দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঞ্চয়মুখী করে হিসাব নম্বরের আওতায় নিয়ে আসার প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ ব্যাংক গুরুত্ব দিয়েছে। এসব শিক্ষার্থী সঞ্চয় মনোভাবাপন্ন হলে দেশের অর্থনীতিতে ভিন্ন একটা গতি আসবে। দিনে দিনে ব্যাংকে সঞ্চয় বৃদ্ধি পাবে।
দৈনিক শেয়ার বিজে প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়েছে, দেশের সাড়ে ২৬ হাজার প্রতিষ্ঠান স্কুল ব্যাংকিংয়ের আওতায় রয়েছে। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অ্যাকাউন্ট রয়েছে ৪৮ লাখের বেশি। জমার পরিমাণ ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। সারাদেশে অবশ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ৪ লাখের বেশি।
সঞ্চয়ের গতিধারায় এই দৃষ্টিভঙ্গি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। মাত্র ২৬ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সঞ্চয় করেছে ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। যদি ৪ লাখ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সঞ্চয় করে এই খাত থেকে সঞ্চয় দাঁড়াবে প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা।
আর্থিক শিক্ষা সম্প্রসারণের মাধ্যমে টেকসই আর্থিক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে চলতি বছর থেকে প্রতিটি ব্যাংক শাখাকে অন্তত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে স্কুল ব্যাংকিংয়ের আওতায় আনার নির্দেশনা রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের। ব্যাংকগুলো যদি এই লক্ষ্য পূরণ করতে পারে, তাহলে ব্যাংকিং খাতে আলাদা একটি তারল্যের ধারা সৃষ্টি হবে।
ছাত্রছাত্রীরা মা-বাবার কাছ থেকে অনেক টাকা বিভিন্ন খরচ দেখিয়ে নিয়ে থাকে, বিশেষ করে দুপুরের লাঞ্চ বা টিফিনের জন্য, বন্ধু-বান্ধবীদের খরচের জন্য অভিভাবকরা যে অর্থ দেন তা অনেক সময় খরচ হয় না। সঞ্চয়মুখী ছেলেমেয়েরা এই অর্থেরই একটি অংশ ব্যাংকে সঞ্চয় করে। ছেলেমেয়েদের মধ্যে সঞ্চয়ের প্রবণতা তৈরি হলে অভিভাবকদের কাছ থেকে পাওয়া অর্থের একটি বড় অংশ মনের টানেই ব্যাংকের হিসাব নম্বরে চলে যায়। তাদের ভেতরে সঞ্চয়ের ইচ্ছাশক্তি জাগলে এই ধারা শক্তিশালী হয়। যার ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে তৈরি হয় সঞ্চয়ের ভিত। আর এর সঙ্গে ব্যাংকগুলোয় তারল্যের স্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়।
এই ধারাকে আরও শক্তিশালী করতে মা-বাবাকেও সন্তানদের প্রেরণা দিতে সক্রিয় থাকা উচিত। মা-বাবার উৎসাহ সন্তানদের সঞ্চয়ে আরও উদ্বুদ্ধ করতে পারে।
স্কুল ব্যাংকি অর্থচিন্তার জগতে নতুন মাত্রা। এই চিন্তার সফল বাস্তবায়ন হলে ব্যাংক খাতের অর্থপ্রবাহে আরেকটা অর্থ চলাচলের পথ তৈরি হবে। যে পথটা একেবারেই অবরুদ্ধ ছিল।
আজকের সঞ্চয় আগামী দিনের শক্ত ভিত। সঞ্চয়মুখী মানুষ সব সময় সমৃদ্ধ থাকে জীবনের পরবর্তী সময়গুলোয়। আজকে যে ছেলেমেয়েদের মানসিকতা সঞ্চয়মুখী হিসেবে প্রস্তুত হবে, অর্জিত অর্থে সে আগামী দিনে তৈরি করবে সমৃদ্ধির সোপান।
আমরা মনে করি, এখন থেকে প্রতিটি ছেলেমেয়ের চিন্তাকে সঞ্চয়মুখী করে গড়ে তোলা দরকার। তাদের চিন্তাকে উন্নয়ন করা দরকার; যেন তাদের ব্যাংকের হিসাব নম্বরের সঙ্গে একটা সংযোগ তৈরি হয়। মা-বাবা কিংবা নানা-দাদার কাছ থেকে হোক, আর শিক্ষা বৃত্তির উৎস থেকে পাওয়া অর্থই হোক—এই অর্থের কিছু অংশ যেন হিসাব নম্বরের দিকে ধাবিত হয় আগামী দিনের প্রত্যাশায়।
প্রিন্ট করুন









Discussion about this post