা তো বিজ্ঞপ্তি আকারে মানুষকে সতর্ক করেছি, যে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনের ফাঁদে কেউ পা দেবেন না।’
প্রিন্ট করুন










Discussion about this post