নিজস্ব প্রতিবেদক : ডিজিটাল পেমেন্ট ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে নিরাপদ ইকোসিস্টেম গড়ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এমনটাই বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান। গতকাল বৃহস্পতিবার পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) আয়োজিত ‘টুওয়ার্ডস এ ক্যাশলেস ইকোনমি: বাংলাদেশের জন্য একটি কৌশলগত রোডম্যাপ’ শীর্ষক স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান আরও বলেন, ‘ডিজিটাল পেমেন্ট, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং নিরাপদ পেমেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংক সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। নগদবিহীন অর্থনীতিতে উত্তরণ সফল করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এ জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। যাতে এই রূপান্তর সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়।’
এ সময় পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তার বলেন, মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির তিনটি মূল নির্ধারক হলো শ্রমশক্তির প্রবৃদ্ধি, পুঁজি বিনিয়োগ এবং উৎপাদনশীলতা। নগদবিহীন অর্থনীতি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়ক। এর মাধ্যমে সৃষ্ট মূল্য যথাযথভাবে জাতীয় উৎপাদনে প্রতিফলিত হওয়ার ব্যবস্থা থাকা জরুরি। যদিও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে জাতিসংঘের সিস্টেম অব ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টস (এসএনএ) ২০২৫ গ্রহণ করতে হবে। যা বাস্তবায়নে অন্তত তিন বছর সময় লাগবে।
তিনি সভাপতির বক্তব্যে বলেন, মানব সভ্যতার লেনদেন ব্যবস্থা এক অর্থে পূর্ণ চক্র সম্পন্ন করেছে। পণ্য বিনিময় থেকে নগদ অর্থ এবং এখন আবার নগদবিহীন লেনদেন-এই বিবর্তন দেখায় যে আধুনিক অর্থনীতিতে নগদ ক্রমেই ঝামেলাপূর্ণ হয়ে উঠছে। এর থেকে বের হতে হবে।
পিআরআইয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বলেন, বাংলাদেশকে ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে এগিয়ে নিতে একটি বাস্তবসম্মত কৌশলগত রোডম্যাপ প্রণয়নের লক্ষ্যে কাজ শুরু করা দরকার। আমরা এই প্রথম পরামর্শক সভা আয়োজন করেছি। যেখানে চীন ও ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া হবে।
কর্মশালার আরও উপস্থিত ছিলেন পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. খুরশিদ আলম, পিআরআইয়ের গবেষণা পরিচালক ড. বজলুল এইচ. খন্দকার প্রমুখ।
এর আগে গতবছরের নভেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছিলেন, ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আন্তঃলেনদেন ব্যবস্থা চালু করা হবে। এ ব্যবস্থায় ক্যাশ-আউট করার প্রয়োজন হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেছিলেন।
ওই সময় গভর্নর জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে চুক্তিটি ভার্চুয়ালি সম্পন্ন হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী মোজালুপভিত্তিক নতুন প্ল্যাটফর্মটির নাম হবে ইনক্লুসিভ ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেম (আইআইপিএস)।
আহসান এইচ মানসুর তখন বলেছিলেন, আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটালাইজেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং আন্তঃলেনদেন ব্যবস্থা সেই লক্ষ্য অর্জনে অপরিহার্য। ভবিষ্যতে এই ব্যবস্থায় যাওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এটি স্বচ্ছতা বাড়াবে, দুর্নীতি কমাবে এবং রাজস্ব আদায় বাড়াবে।
প্রিন্ট করুন






Discussion about this post